নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ফেলো কড়ি, তারপর মিলবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ। এই নিয়মেই জেলার প্রথম সারির বালিকা বিদ্যালয়ে নিয়ম করে প্রতিবছর ছাত্রীপিছু নেওয়া হচ্ছে ৬৫০ টাকা। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের এই টাকা দিতে হয়। বর্তমানে প্রায় ১২০০ পড়ুয়া কম্পিউটার ক্লাস করে। তাদের মধ্যে ১১০০ পড়ুয়া নিয়ম করে টাকা দিচ্ছে। অর্থাৎ বাৎসরিক সাত লক্ষ টাকার বেশি অর্থ বিদ্যালয়ের কোষাগারে ঢুকছে নিয়ম করে। বহরমপুরের মহারানি কাশীশ্বরী বালিকা বিদ্যালয়ে এই টাকা নেওয়াকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। জেলা শিক্ষাদপ্তর সব জেনেও একদম নিশ্চুপ। বিদ্যালয়ের পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কম্পিউটার শিক্ষার জন্য প্রতিবছর এই অর্থ দাবি করা হয়। শনিবার থেকে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়ার অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া শুরু হয়েছে। রসিদ ছাড়াই টাকা জমা দিলেন বেশ কিছু অভিভাবক। টাকা দেওয়ার পর কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁরাও।
Advertisement
অভিভাবক দীপনারায়ণ দাস বলেন, আমার মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। সপ্তম শ্রেণিতে একবার টাকা দিলাম, এবারও আবার ৬৫০ টাকা দিলাম। মেয়েরা বলে কম্পিউটার শিক্ষকরা আসে আর যায়। এই টাকা না দিলে তো পরীক্ষা দেওয়া হবে না। তাই বাধ্য হয়েই দিতে হয়। এক সময়ে খুব সুনাম ছিল এই স্কুলের, এখন সব নষ্ট হয়েছে। কম্পিউটারের জন্য পার্মানেন্ট স্টাফ নেই। সপ্তম শ্রেণির এক পড়ুয়ার অভিভাবক রন্টু দুবে বলেন, কম্পিউটার পড়াচ্ছে বলে ৬৫০ টাকা করে নিচ্ছে। কখন ক্লাস হয়, কী হয়, জানি না। বছরের দেড়শ দিন তো কোনও না কোনও কারণে ছুটিই থাকে। নামমাত্র কম্পিউটার শিখছে, কী শিখছে কিছু বোঝা যাচ্ছে না। মেয়েকে প্রশ্ন করলে কিছুই বলতে পারে না। তাও এবার ৬৫০ টাকা দিলাম। অপর এক অভিভাবক বলেন, বারোটা থেকে টাকা নেওয়ার কথা ছিল। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে একটার পর টাকা জমা নিয়েছে। কোনও রসিদ দেয়নি। একটা খাতায় লিখে রেখেছে দেখলাম। যদিও বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের দাবি, আইসিটির যে কম্পিউটার শিক্ষক আছে তার একার পক্ষে ১২০০ পড়ুয়ার ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। সেজন্য বাড়তি কম্পিউটার শিক্ষক রাখতে হয়েছে। তাঁকে স্কুলের ফান্ড থেকেই বেতন দিতে হয়। সেজন্য পড়ুয়াদের কাছ থেকেই এই অর্থ নেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চৈতালী চট্টোপাধ্যায় বলেন, অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিবছরই ৫০ টাকা করে মাসে দেওয়া হয়। সমস্ত বাচ্চারা তো দিতে পারে না। তাদেরটা মুকুব করে দেওয়া হয়। আমাদের বিপুল সংখ্যক ছাত্রী কম্পিউটার ক্লাস করে। আইসিটি ছাড়াও স্কুল থেকে কম্পিউটার কিনে আলাদা করে প্রশিক্ষণ চালাতে হয়। একজন টিচারের পক্ষে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১৬টি সেকশনের সমস্ত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। স্কুল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়তি একজন টিচারকে রেখেছে। তাঁকে বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে মাইনে দেওয়া হয়। অভিভাবকের মতামত সাপেক্ষে এটা নেওয়া হয়। যারা দিতে পারে না তারা আবেদন করলে মুকুব করে দেওয়া হয়। মাসে ৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। সেই হিসেবে বছরে ৬০০ টাকা, আর ভর্তি ফি হিসেবে ৫০ টাকা। অর্থাৎ মোট ৬৫০ টাকা নেওয়া হয়। আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে যখন বৈঠক করেছি তখন তারা কেউ আপত্তি জানাননি। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (সেকেন্ডারি) অমর কুমার শীল বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চৈতালী চট্টোপাধ্যায় বলেন, অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিবছরই ৫০ টাকা করে মাসে দেওয়া হয়। সমস্ত বাচ্চারা তো দিতে পারে না। তাদেরটা মুকুব করে দেওয়া হয়। আমাদের বিপুল সংখ্যক ছাত্রী কম্পিউটার ক্লাস করে। আইসিটি ছাড়াও স্কুল থেকে কম্পিউটার কিনে আলাদা করে প্রশিক্ষণ চালাতে হয়। একজন টিচারের পক্ষে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১৬টি সেকশনের সমস্ত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। স্কুল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়তি একজন টিচারকে রেখেছে। তাঁকে বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে মাইনে দেওয়া হয়। অভিভাবকের মতামত সাপেক্ষে এটা নেওয়া হয়। যারা দিতে পারে না তারা আবেদন করলে মুকুব করে দেওয়া হয়। মাসে ৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। সেই হিসেবে বছরে ৬০০ টাকা, আর ভর্তি ফি হিসেবে ৫০ টাকা। অর্থাৎ মোট ৬৫০ টাকা নেওয়া হয়। আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে যখন বৈঠক করেছি তখন তারা কেউ আপত্তি জানাননি। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (সেকেন্ডারি) অমর কুমার শীল বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।



