Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিহার-ঝাড়খণ্ডে গা-ঢাকা দিয়ে অন্য কায়দায় ‘অপারেশন’ চালাতে পারে‌ সাইবার অপরাধীরা

বিহার-ঝাড়খণ্ডে গা-ঢাকা দিয়ে অন্য কায়দায় ‘অপারেশন’ চালাতে পারে‌ সাইবার অপরাধীরা
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ট্যাব কেলেঙ্কারিতে যুক্ত অধরা সাইবার অপরাধীরা অন্য কায়দায় ‘অপারেশন’ চালাতে পারে। আশঙ্কা করছেন তদন্তকারীরা। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এবং মালদহের বৈষ্ণবনগর এলাকার প্রায় ১০জন সাইবার অপরাধী ফেরার রয়েছে। তারা বিহার এবং ঝাড়খণ্ডে গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছে বলে পুলিস জানতে পেরেছে। তাদের অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তারা যে অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকা পাঠিয়েছিল সেগুলিও বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এই অবস্থায় তারা নতুন করে সাইবার অপরাধের ঘুঁটি সাজাতে পারে বলে পুলিস মনে করছে। 
Advertisement
এক আধিকারিক বলেন, প্রতারকরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অপারেশন চালায়। তারা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রাখার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক গ্রুপ তৈরি করেছিল। সেগুলির মাধ্যমেই তারা যোগাযোগ রাখত। এই গ্যাংয়ে সবাই সবাইকে চিনত না। তবে প্রতিটি গ্যাংয়ের মাথারা একে অপরকে চিনত। ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান এবং কলকাতা পুলিস ট্যাব কেলেঙ্কারি কাণ্ডে তদন্তে নেমেছিল। পরে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি থানার পুলিস তদন্ত শুরু করে। প্রথমদিকে সাত-আটজন গ্রেপ্তার হওয়ার পরই এই চক্রের অন্যান্য মাথারা এলাকা ছাড়ে। পুলিস তাদের বাড়িতে গিয়ে একাধিকবার তল্লাশি চালায়। কিন্তু তাদের খোঁজ পায়নি। ফেরার উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার প্রতারকদের নিয়ে তদন্তকারীদের মাথাব্যথা বেশি। তারা বিভিন্ন ধরনের সাইবার প্রতারণায় সিদ্ধহস্ত। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, প্রায় এক বছর ধরে চোপড়া এরাজ্যের জামতাড়া হয়ে উঠেছিল। ট্যাব কেলেঙ্কারির পর বিভিন্ন জেলার পুলিসের নজর ওই এলাকার উপর পড়ে। এছাড়া উত্তর দিনাজপুর পুলিস সেখানে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। সেকারণে আপাতত সাইবার অপরাধীরা পিছু হটেছে। তারা ভিনরাজ্যে আত্মগোপন করেছে। 
জেলা পুলিসের আর এক আধিকারিক বলেন, ঝাড়খণ্ডের জামতাড়ার দুষ্কৃতীরা এখন নিজেদের এলাকায় বসে অপরাধ করে না। বাইরে কোনও এলাকাকে তারা নিরাপদ বলে মনে করে। চোপড়ার অধরা দুষ্কৃতীরা সেই কৌশল নিলে পুলিসের মাথাব্যথা বাড়বে। তদন্তকারীরা ওই সাইবার অপরাধীদের তালিকা তৈরি করেছে। বিভিন্ন থানায় তা পাঠানো হয়েছে। দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করতে মরিয়া চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ডিএসপি(ক্রাইম) সুরজিৎ মণ্ডল বলেন, এধরনের তদন্ত শেষ করতে সময় লাগে। যারা যুক্ত রয়েছে তাদের প্রত্যেককেই গ্রেপ্তার করা হবে। প্রসঙ্গত, ট্যাব কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিস প্রথম সাফল্য পায়। তারপরই অন্যান্য জেলাগুলি প্রতারকদের গ্রেপ্তার করে।
সম্পর্কিত সংবাদ