সংবাদদাতা, কাঁথি: কাঁথির জুনপুটে মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র গড়ার প্রচেষ্টার প্রতিবাদে আন্দোলন অব্যাহত। রবিবার জুনপুট মিসাইল বিরোধী গণপ্রতিরোধ মঞ্চ সহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে বাইক র্যালি কাঁথি থেকে জুনপুট পর্যন্ত পরিক্রমা করল। মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বিরোধী স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে শতাধিক বাইক আরোহীর র্যালি কাঁথি শহরের কিশোরনগর এলাকা থেকে শুরু হয়ে জুনপুটে পৌঁছয়। জুনপুটে ডিআরডিও’র (ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন) তৈরি মিসাইলের লঞ্চিং প্যাডের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। জুনপুট এলাকায় একাধিক জায়গায় আয়োজিত পথসভায় বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। তাঁরা বক্তব্যে মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র গড়ে তোলার বিরোধিতা করেন এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব কী হতে পারে, সেই ব্যাখ্যা দেন। সেখানে এলাকার বাসিন্দা তথা মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির উদ্যোক্তাদের পক্ষে বিশ্বজিৎ রায় বলেন, জুনপুট একটি বিখ্যাত মৎস্যক্ষেত্র। এখানে সমুদ্র থেকে মাছ ধরে এবং শুকনো করে কয়েক হাজার মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে মৎস্যজীবীদের উচ্ছেদ হতে হবে। তাঁদের জীবন-জীবিকা বন্ধ হয়ে যাবে। অমিত মান্না বলেন, মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র যদি করতেই হয়, জনমানবশূন্য কোনও এলাকায় করা হোক। আর গ্রামবাসীদের উন্নয়নের কথা যদি ভাবতেই হয়, তাহলে মৎস্য সংরক্ষণ শিল্প, পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হোক। এখানে মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ শুরু হলে মৎস্যজীবীদের নিয়ে আমরা আন্দোলনে নামব। উল্লেখ্য, জুনপুটে ডিআরডিও মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। তারজন্য বছরখানেক আগেই লঞ্চিং প্যাড সহ নানা পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। তবে উৎক্ষেপণের জন্য পরিকাঠামো এখনও তৈরি হয়নি। মাস দুয়েক আগে সীমানা নির্ধারণের কাজ চলাকালীন গ্রামবাসীরা আপত্তি জানান। তখন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অবশ্য ডিআরডিও যে কোনও সময়ে মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র গড়ার তৎপরতা শুরু করতে পারে, এই আশঙ্কা রয়েছে এলাকাবাসীর। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আন্দোলন দানা বাঁধছে।