নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: খাতায় কলমে উপস্থিত থাকলেও নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে দেখা মেলে না সাফাই কর্মীদের। তাই নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে শহরবাসীর। দেখা যায়, ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় আর্বজনা দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে রয়েছে। কর্মীদের ‘ফাঁকিবাজ’ আটকাতেই এবার বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করতে চলেছে কৃষ্ণনগর পুরসভা। নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই এই ব্যবস্থা চালু হবে। চোখের রেটিনার মাধ্যমে সাফাই কর্মীদের উপস্থিতি নেওয়া হবে। যদিও সেই উপস্থিতি সাফাই কর্মীদের দিতে হবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে গিয়ে। এর ফলে কৃষ্ণনগর শহরে সাফাই অভিযান নিয়মিত হবে বলে মনে করছে পুর কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিকভাবে সাফাই কর্মীদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। তবে আগামী দিনে পুরসভার বাকি বিভাগেও এই নয়া ব্যবস্থা চালু হবে বলে জানা গিয়েছে। কৃষ্ণনগর পুরসভার চেয়ারম্যান রীতা দাস বলেন, নতুন অর্থ বছর থেকে বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে কর্মীদের উপস্থিতি নেওয়ার বিষয়টি চালু করা হচ্ছে। এর ফলে শহরের সাফাই অভিযান আরও ভালো হবে। প্রাথমিকভাবে সাফাই বিভাগে এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। অন্যান্য বিভাগেও এই ব্যবস্থা চালু হবে। পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, কৃষ্ণনগর শহরে প্রথমে বাড়ি ও ওয়ার্ড থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করে শহরের বিভিন্ন জায়গায় এনে জমা করা হয়। তারপর দিনের নির্দিষ্ট সময়ে এসে লরি করে সেই সমস্ত আবর্জনা নিয়ে যাওয়া হয়। ডাম্পিং গ্রাউন্ডে সেগুলি ফেলা হয়।
কৃষ্ণনগর পুরসভাতে মোট সাড়ে ৬০০ সাফাই কর্মী রয়েছেন। যার মধ্যে শহরের ২৫টি ওয়ার্ডে ৫০০ জন কর্মীকে সাফাইয়ের কাজের দায়িত্ব দেওয়া রয়েছে। বাকিরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় জমা করা আবর্জনা নিয়ে গিয়ে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ফেলেন। তবে এই কাজ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ ছিল শহরবাসীর। কারণ সাফাই কর্মীরা নিয়মিত আবর্জনা সংগ্রহ করতে এলাকায় আসতেন না বলে অভিযোগ। অথচ সেই সাফাই কর্মী সকালে গিয়ে পুরসভার খাতাতে উপস্থিতি দিয়ে এসেছেন। দিনে গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন সাফাই কর্মী অনুপস্থিত থাকতেন। এবার সেই ম্যানুয়াল উপস্থিতি ব্যবস্থা বন্ধ করে দিচ্ছে পুরসভা।
জানা গিয়েছে, মিশন ক্লিন কৃষ্ণনগর নামে এক মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সাফাই কর্মীদের উপস্থিতি নেওয়া হবে। তার জন্য সকাল সকাল পুরসভাতে আসতে হবে না কর্মীদের। তাঁরা সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ার্ডে পৌঁছে যাবেন। সেই অ্যাপেই প্রত্যেক সাফাই কর্মীদের নাম তোলা থাকবে। সেখানে গিয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে চোখের রেটিনা দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করবেন কর্মীরা। সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যেই প্রত্যেককে তা করতে হবে। দেরি হলেই অনুপস্থিতি করা দেওয়া হবে ওই কর্মীকে। আবার কাজ হয়ে যাওয়ার পর ফের ওই মোবাইল অ্যাপের ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হবে কর্মীকে। নাহলে ধরে নেওয়া হবে যে, ওই কর্মী ওয়ার্ডে এসে উপস্থিতি দিয়েই চলে গিয়েছেন, সাফাইয়ের কাজ করেননি। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, যাঁরা শুধুমাত্র গাড়িতে করে আর্বজনা সংগ্রহ করে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ফেলে আসেন, তাঁরা পুরসভাতে এসে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে উপস্থিতি দেবেন।