সংবাদদাতা, কাঁথি: সাইড দেওয়া নিয়ে বচসা। তার জেরে মাঝরাস্তায় সরকারি বাসে উঠে চালককে নামিয়ে বেধড়ক মারধর ও বাস ভাঙচুর করল বাইক চালকরা। রবিবার রাতে খেজুরি থানার হেঁড়িয়া এলাকায় দীঘা-নন্দীগ্রাম রুটের বাসে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, হামলাকারীরা নিজেদের পুলিসের লোক বলে দাবি করে। এঘটনায় দীঘা-নন্দকুমার ১১৬ বি জাতীয় সড়কে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হেঁড়িয়া ফাঁড়ির পুলিস পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জখম চালক উত্তম বাঙাল হেঁড়িয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস চারজন বাইকচালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তারা দক্ষিণ ২৪ পরগণার সোনারপুরের বাসিন্দা। হেঁড়িয়া ফাঁড়ির আইসি শেখ আসিফউদ্দিন বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সবকিছু খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।রবিবার রাতে বাসটি দীঘা থেকে নন্দীগ্রাম যাচ্ছিল। বাইক রাইডারদের একটি দল দীঘা বেড়ানো শেষে সোনারপুরে ফিরছিল। হেঁড়িয়ার আগে সাইড দেওয়া নিয়েই ওই দলের সঙ্গে বাসচালকের বচসা শুরু হয়। চলন্ত অবস্থায় উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সাইড না দেওয়ার অভিযোগ তোলে। ওই যুবকরা বাস থামানোর চেষ্টা করে। যদি কিছু ঘটে যায়, এই ভেবে চালক হেঁড়িয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে শেষ পর্যন্ত বাস থামান। অভিযোগ, এরপরই ওই যুবকরা রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। প্রথমে বাসের সামনের অংশের কাচ ভাঙচুর করে। তারপর মেরে চালকের মুখ ফাটিয়ে দেয়। তাঁকে হেলমেট দিয়ে মারার পাশাপাশি জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়। বাসে হামলার জেরে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিস তাড়াতাড়ি সেখানে পৌঁছয়। ক্ষুব্ধ বাসযাত্রীরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হয়ে যান। যাত্রীদের অভিযোগ, ওই যুবকরা নেশাগ্রস্ত ছিল। পুলিস তাদের আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। রাতেই বাসচালক থানায় অভিযোগ জানান।
Advertisement
উত্তমবাবু বলেন, কয়েকটি বাইক বারবার খুব জোরে ওভারটেক করে সামনের দিকে চলে আসছিল। পাশ কাটানোর জন্য আগে থেকে ইন্ডিকেটর দিলেও ওরা সাইড দিচ্ছিল না। পরে আমি বাস দাঁড় করানো সত্ত্বেও আমাকে নামিয়ে মারধর করেছে।ওই যুবকদের অভিযোগ, জাতীয় সড়কে পিছনে কিংবা সামনেও গাড়ি ছিল না। অথচ বাসচালক রাস্তা ছাড়তে চাইছিল না। এর ফলে একজন রাইডার বাইক সহ জাতীয় সড়কের ধারে পড়ে যান। তিনি কোনওরকমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। এঘটনার পরই তাঁরা বাসে চড়াও হয়েছেন।



