নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দুবাই থেকে বাংলাদেশ হয়ে এরাজ্যে আসা পাচারের সোনা পৌঁছে যাচ্ছে বিহারে। সেখানকার ভাগলপুর, বাঁকার মতো বিভিন্ন জেলায় সোনার দোকানে তা দিয়ে অলঙ্কার তৈরি করে বিক্রি হচ্ছে। মেমারি থানার পুলিশ বিহারের চারজন ক্যারিয়ারকে গ্রেপ্তার করে এমনই তথ্য পেয়েছে। তারা ভাগলপুর থেকে একটি বাসে উঠে কলকাতায় সোনা আনতে যাচ্ছিল। ধৃতরা জানিয়েছে, এর আগেও কলকাতা থেকে তারা সোনার বাঁট এনেছে। বাসে নগদ টাকা নিয়েই যাতায়াত করে। এর আগে তারা কয়েক কোটি টাকার সোনা কিনেছে। পুলিশ ধৃতদের কাছ থেকে কলকাতা এবং বিহারের আরও কয়েকজনের নাম জানতে পেরেছে। তাদের পাকড়াও করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের সোনা পাচারের বহু সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা চোরাই সোনা গলিয়ে গয়না তৈরি করে। বিহারগামী বাস এবং ট্রেনে তারা সোনা এবং নগদ টাকা নিয়ে যাতায়াত করে। অনেক সময় হাওয়ালার মাধ্যমেও তারা কারবার চালায়। বৃহস্পতিবার রাতে বিহারের ওই চার ক্যারিয়ার ভাগলপুর থেকে বাসে ওঠে। অন্যান্যবার তারা ‘সফল’ অপারেশন চালাতে পারলেও এবার ব্যর্থ হয়। এবার তারা বাসে ওঠার পরই পুলিশের কাছে খবর চলে আসে। সেইমতো তারা মেমারি থানার পালসিট টোলপ্লাজার কাছে ওঁত পেতে অপেক্ষায় থাকে। বিহার থেকে কলকাতাগামী বাসটি পালসিটে আসামাত্রই তল্লাশি চালানো হয়। দু’টি ব্যাগ থেকে ৭২ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। জেরা করার পর পুলিশ দু’জন চালক, একজন খালাসি এবং এক ক্যারিয়ারকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে শম্ভুনাথ বার্মা নামে একজন দাবি করে, তার সোনার দোকান রয়েছে। বৈধভাবে সোনা কিনতে সে কলকাতা যাচ্ছিল। তার কাছে আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী সোনা কেনার জন্য টাকা দিয়েছিল। যদিও সে বৈধ কোনও কাগজ দেখাতে পারেনি। বিহার থেকে নথি আনার জন্য তাদের যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও নথি দেখাতে না পারায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার সায়ক দাস বলেন, টাকা নিয়ে কোথায় যাচ্ছিল তা জানতে ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে সোনা আসার ঘটনা নতুন কিছু নয়। মাঝে পাচারকারীদের দাপট কিছুটা কমেছিল। এখন আবার সোনা পাচার বেড়ে গিয়েছে। ইটের সাইজের সোনাও আনা হচ্ছে। বেশিরভাগ সময় রাতে বিহারগামী বাসগুলিতে করে সেই সোনা পাচারকারীরা বিহারে নিয়ে যাচ্ছে। একশ্রেণির বাস চালক ও খালাসিদের সহযোগিতাতেই তারা অবৈধভাবে সোনা নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। সিন্ডিকেটের সদস্যরা সাধারণ যাত্রীর মতোই বাসে উঠে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছচ্ছে।