Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বহরমপুরে সমবায় নির্বাচন ঘিরে তৃণমূল-কং মারামারি, জখম ২

বহরমপুরে সমবায় নির্বাচন ঘিরে তৃণমূল-কং মারামারি, জখম ২
  • ৩০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বহরমপুরের হাতিনগরের জান মহম্মদপুর হিকামপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচন ঘিরে শুক্রবার উত্তেজনা ছড়াল। তৃণমূল ও কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের মধ্যে মারপিট হয়। ঘটনায় দু’জন জখম হয়েছেন। পুলিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে এই সমবায় সমিতি সিপিএমের দখলে ছিল। এদিন নির্বাচনে ১৩টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ১২টিতে প্রার্থী দিয়েছিল। কংগ্রেস ১১টি আসনে এবং সিপিএম ১৩টি আসনে লড়াই করেছিল। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে ভোট গণনা। ফলাফলে উচ্ছ্বসিত তৃণমূল শিবির। ১২টি আসনেই জয় পেয়েছে তৃণমূল। সিপিএম পেয়েছে একটি আসন।
Advertisement
তবে এদিন নির্বাচন চলাকালীন দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূল ও কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। মাথা ফেটে যায় কংগ্রেস কর্মীর। আরও এক কংগ্রেস নেতা জখম হন। তিনি মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 
জেলা কংগ্রেসের সহ-সভাপতি শিলাদিত্য হালদার বলেন, আমরা ১৩টি  আসনে প্রার্থী দিতে চেয়েছিলাম। ওরা দুই প্রার্থীকে নানা কায়দায় বাতিল করে দিয়েছিল। ১১টি আসনে লড়াই হচ্ছিল। সকালে বুথ দখল করে ওরা মানুষকে ভোট দিতে দেয়নি। তৃণমূল সব দখল করে নিয়েছে। আমাদের দু’জন কর্মীকে বেধড়ক মারধর করেছে। সাবির শেখ বলে এক কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 
জখম সাবির বলেন, আমরা সমবায় ভোটের জন্য টেবিল পেতে বসেছিলাম। সেই সময় তৃণমূলের লোকজন বাইরে জমায়েত করেছিল। ওরা এসেই প্রথম পুলিসকে ধাক্কাধাক্কি করে। তারপর পুলিসকে ফেলে দিয়ে আমাদের উপর চড়াও হয়। চেয়ার-টেবিল সরিয়ে আমাদের মাটিতে ফেলে মারতে থাকে। আমার কোমর এবং মাথায় খুব লেগেছে।
হাতিনগর অঞ্চলের তৃণমূলের সভাপতি সুজাম্মেল শেখ বলেন, কংগ্রেসের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। তাই ওরা বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা বলছে। সমবায়ের গত বোর্ড সিপিএমের ছিল। বাম-কংগ্রেস এই সমবায়ের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখে গোটা সমিতিকে দেউলিয়া করে দিয়েছিল। তারপরেও ওরা এবার সেটা দখল করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। এখানে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে এবং আমরাই বোর্ড দখল করেছি। ১৩টি আসনের মধ্যে একটি আসনের প্রার্থী আমাদের কোনও কারণে বাতিল হয়ে যায়, ১২টি আসনে লড়ে আমরা জিতেছি। 
কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী বলেন, কোথাও স্বচ্ছভাবে ভোট হোক এটা তৃণমূল চায় না। কারণ, ওরা জানে মানুষ ভোট দিতে পারলে তাদের অবস্থা খারাপ হবে। তাই সামান্য সমবায়ের ভোটে আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর করে ওরা জয় পেয়েছে। গণ্ডগোল হল, এদিকে পুলিসের কোনও ভূমিকাই দেখলাম না। 
তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা অশোক দাস বলেন, এখন কোথাও বাম ও কংগ্রেস বলে কিছু নেই। সমস্ত জায়গায় মানুষ চাইছে তৃণমূল স্বচ্ছভাবে প্রশাসন চালাক। সমবায়ের নির্বাচনে স্বাভাবিকভাবে তৃণমূল ক্ষমতায় আসবে, এটা জানা কথা। স্বাভাবিকভাবে আমরা মানুষের ভোটে জিতেছি।
বহরমপুর থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ বলেন, নির্বাচনের জন্য পুলিসি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। একটা উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। তা পুলিস নিয়ন্ত্রণে আনে।
সম্পর্কিত সংবাদ