সংবাদদাতা, বানারহাট: দীর্ঘ লাইন এড়িয়ে রেশন সামগ্রী নিতে ভোরেই জঙ্গল পথে রওনা হয়েছিলেন এক চা শ্রমিক। আর সেটাই কাল হল। রবিবার ভোরে হাতির হানায় মৃত্যু হল ওই চা শ্রমিকের। ঘটনাটি ঘটে বানারহাট ব্লকের বিন্নাগুড়ি চা বাগানে। এতোয়া ওরাওঁ (৫৮) নামে শ্রমিককে হাতিটি শুঁড়ে পেঁচিয়ে মাটিতে আছাড় মারলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে বনদপ্তরের বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণ শাখার কর্মী এবং বিন্নাগুড়ি ফাঁড়ির পুলিস সেখানে যায়। কিন্তু, শ্রমিক মৃত্যুর জেরে বাগানের ওই এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকে। পরে পুলিস দেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
Advertisement
মৃতের আত্মীয় জেমস কেরকেট্টা বলেন, বিন্নাগুড়ি চা বাগানের শ্রমিকদের রেশন সংগ্রহের জন্য বিরাট লাইন হয়। রেশনের জন্য ভোর থেকে লাইনে দাঁড়াতে হয়। বেলা করে এলে রেশন সামগ্রী মেলে না। বড় লাইনের শেষের দিকে দাঁড়ালে অনেক সময় সামগ্রী শেষ হয়ে যায়। তখন রেশনের বদলে টোকন দেওয়া হয়। সেই কুপন দেখিয়ে পরের মাসে মেলে বকেয়া সামগ্রী। এই সমস্যা থেকে বাঁচতে এবং তাড়াতাড়ি রেশন নিয়ে বাড়ি ফিরতে অনেক শ্রমিক ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। রবিবার ভোরেও বাগানের ফ্যাক্টারি গেট সংলগ্ন রেশনের কাউন্টার থেকে রেশন নেওয়ার জন্য কয়েকজন দাঁড়িয়েছিলেন। ভোর চারটা নাগাদ লাইনে থাকা কয়েকজন শৌচকর্ম করার জন্য পাশের চা বাগানে যান। তখনই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসে একটি হাতি। অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও এতোয়া ওরাওঁ হাতির সামনে পড়ে যান।
আরএক শ্রমিক রূপন্তি মুন্ডা বলেন, লাইনের শেষে যারা থাকে, তারা অনেক সময়েই রেশন পান না। তাদের হাতে বকেয়া কুপন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই সমস্যা থেকে বাঁচতেই অনেকে সূর্য ওঠার আগে থেকে লাইনে দাঁড়ান। অন্যান্য জায়গায় পাড়ায় পাড়ায় রেশন দেওয়ার যে ব্যবস্থা রয়েছে, তাদের বাগানে এভাবে রেশন দেওয়া হয় না বলেই এই সমস্যা।
আরএক শ্রমিক রূপন্তি মুন্ডা বলেন, লাইনের শেষে যারা থাকে, তারা অনেক সময়েই রেশন পান না। তাদের হাতে বকেয়া কুপন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই সমস্যা থেকে বাঁচতেই অনেকে সূর্য ওঠার আগে থেকে লাইনে দাঁড়ান। অন্যান্য জায়গায় পাড়ায় পাড়ায় রেশন দেওয়ার যে ব্যবস্থা রয়েছে, তাদের বাগানে এভাবে রেশন দেওয়া হয় না বলেই এই সমস্যা।



