Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভুয়ো ভোটার খুঁজতে মুর্শিদাবাদে বাড়ি বাড়ি তৃণমূল, পথে বিজেপি

ভুয়ো ভোটার খুঁজতে মুর্শিদাবাদে বাড়ি বাড়ি তৃণমূল, পথে বিজেপি
  • ৩ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ভুয়ো ভোটার কার্ড খুঁজতে রবিবার থেকে বুথে বুথে স্ক্রুটিনি শুরু করল তৃণমূল। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা খুটিয়ে দেখলেন নেতা-কর্মীরা। দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো রবিবার সকালে কান্দিতে ভুয়ো ভোটার ধরতে মাঠে নামেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার। ব্লক ও টাউনেও নেতারা জোরকদমে পথে নেমেছে। আগামী ১০দিনের মধ্যে স্ক্রুটিনি শেষ করে রিপোর্ট পাঠানো হবে বলেই জানা গিয়েছে। তবে, তৃণমূলের দেখাদেখি এদিন বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখতে শুরু করছে বহরমপুরের বিজেপি নেতারা। বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শাখারভ সরকার স্বর্ণময়ী বাজার এলাকায় বেশকিছু বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকার সঙ্গে সাধারণ মানুষের এপিক কার্ড মিলিয়ে দেখেছেন। 
Advertisement
একই এপিক নম্বরে দু’টি কার্ডের হদিশ মিলেছে মুর্শিদাবাদের রানিনগরে। অভিযোগ উঠেছে, ভিনরাজ্যের ভোটারদের নাম রয়েছে এখানের ভোটার তালিকায়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেসব খতিয়ে দেখছেন জন প্রতিনিধি ও তৃণমূল কর্মীরা। তৃণমূলের জেলা সভাপতি বলেন, হাতে ভোটার কার্ড নিয়ে মানুষ উৎসাহের সঙ্গে ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে। বয়স্ক থেকে নতুন ভোটাররা প্রথম দিনেই খুব সচেতনভাবে আমাদের স্ক্রুটিনিতে সাহায্য করেছে। মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দেওয়ার পর মানুষ অনেক সচেতন হয়েছেন। তাঁরাই স্বতস্ফূর্ত কার্ড দেখাচ্ছেন। প্রতিটি বুথে আমাদের কর্মীরা নেমে গিয়েছে। এদিনই আমার বিধানসভা কেন্দ্রের ৭০টি বুথে যাওয়া হয়েছে। গোটা জেলায় প্রায় ৭০০ বুথ কভার করা হয়ে গিয়েছে। আগামীকাল থেকে এই সংখ্যাটা হাজার ছাড়িয়ে যাবে। আগামী দু’দিনের মধ্যে কর্মীরা সব বুথে পৌঁছে যাবে। এক একটি বুথে তিন থেকে চারদিন করে সময় লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে। একই পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকায় পরপর নেই। সেজন্য একটু বেশি সময় লাগছে। তবে, বিজেপি এখন আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো কর্মসূচি পালন করছে দেখছি। ওঁরা আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েই তো এই কাজ করতে পারে। আমাদের দলের দরজা এখনও খোলা আছে। 
বিজেপির জেলা সভাপতি বলেন, আমরা এদিন শহর ও শহর লাগোয়া ৭২টি বাড়িতে গিয়ে ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখেছি। তারমধ্যে প্রায় ৪০টি বাড়িতে এক-দু’জনের ভোটার কার্ড নেই। তাঁরা লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। দ্রুত যাতে কার্ড করে দেওয়া যায় তা আমরা তদারকি করছি। আমাদের এই কর্মসূচি তো মানুষের জন্য। মানুষের সমস্যা মিটিয়ে দিতে আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার কার্ড দেখছি। তৃণমূল যদি ঘটা করে এখন ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনি করে, আমরা কী করতে পারি। আমরা তো সারা বছর কাজ করি। 
এদিকে, ভূতুড়ে ভোটার ধরতে এলাকার জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সভা করলেন জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা সংসদ সদস্য খলিলুর রহমান। রবিবার দুপুরে রঘুনাথগঞ্জের উমরপুরের নূর ভবনে এই সভা হয়। এদিনের সভায় জেলা সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী মহম্মদ আখরুজ্জামান, সাংগঠনিক জেলার বিধায়ক ও ব্লক সভাপতিরা। উল্লেখযোগ্য ভাবে এদিন অনুপস্থিত ছিলেন বিধায়ক জাকির হোসেন, বাইরন বিশ্বাস ও মহম্মদ আলি। ভূতুড়ে ও বহিরাগত ভোটার ধরতে এদিনের সভায় উপস্থিত সকলকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়। সন্দেহজনক ভোটার থাকলে তাকে চিহ্নিত করে জেলা নেতৃত্বকে জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের নজরে আনারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা সভাধিপতি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী জেলার পাশাপাশি ব্লকেও কমিটি গঠন করে ভূতুড়ে ও বহিরাগত ভোটার ধরতে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে তা নিয়ে আমরা আবার আলোচনায় বসব। মন্ত্রী বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছি। এলাকায় এরকম ঘটনা নজরে এলে রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হবে। এক সপ্তাহ ধরে চলবে এই কাজ। এক সপ্তাহে এই কাজ কতটা এগিয়েছে তা আগামী মিটিংয়ে জানাতে বলা হয়েছে। আগামী রবিবার ফের নূর ভবনে এই বিষয়ে সভা ডাকা হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ