নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সালটা ২০০৭, তারপর প্রায় দু’দশক পার হতে চলেছে। যারমধ্যে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সমবায়ের সদস্যদের কয়েক কোটি টাকা ‘সাহারা’ চিটফান্ডে খেটেছে। সুদের মোটা টাকা আদায় করাই উদ্দেশ্য ছিল। সরকারের অনুমতি ছাড়াই কৃষ্ণনগরের কালীনগর কো-অপারেটিভ সোসাইটি সেই টাকা বিনিয়োগ করেছে বলে জানা গিয়েছে। দপ্তরের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টেই এই তথ্য উঠে এসেছে। যাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়েছে। সাহারার মতো চিটফান্ডকে ‘হাই রিস্ক জোন’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই রিপোর্টে।
সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে সদস্যদের ‘অন্ধকারে’ রেখেই এমনটা করা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। প্রায় ১৪ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের অভিযোগে এই সমবায়ের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্তমান ডিরেক্টর শিবনাথ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিস। বিষয়টি সামনে আসতেই শুক্রবার বিকেল থেকেই টাকা তোলার জন্য লাইন দেন সমবায়ের সদস্যরা। এদিন সমবায় সমিতিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে একটি বড় ব্যানার টাঙানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, সমবায় সমিতিতে ২০০৬ সালে ১৪শতাংশ সুদে সাড়ে তিন কোটি টাকা সাহারা চিটফান্ডে ইনভেস্ট করেছিল। ২০১৮সাল পর্যন্ত সাহারা থেকে এই সমিতি সুদ পেয়েছে। ২০২১-’২২ সাল পর্যন্ত সাহারা চিটফান্ড থেকে ৬ কোটি টাকা সুদ পেয়েছে এই কো-অপারেটিভ। পাশাপাশি গ্রাহকদের গচ্ছিত টাকা সুরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করা হয় সমবায় সমিতির সেই ব্যানারে। যদিও সেই টাকা কতদিন সুরক্ষিত থাকবে তা নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে।
কয়েক বছর আগে ওই সমবায়ে গ্রাহকদের গচ্ছিত টাকা তছরুপের অভিযোগ আনেন কৃষ্ণনগরের কোজাগরী মহিলা ঋণদান সমবায় সমিতির চেয়ারপার্সন নন্দিতা ঘোষ। সেইমতো দপ্তরের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়। ২০২৪ সালে সমবায় দপ্তরের তরফ থেকে একটি তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করা হয়। তাতে স্পষ্ট বলা হচ্ছে, সাহারা ইন্ডিয়ার বিভিন্ন প্রকল্পে সমবায় সমিতির টাকা ইনভেস্ট করার জন্য নদীয়া জেলার ডিআরসিএস বা এআরসিএসের তরফ থেকে কোনওরকম নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তদন্তের রিপোর্টে জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালের ১২ডিসেম্বর সমবায় সমিতিতে একটি সাব-কমিটি গঠন হয়েছিল। সেই কমিটিতে তৎকালীন চেয়ারম্যান, সম্পাদক, ট্রেজারার সহ চারজন ছিলেন। বেশি পরিমাণ সুদ আদায় করতে সাহারা ইন্ডিয়াতে টাকা বিনিয়োগ করা হবে বলে ওইদিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০১০সালের ২৬ডিসেম্বর পর্যন্ত দফায় দফায় সমিতির টাকা বিনিয়োগ করা হয়। সেইসময় কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে ছিলেন শিবনাথ চৌধুরী। দেখা গিয়েছে, ২০২২-’২৩ সালের অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, সমবায়ের ১৩কোটি ৪৬ লক্ষ ৩১হাজার টাকা বিনিয়োগ কবা হয়েছে। সমবায়ের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ ওঠে। উল্লেখ্য, ধৃত শিবনাথ চৌধুরীকে গত শুক্রবার কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রথমে তাঁকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে শনিবার এনআরএস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।