Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

ভ্যালেন্টাইনস ডে,  পুরোটাই গিমিক নয়!

ভ্যালেন্টাইনস ডে,  পুরোটাই গিমিক নয়!
  • ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
পক্ষে
Advertisement
অহনা দে
ভালোবাসা জীবনের এক অপরিহার্য অংশ, যা সম্পর্কগুলিকে শক্তিশালী ও সুন্দর করে তোলে। ব্যস্ততার চাপে আমরা প্রিয়জনদের সময় দিতে পারি না, সম্পর্কের উষ্ণতা হারিয়ে যেতে থাকে। এই বিশেষ দিনটি ব্যস্ততার মাঝেও থমকে দাঁড়িয়ে প্রিয়জনদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ দেয়। শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় ভালোবাসা। বাবা-মা, ভাইবোন, বন্ধু-সব সম্পর্কেই বিদ্যমান। ভ্যালেন্টাইনস ডে সেই সব সম্পর্ক উদ্‌যাপনের দিন। অনেকে বলেন, ভালোবাসার জন্য নির্দিষ্ট দিন প্রয়োজন নেই। হ্যাঁ, প্রতিদিনই ভালোবাসা প্রকাশ করা উচিত, কিন্তু বাস্তবে আমরা কি তা পারি? ব্যস্ততায় সম্পর্কের যত্ন নিতে ভুলে যাই। এই দিনটি মনে করিয়ে দেয়, উপহার নয়, সময়, আন্তরিকতা ও ভালোবাসাই গুরুত্বপূর্ণ। 
তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী

 অন্তরা সিংহ রায়
ভ্যালেন্টাইনস ডে ঘিরে কলেজ-ইউনিভার্সিটি এমনকী চাকরিজীবীদেরও নানা পরিকল্পনা থাকে। এই দিনটিকে নানাভাবে সেলিব্রেট করেন তাঁরা। আজকাল সদ্য বিবাহিতরাও এই দিনটিকে গুরুত্ব দেন। বহু দোকান, রেস্তরাঁ ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষ্যে নানা অফার দেয়। বিশ্বজনীনভাবে দিনটির গুরুত্ব আছে বলেই তো দেয়! এদিন যে উপহার দেওয়া-নেওয়া, মনের আদানপ্রদান চলে, এগুলো এত সরলীকরণ করে অস্বীকার করা যায় না। শিশু-মা-বাবা-মহিলা- পুরুষ সকলের জন্যই একটি নির্দিষ্ট দিন রয়েছে, তাহলে প্রেম কী দোষ করল! মন নিয়ে কারবার যেখানে, সেই দিনটি কারও অপছন্দ হলেই তাকে ‘গিমিক’ বলে দেওয়া যায় না।
চাকরিজীবী

 সুজাতা বরাট
‘দেখনদারি’ শব্দটা এই স্যোশাল মিডিয়ার যুগে খুব প্রযোজ্য। জীবনে ঘটে যাওয়া যে কোনও বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করার বাসনায় ছবি পোস্ট হচ্ছে সোশ্যাল হ্যান্ডেলে। তাই ফেব্রুয়ারি মাস পড়লেই সপ্তাহজুড়ে চলে হ্যাশট্যাগ ভালোবাসা। তবে সবটাই গিমিক নয়। বিশেষ দিনটাতে বিশেষ মানুষটার কথা মনে রেখে একটা গোলাপ আনাও তো ভালোবাসারই প্রতীক। ১৪ তারিখটা আলাদা করে ভালোবাসার দিন হিসেবেই রাখা। ঠিক যেমন জন্মদিন কিংবা বিয়ের দিন আছে। সেই দিন মনে রেখে যদি কেক কাটতে পারি, তবে প্রেমদিবসে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কাটালে বাড়াবাড়ি কোথায়! 
গৃহবধূ

 শরদিন্দু দাস
সরস্বতী পুজোর শেষ হলেই শুরু ভ্যালেন্টাইনস উইক। ভ্যালেন্টাইনস ডে বিদেশে বেশি প্রচলিত হলেও আমাদের সমাজ এটিকে যথেষ্ট আপন করে নিয়েছে। অনেক নবদম্পতি, প্রেমিক-প্রেমিকা, তাদের ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন, ঘুরতে যান, আনন্দ করেন। অনেকে এই দিন এমন অনেক প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটায় যাদের সঙ্গে বছরের অন্য কোনওদিন দৈনন্দিন কাজের চাপে হয়তো কথা বলা হয়ে ওঠে না। তাই ভ্যালেন্টাইনস ডে-র পুরোটাই অর্থহীন নয়।
ছাত্র

বিপক্ষে
 জয়ন্ত কুমার মল্লিক
ভ্যালেন্টাইনস ডে-কে গিমিক ছাড়া কোনও শিরোনাম দিতে পারি না। ১৪ ফেব্রুয়ারি উদ্‌যাপনে সময় অর্থ ও সর্বোপরি এনার্জি নষ্ট হয়। কেবলমাত্র দামি উপহার প্রদানই ভালোবাসার মূর্ত প্রকাশ হতে পারে না। এটা নিছক পাশ্চাত্য অনুকরণ। এসব শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গের গ্রামেগঞ্জে ক’জনই বা এই রোমান্স দিবস উদ্‌যাপন বিষয়ে অবগত? আমরা ছোটবেলায় এর নাম পর্যন্ত শুনিনি। এই দিনে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল যিনি এই বিশেষ দিনে বিবাহ করেন, যা তখন নিষিদ্ধ ছিল। কারও মৃত্যুদিন উৎসবের দিন হয় কী করে? 
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক 

 অঙ্কনা সাহা 
ভালোবাসারও আবার নির্দিষ্ট দিন! ব্যাপারটা শুনলেই হাসি পায়। ভ্যালেন্টাইনস ডে একেবারেই অর্থহীন। সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপনী প্রচার। এখন আবার বিক্রিবাটার দিকটা ভেবে অনেক সংস্থা ভ্যালেন্টাইনস উইকও শুরু করেছে। অর্থাৎ ভালোবাসার মেয়াদ এক সপ্তাহ! আশ্চর্যই বটে। এমন দিনক্ষণ মেপে ভালোবাসাও সম্ভব? আর ভ্যালেন্টাইনস ডে উদ্‌যাপনও  শুধুই প্রেমিক প্রেমিকাকে ঘিরে। কেন? অন্য কারও প্রতি ভালোবাসা থাকতে নেই? আমার মতে, প্রিয়জনকে ভালোবাসার জন্য সারা জীবনও যথেষ্ট নয়। কোনও একদিনে তার প্রকাশ করা তো অসম্ভব। তাই ফাদার্স ডে বা মাদার্স ডে-র মতোই ভ্যালেন্টাইনস ডে-ও নেহাতই হাস্যকর।
ছাত্রী  

  মিতা ঘোষ
ভ্যালেন্টাইনস ডে বাণিজ্যিক প্রচারের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রেম এবং সম্পর্কের প্রতি অনুভূতি প্রকাশের বদলে শুধু উপহার এবং সেলিব্রেশনই যেন মুখ্য। অনেকে বিশ্বাস করেন যে ভালোবাসা এবং সম্পর্ককে বিশেষভাবে সম্মানিত ও উদ্‌যাপন করা উচিত। আর এই দিনটিই সেই উপলক্ষ হতে পারে যেখানে মানুষ একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে। আসল ভালোবাসা কখনওই নির্দিষ্ট দিনে সীমাবদ্ধ থাকে না, এর গভীরতা রোজই অনুভূত হওয়া উচিত, শুধু ভ্যালেন্টাইস 
ডে-তে নয়।
গৃহবধূ

 রাধারানি মুখোপাধ্যায়
বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতিতে এই দিনটির গুরুত্ব নেই। বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে সরস্বতী পুজোই। পশ্চিমী দুনিয়াকে অনুকরণ করতে গিয়ে ও বাজার ধরতে এই দিনটিকে গুরুত্ব দেওয়া শুরু হয়েছে। ফুল থেকে দামি উপহার, সবেতেই প্রতিযোগিতা ও খরচের পাল্লা ভারী। এই একটি দিনকে আলাদা করে তোলে ‘বাজার’। এদিন হৃদয়ের চেয়ে প্রেমের সঙ্গে বাজারের যোগই বেশি। এক সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু হয় রোজ ডে, টেডি ডে, প্রমিস ডে। শীতের কেনাকাটার পর বাজার কিছুটা পড়তির দিকে থাকে, তাই তা চাঙ্গা করতেই দিনটিকে প্রেমের দিন বানানো হয়। এটা তো গিমিক।
ব্যবসায়ী
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ