Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বহরমপুরে হাইস্কুলে অতিরিক্ত ভর্তি ফি নেওয়ার অভিযোগ অভিভাবকদের

বহরমপুরে হাইস্কুলে অতিরিক্ত ভর্তি ফি নেওয়ার অভিযোগ অভিভাবকদের
  • ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, বহরমপুর: বর্ধিত ভর্তি ফি নিয়ে ফের সরব হয়েছে অভিভাবক মহল। এবার কালীতলাদেয়ার রাজা জগৎ কিশোর উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কাঠগড়ায় তুলে টাকা ফেরতের দাবি তুললেন অভিভাবকদের একাংশ। সরকার নির্ধারিত ভর্তি ফিজের দ্বিগুণেরও বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ অভিভাবক ও পড়ুয়াদের। অভিভাবকদের অভিযোগ, রসিদে ২৪০ টাকা ভর্তি ফি দেখানো হলেও রসিদ ছাড়া ছাত্রপিছু অতিরিক্ত ৩৬০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে মিসলেনিয়াস চার্জ হিসেবে। যা রসিদের উল্টো দিকে লেখা হচ্ছে। একই দিনে ভর্তি অপর একটি ছাত্রের রসিদে ভর্তি ফি হিসেবে ৬০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু রসিদে সমস্ত ফিজের যোগফলে প্রচুর অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেই ভর্তি ফি ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল দত্ত বলেন, স্কুল উন্নয়ন, সরস্বতী পুজোর খাওয়া, বিদ্যুৎ বিলে প্রচুর খরচা হয়। সব মিলিয়ে অভিভাবকদের মতামত নিয়েই এই ভর্তি ফি নেওয়া হয়েছে। 
Advertisement
মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন স্কুলে অতিরিক্ত ভর্তি ফি নেওয়ায় অভিভাবকরা বিক্ষোভ দেখান। বহু জায়গায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। জেলায় এমন আটটি স্কুলকে চিহ্নিত করে ডিআই (মাধ্যমিক), প্রধান শিক্ষক, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে নোটিস পাঠিয়ে পড়ুয়াদের থেকে নেওয়া অতিরিক্ত ফি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। তারপরেও বহু স্কুল বর্ধিত ভর্তি ফি ফেরত দেয়নি বলেই অভিযোগ। এরমধ্যে রয়েছে বহরমপুর ব্লকের কালীতলাদেয়ার আরজেকে হাই স্কুল।
গত ৮ জানুয়ারি অষ্টম শ্রেণির কৌশিক মণ্ডল ‘এ’ সেকশনে ভর্তি হয়েছে। কৌশিক মণ্ডলের রসিদে ভর্তি ফি হিসেবে লেখা রয়েছে ২৪০ টাকা। রসিদের উল্টো পিঠে মিসলেনিয়াস ফি হিসেবে লেখা রয়েছে ৩৬০ টাকা। সর্বমোট ভর্তি ফি ৬০০ টাকা। একইদিনে ওই ক্লাসের ‘এ’ সেকশনেই ভর্তি হয়েছে বিশাল মণ্ডল। রসিদে লেখা রয়েছে ডেভেলপমেন্ট ফি ২৪০ টাকা, এগজাম ফি ১২ টাকা, গেম ফি ৬ টাকা, লাইব্রেরি ফি ৩ টাকা, ইলেকট্রিক ফি ১২ এবং স্টুডেন্ট হেলথ হোম ফি ১০ টাকা। কিন্তু গ্র্যান্ড টোটোলে দেখানো হয়েছে ৬০০ টাকা। এই অসঙ্গতি নিয়েই অভিভাবক মহলে ক্ষোভ বাড়ছে। 
বহরমপুর শহর থেকে ১১ কিমি দূরে এই স্কুলের অধিকাংশ অভিভাবক শ্রমজীবী বা পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে যুক্ত। স্কুলের এক অভিভাবক বলেন, সরকারি স্কুলে সরকারি নিয়মেই ভর্তি ফি নেওয়া উচিত। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেদের মর্জিতে আমাদের ঘাড়ে বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছেন। এই অন্যায় বরদাস্ত করব না। অপর এক অভিভাবক বলেন, বহু স্কুল বাড়তি ভর্তি ফি নিয়েও শেষ পর্যন্ত ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুসারে আমরাও অতিরিক্ত ফি ফেরতের দাবি জানাচ্ছি।
সম্পর্কিত সংবাদ