Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়া সন্ধ্যাবাজারে বিহারের গ্যাংস্টারকে খুন: গুজরাত থেকে গ্রেফতার শার্প শ্যুটার

দুর্গাপুজোর সময় হাওড়ার সন্ধ্যাবাজারে বিহারের গ্যাংস্টার সুরেশ যাদবকে খুনের ঘটনায় গুজরাত থেকে এক শার্প শ্যুটারকে গ্রেফতার করল হাওড়া সিটি পুলিশ।

হাওড়া সন্ধ্যাবাজারে বিহারের গ্যাংস্টারকে  খুন: গুজরাত থেকে গ্রেফতার শার্প শ্যুটার
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্গাপুজোর সময় হাওড়ার সন্ধ্যাবাজারে বিহারের গ্যাংস্টার সুরেশ যাদবকে খুনের ঘটনায় গুজরাত থেকে এক শার্প শ্যুটারকে গ্রেফতার করল হাওড়া সিটি পুলিশ। সুরেশের বিরোধী বলে পরিচিত গোপালগঞ্জের আরেক গ্যাংস্টার রঞ্জন যাদবের নির্দেশেই সে হাওড়ায় হাজির হয়েছিল সুরেশকে খুনের জন্য। তার সঙ্গে ছিল আরও কয়েজন শার্প শ্যুটার। ঘটনার পর বিহারে পালিয়ে গেলেও পুলিশের তাড়া খেয়ে গুজরাতে এক পরিচিতের কাছে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল সে। মোবাইল ফোন ও সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের সূত্র ধরে তাকে গ্রেফতার করে হাওড়ায় নিয়ে এসেছে পুলিশ। সোমবার তাকে আদালতে তোলা হয়। 

Advertisement

গত ৩০ সেপ্টেম্বর, মহাষ্টমীর রাতে হাওড়ার সন্ধ্যাবাজারে গুলিতে ঝাঁঝরা হয় গ্যাংস্টার সুরেশ। বনবিহারী বোস লেন দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালায় ভাড়াটে খুনিরা। সুরেশ আদতে বিহারের গোপালগঞ্জের বাসিন্দা। তদন্তে জানা যায়, গোপালগঞ্জের আরেক গ্যাংস্টার রঞ্জন যাদব এই খুনের নেপথ্যে। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে মোট সাতজন শার্প শ্যুটার ঘটনাস্থলে হাজির ছিল। ওই ছবি গোপালগঞ্জ জেলার পুলিশকে পাঠানো হলে কয়েকজনকে চিহ্নিত করে তারা। জানা যায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল শার্প শ্যুটার ধরমনাথ। হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অফিসাররা ধরমনাথের খোঁজে গোপালগঞ্জে যান। কিন্তু তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। ধরমনাথের মোবাইল নম্বর হাতে আসে তদন্তকারীদের। পাশাপাশি তার সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে নজর রাখা হয়। প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে জানা যায়, সে গুজরাতে রয়েছে। এরপর সেখানে পৌঁছে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয়। সোমবার তাকে হাওড়া আদালতে তোলা হলে সরকারি কৌঁসুলি তারাগতি ঘটক বলেন, অভিযুক্তকে জেরা করে বাকিদের ধরতে হবে। তাই তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া দরকার।
তদন্তে নেমে অফিসাররা জানতে পারেন, সুরেশকে খুনের পরিকল্পনা করে তার পাল্টা শিবিরের মাথা কুখ্যাত গ্যাংস্টার রঞ্জন। কাজ হাসিল করতে রঞ্জন ডেকে পাঠায় তার গ্যাংয়ের শার্প শ্যুটারদের। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রঞ্জন তার অনুগামীদের জানিয়ে দেয়, হিট লিস্টে সুরেশের নাম রয়েছে। তাকে খতম করতে হবে। বিহারে একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত সুরেশ যে হাওড়ায় রয়েছে, সে খবর জানত রঞ্জন। সেইমতো সে তার টিমকে হাজিপুরে আসতে বলে। ছ’-সাতজন শার্প শ্যুটার সেখানে পৌঁছলে রঞ্জন গাড়িতে তুলে তাদের নিয়ে আসে মহেশতলা এলাকার জিঞ্জিরা বাজারে। এই দলে ধরমনাথও ছিল। ২৯ সেপ্টেম্বর এখানে রঞ্জনের এক শাগরেদের ডেরায় তারা ছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর তারা আলাদা আলাদা দলে ভাগ হয়ে গঙ্গা পেরিয়ে রামকৃষ্ণপুর ঘাটে যায়। সেখান থেকে পৌঁছয় সন্ধ্যাবাজারে। এরপর বনবিহারী বোস লেনে সুরেশকে গুলি করে খুন করে ধরমনাথ ও তার সঙ্গীরা। 
জানা গিয়েছে, সুরেশকে খতম করার পর ওই রাতেই একটি গাড়ি ভাড়া করে তারা জিনজিরা বাজারে চলে আসে। ১ অক্টোবর তারা রঞ্জনের গাড়িতে চেপেই বিহারে পালিয়ে যায়। ধরমনাথ জেরায় জানিয়েছে, পুলিশ পিছু ধাওয়া করায় সে গুজরাতে তার এক পরিচিতের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং সেখানে পালিয়ে যায়। যে নম্বর থেকে সে ফোন করেছিল গুজরাতে, তার সূত্র ধরেই সেখানে গা-ঢাকা দেওয়ার খবর পান তদন্তকারীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ