নয়াদিল্লি: কমতে পারে মাইলেজ। ক্ষতি হতে পারে গাড়ির ইঞ্জিনের। ইথানল মিশ্রিত ই-২০ পেট্রল সম্পর্কে এমনই আশঙ্কা নানা মহলে। এই আবহে প্রতিবেশী দেশ ভুটান ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি নিতে সাফ অস্বীকার করল। ভারতীয় তেল বিপণন সংস্থাগুলির প্রস্তাব ফিরিয়ে ভুটান স্পষ্ট জানিয়েছে, যতদিন ভারতে সাধারণ পেট্রল পাওয়া যাবে, ততদিন সেই জ্বালানিই সরবরাহ করা হোক।
দ্য ভুটানিজ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুটানের ভূগর্ভস্থ জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা ইথানল-মিশ্রিত পেট্রল সংরক্ষণের উপযুক্ত নয়। পাশাপাশি, পাহাড়ি এলাকায় যান চলাচলে ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করার প্রয়োজন হয়। ই-২০ পেট্রল গাড়ির সেই কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে প্রশাসনের। ভুটান প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দেশের অধিকাংশ ভূগর্ভস্থ জ্বালানি ট্যাঙ্ক বহু পুরানো। ফলে সেখানে জল ঢুকে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, তা অত্যন্ত হাইগ্রোস্কোপিক অর্থাৎ বাতাস থেকে সহজেই আর্দ্রতা শোষণ করে। ফলে ট্যাঙ্কে সামান্য জল ঢুকলেও জ্বালানির গুণগত মান নষ্ট হতে পারে। সেই জল সহজে আলাদা করা যায় না। দীর্ঘদিন জল মিশে থাকলে গাড়ির পাইপলাইন ও ইঞ্জিনেও ক্ষয় ধরার আশঙ্কাও থাকে। ভবিষ্যতে যদি ভারত ইথানলের মাত্রা আরও বাড়িয়ে ই২৫ বা তার বেশি মিশ্রণের জ্বালানি চালু করে, তাহলে আগাম জানাতে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলির কাছে অনুরোধ করেছে ভুটান। পাশাপাশি, লিক-প্রুফ বা জলরোধী সংরক্ষণ ট্যাঙ্ক সরবরাহের আবেদনও জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি ভারতে এই নিয়ে যে হারে সমালোচনা শুরু হয়েছে, তা দেখে আগেভাগেই ভুটান সতর্ক হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।