সংবাদদাতা, সিউড়ি: ভিনরাজ্য থেকে বীরভূমে এল আরএল স্যালাইন। স্বস্তি ফিরল বীরভূম স্বাস্থ্যজেলার প্রতিটি হাসপাতালে। অন্তত, আগামী ক’দিন স্যালাইনের ঘাটতি কিছুটা হলেও মিটবে বলে দাবি স্বাস্থ্য কর্তাদের। মেদিনীপুর হাসপাতালে স্যালাইন কাণ্ডের পর তড়িঘড়ি রিংজার ল্যাকটেট (আরএল) স্যালাইন বাতিল করা হয়। তার জেরে বীরভূমের প্রায় প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে রোগীদের আরএল স্যালাইন দেওয়া বন্ধ ছিল। এর মধ্যেই সিউড়ি হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যু হয়। তাতে ভুল ওষুধ দেওয়া ও চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তোলেন রোগীর আত্মীয়রা। যদিও স্বাস্থ্য কর্তাদের দাবি, ওই রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে আরএল স্যালাইন বন্ধ হওয়ার কোনও সম্পর্কই নেই।
Advertisement
গত শুক্রবার জেলার সদাইপুর থানার দুর্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা মামনি দলুই নামে এক গৃহবধূ বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য ভর্তি হয়েছিলেন সিউড়ি সুপার স্পেশালিটিতে। শনিবার চিকিৎসক তাঁকে একটি ওষুধ দেন। সেটি খাওয়ার পরই মামনির মৃত্যু হয় বলে তাঁর পরিবারের অভিযোগ। ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিজনরা। দ্রুত ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্যদপ্তর।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিন রাজ্য থেকে চারশো পেটি আরএল স্যালাইন এসেছে জেলায়। নায্যমূল্যের দোকানে এই স্যালাইন মিলছে বলে স্বাস্থ্য কর্তাদের দাবি। কর্ণাটকের একটি সংস্থার থেকে স্যালাইনগুলি আনা হয়েছে। এতে কিছুটা হলেও ঘাটতি মিটবে কিছুদিন। জেলার প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে কিছু কিছু করে স্যালাইন পাঠিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রি আড়ি বলেন, ‘হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে স্যালাইনের কোনও সম্পর্ক নেই। রাজ্যের নির্দেশে স্যালাইন বাতিল হয়েছিল। আবার রাজ্যের তরফেই স্যালাইন পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ৪০০ পেটি স্যালাইন পাওয়া গিয়েছে। এতে অনেকখানি ঘাটতি মিটবে। আরও স্যালাইনের অর্ডার দেওয়া রয়েছে। সেটাও যাবে সময় মতো চলে আসবে।’



