


রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: বছরের পর বছর ধরে রাজভবনে পড়ে রয়েছে বিধানসভায় পাস হওয়া একাধিক বিল। মেলেনি রাজ্যপালের সম্মতি। বিলগুলির ছাড়পত্র এলে তা বাস্তবায়ন করা যেত। জনমানসে তার প্রভাব পড়ত। রাজভবনে দীর্ঘদিন ধরে বিল আটকে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিধানসভার সচিবালয় থেকে সরকার পক্ষ। এই আবহে তৃণমূলের খোঁচা, বিজেপি এত ঠাকুর-দেবতা করে। কিন্তু বিধানসভায় রামকৃষ্ণের নামাঙ্কিত বিলটি পাস হওয়ার পরেও দীর্ঘদিন তা রাজভবনে পড়ে আছে!
আইন প্রণয়নের আগে রাজ্য সরকারের তরফে গোটা বিষয়টি বিল আকারে আনা হয়। বিষয়ভিত্তিক আলাদ আলাদা বিল হয়। বিধানসভার সচিবালয় সূত্রে খবর, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিধানসভায় পাস হওয়া এমন ১৮টি বিল পড়ে আছে রাজভবনে। এই বিলগুলি বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাস হলেও তা আর আলো দেখতে পায়নি। এই প্রেক্ষাপটেই একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, বিলগুলিতে সম্মতি দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজভবনের কোথাও সদিচ্ছার অভাব দেখা যাচ্ছে। তা না হলে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের নামাঙ্কিত বিলটিও দীর্ঘদিন পড়ে থাকে রাজভবনে! ওই বিলটির সম্মতি এখনও কেন দেওয়া গেল না? আর বিলটি তো শিক্ষার প্রসার সংক্রান্ত। সাধারণ জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
বিধানসভার সচিবালয় থেকে প্রাপ্ত খবর, ‘রামকৃষ্ণ পরমহংস বিশ্ববিদ্যালয় বিল ২০২৪’ বিধানসভায় পাস হয়েছিল ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর। ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর বিলটি বিধানসভা থেকে রাজভবনে পাঠানো হয়। তারপর থেকে এখনও তার সম্মতি রাজভবন থেকে আসেনি। এ প্রসঙ্গেই সুর চড়িয়েছেন রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ‘কেন্দ্রের সরকার বিজেপির। আর রাজভবনকে পরোক্ষভাবে পরিচালনাও করছে বিজেপি। ফলে বিজেপি নেতাদের কথামতো কাজ হচ্ছে। যেখানে বিজেপি নেতাদের মুখে জয় মা দুর্গা, জয় মা কালী শোনা যাচ্ছে, সেখানে রামকৃষ্ণ পরমহংসের নামাঙ্কিত বিলটিরই ছাড়পত্র মিলছে না। এটা আসলে বিজেপির রাজনৈতিক ভণ্ডামি। ওরা বাংলা বিরোধী। বাংলার মানুষের ভালো চায় না। তৃণমূল এর আগে অনেকবার অভিযোগ করেছে, রাজভবন বিজেপির পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছে।’
সূত্রের খবর, যে বিলগুলি আটকে আছে রাজভবনে, তার মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হল গণপিটুনি প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিলটি। ২০১৯ সালের ৩০ আগস্ট সেটি বিধানসভায় পাস হয়। তারপর থেকে সেটি রাজভবনে পড়ে রয়েছে। আবার, ২০১৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় পাস হয় জেশপ অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিল। সেটিও এখনও দিনের আলো দেখেনি। জেশপ নিয়ে আন্দোলনকারী তৃণমূল নেতা শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘জেশপ কর্মচারীদের স্বার্থে ওই বিলটির ছাড়পত্র দরকার ছিল। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে তা ঠাণ্ডাঘরে। রাজভবন থেকে দিল্লি পর্যন্ত একাধিকবার দরবার করেছি। কিন্তু কোনও ফল পাইনি। কোথাও মনে হচ্ছে, পলিটিক্যাল গেম।’