রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: শালকুমারের পাশে নতুন পর্যটন কেন্দ্র শিসামারা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত। শিসামারা নদীর আগ্রাসনে বিধ্বস্ত চেহারা সবক’টি রিসর্ট, হোমস্টের। ভুটান থেকে আসা বিপুল জলরাশির চাপ নিতে পারেনি শিসামারা। তাই জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে গিয়েছে নদীবাঁধ। এই নদীর জলের সঙ্গে আসা ভুটানের ডলোমাইট মিশ্রিত পলি আছড়ে পড়ায় ক্ষতবিক্ষত চেহারা রিসর্টগুলির।
শালকুমারের পাশে জলদাপাড়ার ভিতরে নির্জন শিসামারা নদীর তীরে ১৯টি রিসর্ট ও হোমস্টে। প্রকৃতির তাণ্ডবের পর এসব এখন পর্যটকশূন্য। ডলোমাইট মিশ্রিত পলি ও কাদামাটি পড়ে কোনও হোমস্টের আংশিক ক্ষতি হয়েছে, কোনওটি হয়ে গিয়েছে নিশ্চিহ্ন। সবকিছু হারিয়ে সর্বস্রান্ত অবস্থা রিসর্ট, হোমস্টে মালিকদের। কোথাও এক, কোথাও দেড় ফুট উঁচু পলি জমে আছে। এই পলি সরাতে প্রচুর খরচ বলে জানালেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তার উপর বেহাল হোমস্টে, রিসর্টও মেরামত করতে হবে। এই বিপুল খরচ কোথা থেকে আসবে, জানা নেই পর্যটন ব্যবসায়ীদের।
এই লোকসান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শিসামারার পর্যটন ব্যবসায়ীরা আর্থিক অনুদানের দাবিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আলিপুরদুয়ারের এমপি মনোজ টিগ্গার মাধ্যমে কেন্দ্রের কাছে এই আবেদন জানাবেন তাঁরা। জলদাপাড়া রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ দেবাশিস রাউথ বলেন, রাজ্য সরকার সবসময় পর্যটন ব্যবসায়ীদের পাশে থাকে। আমরা মনে করি, এই দুর্যোগে রাজ্যের থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব বেশি। তাই শিসামারার পর্যটনকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে হলে সর্বাগ্রে কেন্দ্রের এগিয়ে আসা উচিত। আমরা স্থানীয় এমপি’র মাধ্যমে সেই আবেদনই পাঠাচ্ছি কেন্দ্রের কাছে।
পর্যটন মহলের বক্তব্য, ডুয়ার্সের নদীগুলি ভুটান থেকে নেমে এসেছে। প্রতি বর্ষায় ভুটানের ডলোমাইট মিশ্রিত পলিতে নদীগুলির বেড ভরাট হচ্ছে। এতে নাব্যতা হারাচ্ছে নদীগুলি। ফের এই ধরনের দুর্যোগ এড়াতে কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত ভুটানের সঙ্গে কথা বলুক, এই দাবিতেও সোচ্চার হয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
জলদাপাড়া রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিঠুন সরকার বলেন, আমাদের দাবি ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশন গঠন করতে কেন্দ্র দ্রুত কথা বলুক ভুটানের সঙ্গে। এই কমিশন থাকলে ভুটান থেকে কখন কোথায় জল ছাড়া হবে তা আগাম জানা যাবে। সেইমতো দুর্যোগ থেকে বাঁচতে প্রস্তুতি নেওয়া যাবে। নিজস্ব চিত্র।