নিজস্ব প্রতিনিধি, শালবনী: শালবনীর বুড়িশোল গ্রামের সুখোদা ভুঁইয়া, রবি ভুঁইয়া, পেড়ু ভুঁইয়ারা আর কুয়োর জল পান করেন না। শালজঙ্গলে ঘেরা একটি গ্রামে এক দশক আগে পানীয় জলের একমাত্র উৎস ছিল কুয়ো। বুড়িশোলের মতো শালবনীর বাকিবাঁধ, কাশীজোড়া, কর্ণগড়, গড়মাল এবং সাতপাটির জঙ্গলঘেরা অনেক গ্রামে এখন কুয়োর বদলে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী সাবমার্সিবলের পরিস্রুত পানীয় জল মেলে। একসময় ভাদুতলা থেকে লালগড় যাওয়ার রাস্তা খোলনলচে বদলে প্রায় ২৪ ফুট চওড়া হয়েছে। দিগন্ত বিস্তৃত শালবনের ভিতর দিয়ে এই ঝাঁ চকচকে রাস্তা এখন সেলফি স্পট। বিকালের পর দূরদূরান্ত থেকে তরুণ-তরুণীরা বাইক, স্কুটিতে চড়ে মসৃণ এই রাস্তায় দাঁড়িয়ে জঙ্গলকে পিছনে রেখে ছবি তুলছেন।
Advertisement
ভাদুতলা জঙ্গলমহল রেলগেট পার করার পর একটু এগলেই বুড়িশোল বাসস্টপ। সেখানে থেকে একশো মিটার দূরে বুড়িশোল প্রাইমারি স্কুল। এই স্কুলের সামনে সাবমার্সিবল পাম্প। শুক্রবার সেখান থেকে জল সংগ্রহ করছিলেন সুখোদা ভুঁইয়া, রবি ভুঁইয়া। রবি বলেন, একসময় এই এলাকায় প্রতিটি ঘরে কুয়ো ছিল। সেই কুয়োর জল পান করা থেকে দৈনন্দিন ব্যবহারের সব কাজে লাগত। এখন আমাদের আর কুয়োর জল পান করতে হয় না। সাবমার্সিবল থেকে পরিস্রুত পানীয় জল সংগ্রহ করি। বর্তমান রাজ্য সরকার আমাদের এই সমস্যা মিটিয়েছে। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।
আগামী ১৩ নভেম্বর মেদিনীপুর বিধানসভার উপ নির্বাচন। শালবনীর পাঁচ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারাও এই বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার হওয়ার সুবাদে ভোট দেবেন। তার আগে শেষ মুহূর্তের প্রচার তুঙ্গে। ভোটের মুখে তৃণমূলের প্রচারের অস্ত্র উন্নয়ন আর সরকারি পরিষেবা। গত ১৩ বছরে উন্নয়ন শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়, জঙ্গলমহল অধ্যুষিত এইসব গ্রামের মধ্যেও তার ছোঁয়া প্রবলভাবে লেগেছে। মেদিনীপুর শহরের সঙ্গে লালগড়, গোয়ালতোড় এবং শালবনীর বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের আসা যাওয়ার রাস্তা এভাবে বদলে যেতে পারে অনেকেই ভাবতে পারেননি। রাস্তা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ সবেতেই এককথায় বিপ্লব ঘটেছে।
বুড়িশোলের বাসিন্দা সুজিত সিং কলাইচণ্ডীখালের পাশে মুরগির মাংস বিক্রি করেন। তিনি বলেন, এই এলাকায় তৃণমূলের প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএম। বিজেপি এখানে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এইসব এলাকায় বেশ উন্নয়ন হয়েছে। ২০০৭-২০০৯ সাল নাগাদ যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালীন এইসব এলাকার মানুষজন ভয়ে বাড়ি থেকে বেরতে পারতেন না। ২০১১ সালে পালাবদলের পর সার্বিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। এই এলাকার বেশিরভাগ মানুষ মেদিনীপুর শহরে পুরসভার অধীনে কাজকর্ম করে। স্বাভাবিকভাবে মেদিনীপুর উপ নির্বাচন নিয়ে এখানকার মানুষজনের মধ্যে কৌতূহল বেশি।
এখানকার বাসিন্দা গোলাপী ভুঁইয়া বলেন, আমি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সুবিধা পাই। আমাদের মতো প্রান্তিকরা প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে পাই। এই টাকায় সন্তানদের পড়াশোনা করিয়েছি। এখন অসুখ বিসুখ হলে ওই টাকাই আমাদের ভরসা। বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দেওয়ায় আমাদের সুবিধা হয়েছে। বাড়িতে বসে রেশন পাব এমনটা কোনওদিন ভাবিনি। বিনা পয়সায় রেশনের চালে আমাদের সংসার চলে যায়। চৈতা গ্রামের তৃণমূলের প্রাক্তন সদস্য সঞ্জয় সিং বলেন, উন্নয়নের নিরিখে ভোট হবে। তাতে তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরার জয় নিয়ে কোনও সংশয় দেখছি না। বিজেপির জেলা নেতা শঙ্কর গুছাইত বলেন, দলীয় প্রার্থীকে জেতানোর শপথ নিয়ে আমরা লড়াইয়ে নেমেছি। উপ নির্বাচনে আমাদের জয় নিশ্চিত। • (উপরে) বিজেপির প্রচারে দিলীপ ঘোষ। (নীচে) কংগ্রেসের প্রচার।
আগামী ১৩ নভেম্বর মেদিনীপুর বিধানসভার উপ নির্বাচন। শালবনীর পাঁচ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারাও এই বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার হওয়ার সুবাদে ভোট দেবেন। তার আগে শেষ মুহূর্তের প্রচার তুঙ্গে। ভোটের মুখে তৃণমূলের প্রচারের অস্ত্র উন্নয়ন আর সরকারি পরিষেবা। গত ১৩ বছরে উন্নয়ন শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়, জঙ্গলমহল অধ্যুষিত এইসব গ্রামের মধ্যেও তার ছোঁয়া প্রবলভাবে লেগেছে। মেদিনীপুর শহরের সঙ্গে লালগড়, গোয়ালতোড় এবং শালবনীর বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের আসা যাওয়ার রাস্তা এভাবে বদলে যেতে পারে অনেকেই ভাবতে পারেননি। রাস্তা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ সবেতেই এককথায় বিপ্লব ঘটেছে।
বুড়িশোলের বাসিন্দা সুজিত সিং কলাইচণ্ডীখালের পাশে মুরগির মাংস বিক্রি করেন। তিনি বলেন, এই এলাকায় তৃণমূলের প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএম। বিজেপি এখানে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এইসব এলাকায় বেশ উন্নয়ন হয়েছে। ২০০৭-২০০৯ সাল নাগাদ যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালীন এইসব এলাকার মানুষজন ভয়ে বাড়ি থেকে বেরতে পারতেন না। ২০১১ সালে পালাবদলের পর সার্বিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। এই এলাকার বেশিরভাগ মানুষ মেদিনীপুর শহরে পুরসভার অধীনে কাজকর্ম করে। স্বাভাবিকভাবে মেদিনীপুর উপ নির্বাচন নিয়ে এখানকার মানুষজনের মধ্যে কৌতূহল বেশি।
এখানকার বাসিন্দা গোলাপী ভুঁইয়া বলেন, আমি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সুবিধা পাই। আমাদের মতো প্রান্তিকরা প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে পাই। এই টাকায় সন্তানদের পড়াশোনা করিয়েছি। এখন অসুখ বিসুখ হলে ওই টাকাই আমাদের ভরসা। বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দেওয়ায় আমাদের সুবিধা হয়েছে। বাড়িতে বসে রেশন পাব এমনটা কোনওদিন ভাবিনি। বিনা পয়সায় রেশনের চালে আমাদের সংসার চলে যায়। চৈতা গ্রামের তৃণমূলের প্রাক্তন সদস্য সঞ্জয় সিং বলেন, উন্নয়নের নিরিখে ভোট হবে। তাতে তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরার জয় নিয়ে কোনও সংশয় দেখছি না। বিজেপির জেলা নেতা শঙ্কর গুছাইত বলেন, দলীয় প্রার্থীকে জেতানোর শপথ নিয়ে আমরা লড়াইয়ে নেমেছি। উপ নির্বাচনে আমাদের জয় নিশ্চিত। • (উপরে) বিজেপির প্রচারে দিলীপ ঘোষ। (নীচে) কংগ্রেসের প্রচার।



