Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জোকা ইএসআইয়ের সামনে গাড়ির ধাক্কা, মৃত বাইকচালক

২৪ ঘণ্টার ব্যবধান! পরপর দু’টি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল ঠাকুরপুকুর-জোকা এলাকা। শনিবার শেষ রাতে জেমস লং সরণিতে লরির ধাক্কায় দুই ডাক্তারি পড়ুয়ার মৃত্যু হয়।

জোকা ইএসআইয়ের সামনে গাড়ির ধাক্কা, মৃত বাইকচালক
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২৪ ঘণ্টার ব্যবধান! পরপর দু’টি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল ঠাকুরপুকুর-জোকা এলাকা। শনিবার শেষ রাতে জেমস লং সরণিতে লরির ধাক্কায় দুই ডাক্তারি পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। আর সোমবার কাকভোরে জোকা ইএসআইয়ের সামনে এক পথদুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এক ব্যক্তির। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম অরূপ মণ্ডল (৪০)। তিনি মহেশতলার বাসিন্দা। এদিন ডায়মন্ডহারবার রোডে এক  বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় তাঁর। দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন অরূপবাবুর পরিবারেরই আর এক সদস্য। তিনি দেবাশিস স্বর্ণকার। তাঁরা দু’জনেই জোকা ইএসআই হাসপাতালে ভরতি থাকা এক আত্মীয়কে দেখতে যাচ্ছিলেন। তার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। 

Advertisement

সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন ভোর ৫টা নাগাদ ডায়মন্ডহারবার রোডের উপর দুর্ঘটনাটি ঘটে। তখনও রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন হয়নি। সিগন্যাল ও ট্রাফিক বিধির তোয়াক্কা না করে জোকা-চড়িয়াল খাল ক্রসিং থেকে ডায়মন্ড পার্কের দিকে যাচ্ছিল একটি প্রাইভেট গাড়ি। উলটোদিকের লেন দিয়ে বাইকে চেপে আসছিলেন অরূপ ও দেবাশিস। ইএসআই হাসপাতালে ঢোকার জন্য তাঁরা ডানদিকে ঘোরেন। হাসপাতালের গেটের সামনেই বেপরোয়া গতির প্রাইভেট কারটি বাইকে সরাসরি ধাক্কা মারে। ছিটকে পড়েন আরোহী ও চালক। দু’জনের মাথাতেই হেলমেট ছিল। কিন্তু সংঘর্ষ এত জোরালো ছিল যে অরূপবাবুর হেলমেট খুলে যায়। তাঁর মাথায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পিছনে বসে থাকা দেবাশিসবাবু রাস্তায় পড়ে কাতরাতে থাকেন। 
তখন হাসপাতালের বাইরে সবে দোকানের সামনে সাফসুতরো করছিলেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরাই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী।  তড়িঘড়ি তাঁরা ঠাকুরপুকুর থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে দু’জনকে উদ্ধার করে জোকা ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা অরূপবাবুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর সঙ্গীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর তড়িঘড়ি এনআরএস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। 
দুর্ঘটনার পর ঘাতক গাড়িটি চম্পট দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চালক সহ বেপরোয়া গাড়িটির খোঁজ মিলবে শীঘ্রই। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ,  হাসপাতালের অনতিদূরে ঠাকুরপুকুর ট্রাফিক গার্ডের একটি আউটপোস্ট রয়েছে। কিন্তু সকালের দিকে সেখানে কোনো পুলিশ থাকে না। কলকাতা ও জেলার সংযোগস্থল এই এলাকায় যানবাহনের সংখ্যা কলকাতার অন্যান্য অংশের তুলনায় কিছুটা কম। তাই ফাঁকা ফাঁকা ডায়মন্ডহারবার রোডে বেপরোয়া গতির ঝড় তুলছে গাড়িগুলি। হাসপাতালের সামনের সিগন্যালে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও আঁটসাঁট করা প্রয়োজন বলে দাবি তুলেছেন তাঁরা। সেই সঙ্গে ডায়মন্ডহারবার রোডের এই অংশে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে পুলিশের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়দের একাংশ।

সম্পর্কিত সংবাদ