নয়াদিল্লি: গত এক বছরে দেশে ৮৪ শতাংশ বেড়েছে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ! ৫৯টি হিংসার ঘটনার মধ্যে ৪৯টিই ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলিতে। সম্প্রতি একটি রিপোর্টে এই তথ্য জানা গিয়েছিল। এবার সামনে এল অন্য একটি রিপোর্ট। মার্কিন সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে, মোদি জমানায় সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষে উস্কানি বেড়েই চলেছে। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের বছরে ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা এক ধাক্কায় ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিশানায় মুসলিম সহ সংখ্যালঘুরা। বলাই বাহুল্য, বিজেপি ও এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলিতেই ছিল এধরনের ভাষণের রমরমা। মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্ক ইন্ডিয়া হেট ল্যাব (আইএইচএল)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্ট বলছে, এধরনের সাড়ে চারশোর বেশি ঘৃণা ভাষণ শোনা গিয়েছে বিজেপি নেতাদের গলায়। আর তার মধ্যে ৬৩টি উস্কানিমূলক মন্তব্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। বিরোধীরা বলছে, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, রোজগারে ঘাটতির মতো জ্বলন্ত ইস্যুর পরিবর্তে ধর্মীয় বিভাজনকেই আঁকড়ে ধরেছে বিজেপি! এর হাত ধরেই ঊর্ধ্বমুখী বিদ্বেষ ভাষণের প্রবণতা। আর এধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য ইন্ধন জোগাচ্ছে সাম্প্রদায়িক হিংসায়, যা দেশের সার্বিক অগ্রগতির পক্ষে একেবারেই অনুকূল নয়।
Advertisement
গত বছরই ছিল ভারতে লোকসভা নির্বাচন। ভোটের প্রচারে কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধির মতো ইস্যু হাতিয়ার করেছিল বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, সেই প্রচারে জমি হারাতে দেখে বিজেপি শিবির আগ্রাসীভাবে ধর্মীয় মেরুকরণের তাস খেলতে শুরু করে। হিন্দু ভোট সংহত করার লক্ষ্যে এই প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন স্বয়ং মোদি। কখনও কংগ্রেসের ইস্তাহারকে ‘মুসলিম লিগের ঘোষণাপত্র’ বলে তোপ দেগেছেন। কখনও আবার সুর চড়িয়েছেন, ‘ওরা ক্ষমতায় এলে মা-বোনেদের মঙ্গলসূত্র কেড়ে অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দেবে’। এমনকী বিরোধীদের জাতি গণনার দাবিকে ভোঁতা করতে দলিত, ওবিসিদের সংরক্ষণ কেড়ে মুসলিমদের দেওয়ার আশঙ্কা পর্যন্ত উস্কে দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন এব্যাপারে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। ফলে গেরুয়া শিবির খুল্লামখুল্লা বিদ্বেষ ভাষণ চালিয়ে গিয়েছে। তারই প্রতিফলন এবার আইএইচএলের রিপোর্টে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে এই বিদ্বেষের বিষ উগরে দেওয়া বক্তব্যের সংখ্যা ছিল ৬৬৮। ক্যালেন্ডার পাল্টাতেই এক বছরে ওই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১,১৬৫। অর্থাৎ ২০২৪ সালে দেশে বিদ্বেষ ভাষণের রমরমা ৭৪.৪ শতাংশ বেড়েছে। ৯৮.৮ শতাংশ ক্ষেত্রেই এর নিশানায় ছিল মুসলিমরা। আর বিজেপি তথা এনডিএ শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে প্রকাশ্যে-সোশ্যাল মিডিয়ায় বেলাগাম বিদ্বেষ ভাষণ দেওয়া হয়েছে সবচেয়ে বেশি। রিপোর্ট প্রকাশের আগে সংবাদসংস্থা বিজেপির প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে এই বিদ্বেষের বিষ উগরে দেওয়া বক্তব্যের সংখ্যা ছিল ৬৬৮। ক্যালেন্ডার পাল্টাতেই এক বছরে ওই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১,১৬৫। অর্থাৎ ২০২৪ সালে দেশে বিদ্বেষ ভাষণের রমরমা ৭৪.৪ শতাংশ বেড়েছে। ৯৮.৮ শতাংশ ক্ষেত্রেই এর নিশানায় ছিল মুসলিমরা। আর বিজেপি তথা এনডিএ শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে প্রকাশ্যে-সোশ্যাল মিডিয়ায় বেলাগাম বিদ্বেষ ভাষণ দেওয়া হয়েছে সবচেয়ে বেশি। রিপোর্ট প্রকাশের আগে সংবাদসংস্থা বিজেপির প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।



