সংবাদদাতা, লালবাগ: চলতি বছরে জানুয়ারি মাসে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা বর্তমান বিজেপি নেতা কানাই চন্দ্র মণ্ডল সাংবাদিক বৈঠক ডেকে ঘোষণা করেছিলেন বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বিনোদপুরের মেগা পরিশ্রুত পানীয় জল প্রকল্প চালু হবে। এই প্রকল্প চালু হলে নবগ্রাম ব্লকের ১৪টি অঞ্চল এবং মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লকের ২টি অর্থাৎ মোট ১৬টি অঞ্চলের ৭০ হাজারের বেশি পরিবার উপকৃত হবে। তারপর সাত মাস অতিক্রান্ত হলেও জল প্রকল্প চালু হয়নি। ফলে বাড়ি বাড়ি পৌঁছয়নি পানীয় জল। এই পরিস্থিতিতে শীঘ্রই জল প্রকল্প চালুর দাবিতে সরব হয়েছেন নবগ্রাম ব্লকের সর্বস্তরের মানুষ। নবগ্রামের বিজেপি বিধায়ক দিলীপ সাহা বলেন, সামান্য কাজ বাকি আছে। তবে পুজোর আগে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। আশা করি পুজো মিটতেই চালু করা সম্ভব হবে।
ভাগীরথী নদীর পশ্চিম পাড়ের নবগ্রাম ব্লক রাঢ় এলাকা হিসেবে পরিচিত। বীরভূম লাগোয়া এই এলাকায় গ্রীষ্মকাল এলেই পানীয় জলের গভীর সঙ্কট দেখা দেয় । এই সমস্যা দূর করতে তৎকালীন সরকার ১৯৮৩ সালে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। কিন্তু জমি জটিলতার কারণে প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে। কিন্তু রাজ্যে পালা বদলের পর নবগ্রামের তৎকালীন বিধায়ক কানাই চন্দ্র মণ্ডল ২০১৮ সালে ফের জল প্রকল্প গড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচেষ্টায় নবগ্রাম থানার কিরীটেশ্বরী গ্রাম পঞ্চায়েতের বিনোদপুর এলাকায় নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করে শুরু হয় পরিশ্রুত পানীয় জল প্রকল্পের কাজ। রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের জন্য ২৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে ।এর জন্য ডাহাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাগীরথী নদীর পাশে ফারহাবাগ এলাকায় ২ বিঘা জমি কেনা হয়। ওই এলাকার ভাগীরথী নদী থেকে জল তুলে পাইপের মাধ্যমে ওই জল নবগ্রাম বিধানসভা এলাকার বিনোদপুরে পৌঁছে যাবে কেননা কিরীটেশ্বরী গ্রাম পঞ্চায়েতের বিনোদপুর মৌজায় ২৪ বিঘা জমিতেই মুল প্রকল্পটি গড়ে উঠেছে । সেখানে ভাগীরথীর জল পরিশ্রুত হয়ে নবগ্রাম ব্লকের ১৪ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং মুর্শিদাবাদ - জিয়াগঞ্জ ব্লকের মুকুন্দবাগ ও ডাহাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রামে গ্রামে চলে যাবে। এই প্রকল্পে প্রায় ৭১ হাজার পরিবারের মধ্যে পরিশ্রুত জল পৌঁছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য ১৬ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মোট ২২ টি জলাধার তৈরি হয়েছে । মোট জলাধারের মধ্যে ১১ টি সরকারি খাস জমিতে গড়ে উঠেছে এবং বাকি ১১টির জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা জমি দান করেছেন। কিরীটেশ্বরীর বাসিন্দা বিজন মণ্ডল বলেন, পানীয় জল নবগ্রাম ব্লকের অন্যতম প্রধান সমস্যা। গ্রীষ্মের কয়েক মাস চরম জল সঙ্কট থাকে। প্রায় সারা বছর জল কিনে খেতে হয়। জল প্রকল্প চালু হলে দীর্ঘদিনের সমস্যা মিটবে এবং মানুষ উপকৃত হবেন। কংগ্রেসের নবগ্রাম ব্লক(পূর্ব) সভাপতি ধীরেন্দ্রনাথ যাদব বলেন, পুজোর পর জল প্রকল্প চালু না হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পথে নামব।