নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ভোটব্যাঙ্কে ধরেছে ক্ষয়। এখন সদস্য সংগ্রহ অভিযানেও নেই গতি। নেই দলের পক্ষে হাওয়া। এমন প্রেক্ষাপটে ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে হাওয়া গরম করতেই পদ্মশিবির ফের পিপিএস ইস্যু নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের জিগির তুলেছে। যা ‘ভাওতা’ ছাড়া কিছুই নয়। শুক্রবার এমন মন্তব্য করেছেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব ও পাহাড়ের বিজিপিএম নেতা শক্তিপ্রসাদ শর্মা। পাল্টা বিজেপি নেতাদের দাবি, নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ বজায় রাখতে তৃণমূল ও বিজিপিএম ত্রিপাক্ষিক বৈঠক চায় না। তাই ওরা এমন মন্তব্য করছেন। পিপিএস ইস্যু নিয়ে উভয়পক্ষের এমন বাক্যুদ্ধে সরগরম পাহাড় ও সমতলের রাজনীতি।
Advertisement
শুক্রবার শিলিগুড়িতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর পিপিএস নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের কথা জানান দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। তিনি বলেন, আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝিতে ওই বৈঠক হবে। তাঁর এই বক্তব্যকে পাত্তা দিতে নারাজ মেয়র তৃণমূল কংগ্রেসের গৌতম দেব। শনিবার মেয়র বলেন, ওটা রাজ্য ও কেন্দ্রের বিষয়। সেবিষয়ে কোন সাংসদ কী বলছেন, তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। তৃণমূল নেতাদের একাংশের বক্তব্য, পাহাড় ও সমতলে পায়ের তলার মাটি আলগা হয়েছে বিস্তার। সেটা বুঝতে পেরেই ছাব্বিশের ভোটের আগে ফের পিপিএস ঝুলি থেকে বের করে হাওয়া গরমের চেষ্টা করছেন বিস্তা।
অনীত থাপার দল বিজিপিএম নেতারা বিষয়টি নিয়ে আরও সুর চড়িয়েছেন। বিজিপিএমের মুখপাত্র শক্তিপ্রসাদ শর্মা বলেন, লোকসভা ভোটে পাহাড়ে ব্যাপক ধাক্কা খেয়েছেন এমপি। সামনেই কার্শিয়াং, কালিম্পং ও মিরিক পুরসভার ভোট হবে। সেজন্যই আবার পিপিএস নিয়ে মিটিংয়ের কথা তুলে এমপি হাওয়া গরমের চেষ্টা করছেন। এটা ভাওতা বাজি ছাড়া কিছুই নয়। গত পঞ্চায়েত ভোটের আগে তিনি বলেছিলেন ১০ দিনের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক মিটিং হবে। তা হয়নি। গত ১৫ বছরে বিষয়টি নিয়ে তিনি কিছু করতে পারেননি। তাঁকে পাহাড়বাসী আর বিশ্বাস করছেন না।
তৃণমূল ও বিজিপিএমকে পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপির পার্বত্য সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি কল্যাণ দেওয়ান। তিনি বলেন, বিজিপিএম ও তৃণমূল গোর্খাদের সমস্যা মেটাতে চায় না। তাই পিপিএস নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হোক, তা তারা চাইছে না। তবে, আমাদের কেন্দ্রীয় সরকার এই সমস্যা মেটাবে। সাংসদ বিস্তার সঙ্গে এবিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা হয়েছে। শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হবে বলেই আশাবাদী। অনীত থাপার দল বিজিপিএম নেতারা বিষয়টি নিয়ে আরও সুর চড়িয়েছেন। বিজিপিএমের মুখপাত্র শক্তিপ্রসাদ শর্মা বলেন, লোকসভা ভোটে পাহাড়ে ব্যাপক ধাক্কা খেয়েছেন এমপি। সামনেই কার্শিয়াং, কালিম্পং ও মিরিক পুরসভার ভোট হবে। সেজন্যই আবার পিপিএস নিয়ে মিটিংয়ের কথা তুলে এমপি হাওয়া গরমের চেষ্টা করছেন। এটা ভাওতা বাজি ছাড়া কিছুই নয়। গত পঞ্চায়েত ভোটের আগে তিনি বলেছিলেন ১০ দিনের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক মিটিং হবে। তা হয়নি। গত ১৫ বছরে বিষয়টি নিয়ে তিনি কিছু করতে পারেননি। তাঁকে পাহাড়বাসী আর বিশ্বাস করছেন না।
প্রসঙ্গত, উনিশের লোকসভা ভোট. দার্জিলিং কেন্দ্রে প্রায় ৪ লক্ষ ১৩ হাজার ৪৪৩ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন বিস্তা। চব্বিশের ভোটে তাঁর সেই লিড কমে দাঁড়ায় ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ৫২৫ ভোট। অর্থাৎ, পাহাড়ে নিজেরে ঘাঁটিতে জোর ধাক্কা খেয়েছে পদ্মশিবির। এখন তারা সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নেমেও সাড়া পাচ্ছে না বলে অভিযোগ। কয়েকদিন আগে তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব এসে দলের নেতাদের মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর। এমন প্রেক্ষাপটে পিপিএস ইস্যু সামনে আসায় স্থানীয় রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।



