Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বহরমপুর স্বর্ণময়ী মাছ বাজারের ভ্যাটের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা

বহরমপুর স্বর্ণময়ী মাছ বাজারের ভ্যাটের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বহরমপুর: বহরমপুর স্বর্ণময়ী মাছের বাজারের ভ্যাটের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাকে রুমাল চাপা দিয়ে কিংবা শ্বাস বন্ধ করেই যেতে হয় বাইক বা টোটোর আরোহীদের। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দিনভর ওই কটু গন্ধ সহ্য করেই দোকানে বসে থাকতে হয়। যা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন ব্যবসায়ীরা। ভ্যাটের দুর্গন্ধ হাসপাতাল চত্ত্বরেও ছড়াচ্ছে। মাছের বাজারের সঙ্গে ওই ভ্যাটে বহু হোটেল ব্যবসায়ীরাও আবর্জনা ফেলেন। দীর্ঘদিনের এই সমস্যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের আঁচ উগরে পড়ছে মৎস্য ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বহরমপুর পুরসভা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। স্বর্ণময়ী মাছের বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট ভ্যাট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। সেখানেই আবর্জনা ফেলা হয়। মাছের বাজারও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। বহরমপুর পুরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের প্রতিটি ভ্যাটের আবর্জনা প্রতিদিন তোলা হয়। কিন্তু দুর্গন্ধ দূর করা যায় না। স্থানীয় বাসিন্দারা আর্বজনা তোলার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ভ্যাটে ফিনাইল ছড়ানোর জোরালো দাবি তুলেছেন।
Advertisement
বহরমপুর শহরে স্বর্ণময়ী বাজার অন্যতম বড় মাছের বাজার। শতাধিক মাছ ব্যবসায়ী এই বাজারে বসেন। ওই এলাকায় রয়েছে প্রচুর খাবারের দোকান। মাছের বাজার এলাকায় রাস্তার উভয় পাশে রয়েছে প্রচুর ওষুধের ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান। মাছের বাজারের ঠিক উল্টো দিকেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রধান গেট। মাছের বাজারের দুর্গন্ধ এলাকা ছাড়িয়ে হাসপাতাল চত্বরে ঢুকছে। 
স্থানীয় বাসিন্দা রাজীব শীল বলেন, অসহ্য দুর্গন্ধ। ওই এলাকায় এক মিনিট দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। নাকে রুমাল চাপা দিয়ে যেতে হয়। এই অসহ্য যন্ত্রণা থেকে কবে অব্যহতি মিলবে জানি না। স্থানীয় ব্যবসায়ী গণেশ চৌধুরী বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দুর্গন্ধ সহ্য করেই দোকানে থাকতে হয়। বহুদিন দুর্গন্ধে শরীর পাক দিতে শুরু করে। অসুস্থ বোধ করি। কিন্তু ব্যবসা বন্ধ রাখা যায় না। 
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সকালের রোদ চড়তে শুরু করলেই দুর্গন্ধের তীব্রতা বাড়তে শুরু করে। স্থানীয় ব্যবসায়ী চন্দন দাস বলেন, প্রতিদিন আবর্জনা তোলা হয়। কিন্তু কোদাল দিয়ে ভ্যাটের তলায় জমে থাকা মাটি তোলা হয় না। তলা পর্যন্ত চেঁচে মাঝে মাঝে ফিনাইল ছড়ালে দুর্গন্ধ থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে। বাইরে থেকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে একই অভিযোগ তুলেছেন রোগী ও পরিজনরা। তাঁদের অভিযোগ, আসা যাওয়ার পাশাপাশি দোকানে দাঁড়িয়ে ওষুধ কিনতেও দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়ে পড়ে।
সম্পর্কিত সংবাদ