Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভিনরাজ্যে রোগীর পরিবারের কাছে ত্রাতা হয়ে ওঠেন পরিযায়ী শ্রমিকরা

ভিনরাজ্যে রোগীর পরিবারের কাছে ত্রাতা হয়ে ওঠেন পরিযায়ী শ্রমিকরা
  • ৫ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কান্দি: মুম্বই হোক বা বেঙ্গালুরু অথবা চেন্নাই। কাজের সূত্রে কান্দি মহকুমার হাজারের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক সেখানে পাড়ি দেন। আবার এই এলাকা থেকেই চিকিৎসার জন্য অনেককে একই জায়গায় যেতে হয়। তখন গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিক নুটু, ফ্লাট, হাবিব, মানুরাই ত্রাতা হয়ে ওঠেন রোগীর পরিজনদের কাছে। নিঃখরচায় থাকা খাওয়ার সঙ্গে সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দেন তাঁরা।
Advertisement
প্রসঙ্গত, ভিন রাজ্যে রাজমিস্ত্রি, জোগাড়ে থেকে মাংসের দোকান, জরি কারখানায় কান্দি মহকুমার হাজারের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক কাজ করতে যান। তাঁদের কেউ মুম্বইয়ে কেউ বেঙ্গালুরু বা চেন্নাইয়ে থাকেন। আবার কাজ করতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও অনেক ঘটেছে। কিন্তু, তা সত্ত্বেও পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজে যাওয়া থমকে যায়নি। এখানকার কেউ কেউ আট থেকে ১০ বছর ধরে ভিন রাজ্যে রয়েছেন। তবে তাঁরা সবচেয়ে বেশি খুশি হন যখন গ্রাম বা এলাকার কেউ তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে যান। আর সেটা হয়ে থাকে যখন এলাকা থেকে কেউ কোনও রোগীকে নিয়ে সেখানে যান।
অনেকেই ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য মুম্বই, পেটের রোগের জন্য হায়দরাবাদ বা বেঙ্গালুরু অথবা অন্যান্য সমস্যার জন্য চেন্নাই যান। সেখানে চিকিৎসা করা শুধু রোগীর পরিবারের কাছে ব্যয়বহুল। অনেকে হয়রানির শিকারও হন। আর ঠিক তখনই খোঁজ পড়ে নুটু, ফ্লাটদের। রোগী নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগেই মোবাইলে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া হয়। একবার সেখানে গিয়ে পৌঁছতে পারলেই অনেকটা চিন্তামুক্ত হওয়া যায়। রোগীকে দেখানোর সঙ্গে বিনা খরচায় থাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে থাকেন তাঁরা। প্রয়োজনে খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়।
মুম্বইয়ের কুরলাতে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন ভরতপুরের ডাঙাপাড়ার নুরুল ইসলাম ওরফে নুটু ও রবিউল ইসলাম ওরফে ফ্লাট। দুই ভাই প্রায় আট বছর ধরে সেখানে কাজ করছেন। এখন বড় ধরণের নির্মাণ কাজের চুক্তি করেন তাঁরা। তাই চিকিৎসা সূত্রে এলাকার কেউ মুম্বই গেলেই ডাক পড়ে নুটু ও ফ্লাটদের। নুটু বলেন, এখানে চিকিৎসা শুধু ব্যয়বহুল নয় হয়রানির শিকারও হতে হয়। তাই গ্রামের মানুষ যখন এখানে আসেন তখন যতটা পারি সাহায্য করি। থাকা খাওয়ার সঙ্গে চিকিৎসা করানোর জন্যও সাহায্য করি। ফ্লাট বলেন, গ্রামের মানুষ যখন এখানে আসেন তখন মনে হয় আমার কোনও আত্মীয় এসেছেন। কিছুক্ষণের জন্য ভুলে যাই আমরা ভিন রাজ্যে রয়েছি। 
ভরতপুরের নতুনপাড়ার বাসিন্দা আশরাফুল শেখ বলেন, দাদার ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য মুম্বইয়ে পৌঁছে শুধু একবার নুটুকে ফোন করেছিলাম। এরপর যেন সব দায়িত্ব ওঁদের। একটি মাস আমাকে কষ্ট বুঝতে দেননি ওঁরা। বড়ঞার বেলগ্রামের হাবিব শেখও প্রায় ১১ বছর ধরে বেঙ্গালুরুতে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তিনি বলেন, গ্রামের বা প্রতিবেশী গ্রামের কেউ চিকিৎসার জন্য এসেছেন জানতে পারলেই আমরা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সাধ্যমতো সাহায্য করা হয়। খড়গ্রাম ব্লকের মহিষাড় গ্রামের মানু অর্থাৎ মানোয়ার হোসেন ছ’বছর ধরে চেন্নাইয়ের একটি কাঠের দোকানে কাজ করছেন। তিনি যে ঘরে থাকেন সেখানে অনায়াসে আটজন থাকতে পারেন। কাজেই চেন্নাইয়ে চিকিৎসার জন্য এলাকার কেউ গেলেই মানুর কাছে গিয়ে ওঠে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ