নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এক দিকে দূষণ রোধ। অন্যদিকে, উন্নতমানের জ্বালানি তৈরি। দু’টি বিষয় মাথায় রেখে এবার শুকনো পাতা থেকে তৈরি করা হবে বায়ো-ফুয়েল বা জৈব-জ্বালানি। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে তা ব্যবহার হতে পারে গৃহস্থের ঘরে, চুল্লি, বয়লার বা কারখানায়। এমনই উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। সেই লক্ষ্যে আপাতত রাজ্যের জঙ্গলমহলের দু’টি জায়গায় ইউনিট তৈরি করতে বনদপ্তরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পর্ষদ বনদপ্তরকে ১০ কোটি টাকা দিয়েছে। আগামী শীতে এই উদ্যোগ দিনের আলো দেখতে চলেছে। কীভাবে তৈরি হবে জৈব-জ্বালানি? শুকনো পাতা সংগ্রহ করে একটি মেশিনের সাহায্যে গুঁড়ো করা হয়। সেই গুঁড়োতে নির্দিষ্ট পরিমাণে জল মিশিয়ে ভেজানো হয়। ভেজা পাতার গুঁড়ো একটি বিশেষ যন্ত্রে (যেমন, পেলেট মিল) চাপ দিয়ে তৈরি করা হয় নির্দিষ্ট আকারে পেলেট। সেগুলি শুকিয়ে নেওয়া হয়, যাতে সহজে সংরক্ষণ করা যায়। পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র বলেন, দিল্লি, হরিয়ানা, পঞ্জাবের মতো আমাদের রাজ্যেও বিভিন্ন অঞ্চলে শীতকালে শুকনো পাতা, খড় পোড়ানো হয়। যার জেরে আশপাশের গাছ আগুন লেগে নষ্ট হয়ে যায়। পক্ষীকুলের ক্ষতি হয়। বায়ু দূষণও বাড়ে। গত কয়েক বছর ধরেই আমরা কৃত্রিম উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে চিহ্নিত করেছি, কোথায় কোথায় এটা হচ্ছে। সেই মতো আমরা স্থানীয় প্রশাসনকেও পদক্ষেপ করতে বলতাম। সেগুলি অনেকটা বন্ধও করা গিয়েছে। অনেকদিন ধরেই এই শুকনো পাতাকে সম্পদে রূপান্তরিত করার ভাবনা-চিন্তা চলছিল। ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ডুয়ার্সের মতো এলাকায় পাতা জ্বালানোর ঘটনা বেশি ঘটে। তাই আমরা বনদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জঙ্গলমহলের দুটি স্থানে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছি। ইউনিট বনদপ্তর তৈরি করবে। তাঁর কথায়, এক কেজি কাঠ পোড়ালে যে ধোঁয়া হয়, তার থেকে ৭০ শতাংশ কম ধোঁয়া তৈরি হবে। এবং কাঠের তুলনায় এই বায়ো-ফুয়েলের উত্তাপও বেশি হবে।



