Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বহিরাগত ভুয়ো ভোটার নিয়ে সমস্ত জেলা প্রশাসনকে সতর্ক করল নবান্ন

বহিরাগত ভুয়ো ভোটার নিয়ে সমস্ত জেলা প্রশাসনকে সতর্ক করল নবান্ন
  • ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে চম্পাহাটি পঞ্চায়েতে লোকসভা ভোটের পর মাত্র সাত মাসেই গ্রামীণ এলাকার ভোটার বেড়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার। তবে তাঁরা চম্পাহাটির বাসিন্দা নন। উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলার মানুষের নাম উঠেছে এই তালিকায়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ভোটার তালিকায় নতুন নাম সংযোজন থেকে শুরু করে সংশোধনী, সমস্ত কাজের মুল দায়িত্বে থাকে জেলা প্রশাসন। সেই কারণেই শনিবার দীর্ঘ বৈঠক করে ভোটার তালিকায় এমন ভুতুড়ে ভোটারের ‘অনুপ্রবেশ’ ঠেকাতে প্রত্যেক জেলা প্রশাসনকে কড়া বার্তা দেওয়া হল নবান্নের তরফে। রাজ্য প্রশাসনের সাফ বার্তা, কোনও আধিকারিকদের মদত ছাড়া এমন ঘটনা সম্ভব নয়। আগামীদিনে এই দুর্নীতির সঙ্গে কেউ জড়িত প্রমাণিত হলে, প্রশাসনের সেই সমস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করে তাঁর বা তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এবার থেকে কেউ ভোটার লিস্টে নাম তোলার আবেদন জানালে, তাঁর বাড়িতে গিয়ে সরেজমিনে যাচাই পর্ব চালিয়ে তবেই নাম তোলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। 
Advertisement
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই গেরুয়া পার্টির গোপন পরিকল্পনা প্রকাশ্যে এনে বাজেট অধিবেশনে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, মহারাষ্ট্র ও দিল্লির মতো বুথ স্তরে ‘ভুয়ো ভোটারে’র অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে (মাইক্রোম্যানেজ) কারচুপির ছক কষছে একটি ‘ভূতুড়ে পার্টি’। ব্যাপক মাত্রায় বহিরাগতদের নাম ভোটার তালিকায় ঢুকিয়ে বুথস্তর থেকে ফলাফল নিজের পক্ষে করতে মরিয়া তারা। তার পরপরই এরাজ্যে প্রকাশ্যে আসে চম্পাহাটির ঘটনা। প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, ভোটার তালিকার কাজ সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিষয় হলেও, নবান্নের তরফে জেলার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সতর্ক করে দেওয়া হল। 
এদিন বিকেলে একাধিক দপ্তরের সচিব সহ সমস্ত জেলাশাসকদের নিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। এই বৈঠকেই রাজ্যের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। আবার নদীয়ার হাঁসখালির বগুলায় জন্ম হারের কয়েকগুণ বেশি জন্ম শংসাপত্র ইস্যু হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতে। এই ঘটনার রেশ ধরেই জন্ম মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু করার ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। 
‘ভূতুড়ে ভোটার’ সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে বাংলার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের দাবি, ‘জালিয়াতি শিল্প আয়ত্ত করেছে তৃণমূল। জাল ভোটার, নির্বাচনে কারচুপি আর গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে তৃণমূলই।’ সুকান্তের বক্তব্য খণ্ডন করে তাঁকে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলকে নিয়ে কুৎসা, মিথ্যাচার করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্র, দিল্লিতে ভোটার তালিকায় কারসাজি সামনে চলে এসেছ। ভোটার তালিকায় কারচুপি করেই বাংলায় ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে বিজেপি।’ 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ