সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পুরুলিয়া জেলার অধিকাংশ বিড়ি শ্রমিক। বড় কোম্পানির কিছু শ্রমিক প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুবিধা পেলেও জেলার অধিকাংশ জায়গাতে তাঁরা সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। এমনকী সরকার নির্ধারিত মজুরি থেকেও প্রাপ্ত মজুরির পরিমাণ অনেক কম হওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন বিড়ি শ্রমিকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া জেলাতে বিড়ি শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় লক্ষাধিক। সবচেয়ে বেশি বিড়ি শ্রমিক রয়েছেন জেলা ঝালদা ২ ব্লকে। শুধুমাত্র ওই ব্লকে শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। এছাড়াও ঝালদা ১ ব্লক, আড়শা, জয়পুর সহ জেলার একাধিক ব্লকে বিড়ি শ্রমিক রয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ। সিটু অনুমোদিত পুরুলিয়া জেলা ডিস্ট্রিক্ট বিড়ি কারিগর ইউনিয়নের সভাপতি ভীম কুমার বলেন, সরকার মজুরির পরিমাণ প্রতি হাজারের জন্য ২৬৮ টাকা ঘোষণা করেছে। কিন্তু ওই মজুরি বিড়ি শ্রমিকরা পাচ্ছেন কি না, তা কেউ ঘুরেও দেখেন না। তিনি আরও বলেন, মালিকপক্ষের সঙ্গে ইউনিয়নগুলির দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে ঠিক হয়েছিল যে, সমস্ত কোম্পানি পিএফ দেয় তারা ১৯৩ টাকা এবং অন্যান্যরা ২২০ টাকা মজুরি দেবে। কিন্তু বাস্তবে শ্রমিকদের মজুরি ১৭০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে। ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তিও অনেক মালিক মানছেন না। বিষয়টি নিয়ে লড়াই আন্দোলন চলছে। সবাইকে এই প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় নিয়ে আসার দাবি রয়েছে সংগঠনের।
এ বিষয়ে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সদস্য তথা তৃণমূল কংগ্রেসের বিড়ি শ্রমিক কারিগর সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বিনয় কুমার বলেন, সরকার নির্ধারিত মজুরি থেকে শ্রমিকরা অনেক কম মজুরি পান একদম বাস্তব। বিষয়টি দলীয় স্তরে জানিয়েছি। সরকারি দলে থেকে তো আর লড়াই আন্দোলন করা যাচ্ছে না। আর লড়াই আন্দোলন না করলে দাবি আদায় করাও যাবে না। শ্রমিকদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ শ্রমিক এখনও প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। বিড়ি শ্রমিকরা জানান, বাস্তবে প্রতি হাজার বিড়ি বেঁধে দেওয়ার জন্য ১৫০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। তার বেশি মজুরি পাওয়া যায় না। অন্য কাজ না থাকায় মজুরি কম পেয়েও এই কাজ করতে হয়। বিড়ি শ্রমিকদের নিয়ে বিভিন্ন দলের ইউনিয়ন থাকলেও তাদের কেউই শ্রমিকদের স্বার্থে বিশেষ চিন্তিত নন বলে জানান এলাকার শ্রমিকরা। সেই সঙ্গে সরকারও উদাসীন বলে তাঁদের অভিযোগ। ঝালদা ২ পঞ্চায়েত সমিতিতেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিড়ি শ্রমিক রয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত ওই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীপক সিংহ বলেন, বিড়ি শ্রমিকদের বিষয়টি শ্রমিক সংগঠনই দেখাশোনা করে। পঞ্চায়েত সমিতির কাছে কোনও সমস্যা নিয়ে এলে তা অবশ্যই সমাধানের চেষ্টা করা হবে। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিড়ি কোম্পানির মালিক বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্য দেওয়া কোনও মতেই সম্ভব নয়। ওই পরিমাণ মজুরি দিতে হলে বিড়ির দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। ব্যবসা করা সম্ভব হবে না।