নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: স্বাধীনতা লাভের আগেই সাবেক মানভূমে তেরঙ্গা পতাকা উড়েছিল। গান্ধীজির ডাকা ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ঢেউ জঙ্গলমহলেও ছড়িয়ে পড়েছিল। পুলিসের গুলিতে গোবিন্দ মাহাত ও চুনারাম মাহত ১৯৪২সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শহিদ হয়েছিলেন। জঙ্গলমহলের মানুষ দুই শহিদকে শ্রদ্ধার সঙ্গে আগামী ৩০সেপ্টেম্বর স্মরণ করবেন। জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চা, বিধানসভার সংগ্ৰহশালায় দুই শহিদের মূর্তি রাখার সঙ্গে মানভূমের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণের দাবি তুলেছেন।
Advertisement
ভারত ছাড়ো আন্দোলন ১৯৪২সালের ৮আগস্ট শুরু হয়। মানভূম জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব অতুলচন্দ্র ঘোষ, বিভূতিভূষণ দাসগুপ্ত সহ একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব গ্ৰেপ্তার হন। আন্দোলনের গতি রুদ্ধ করার প্রচেষ্টা বানচাল করে দেন স্থানীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী ভজহরি মাহাত, হেমচন্দ্র মাহাত, কুশধজ মাহাত, কৃষ্ণচন্দ্র চৌধুরীর মত তরুণ নেতারা। ১৯৪২সালের ২৯সেপ্টেম্বর সত্যাগ্ৰহীরা বান্দোয়ান ও বরাবাজার থানা দখল করে নেন। থানার উপর থেকে ব্রিটিশ পতাকা নামিয়ে তেরঙ্গা পতাকা উড়িয়ে দেন। এক সপ্তাহ ধরে সেই পতাকা উড়েছিল। ৩০সেপ্টেম্বর শতাধিক সত্যাগ্ৰহী মানবাজার থানা ঘেরাও করে। ব্রিটিশ পুলিস আগে থেকেও থানা ঘেরাওয়ে খবর পেয়ে প্রস্তুত ছিল। পুলিসের গুলিতে গোবিন্দ ও চুনারাম মাহত শহিদ হন। বেশ কয়েকজন গুলিতে জখম হন। জঙ্গলমহলের মানুষ আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে ওই দিনটি স্মরণ করেন। জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার কেন্দ্রীয় সভাপতি অশোক মাহাত বলেন, জঙ্গলমহলের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রামের লড়াইয়ের ইতিহাস মূল ধারার পাঠ্যে আজও স্থান পায়নি। জঙ্গলমহল এলাকার সাবেক মানভূমে পুলিস থানায় সাতদিন ধরে তেরঙ্গা পতাকা উড়েছিল। গোবিন্দ ও চুনারাম মাহাত পুলিসের গুলিতে শহিদ হয়েছিলেন। আগামী ৩০সেপ্টেম্বর শ্রদ্ধার সঙ্গে দুই শহিদকে স্মরণ করা হবে। রাজ্য সরকারের কাছে আমরা দাবি জানিয়েছি, দুই শহিদের মূর্তি বিধানসভার সংগ্ৰাহশালায় রাখা হোক। একইসঙ্গে মানভূমের আন্দোলনের যাবতীয় তথ্য সংগ্ৰহ করার দাবিও জানানো হয়েছে।



