Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভাঙন রোধে ২০০ কোটি বরাদ্দ, বাঁচার স্বপ্ন দেখছে সামশেরগঞ্জ, সূতি

ভাঙন রোধে ২০০ কোটি বরাদ্দ, বাঁচার স্বপ্ন দেখছে সামশেরগঞ্জ, সূতি
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: কেন্দ্রীয় সরকার বঞ্চনা করলেও ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বরাদ্দ বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বাজেটে ভাঙন রোধের জন্য ২০০কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তাতেই আশায় বুক বাঁধছেন মুর্শিদাবাদবাসী। দুঃস্বপ্ন এবার কাটবে বলে তাঁরা মনে করছেন।
Advertisement
প্রতিবছর ভাঙনের আতঙ্কে সিঁটিয়ে থাকেন জেলার সামশেরগঞ্জ ও সূতির বাসিন্দারা। বর্ষা এলেই গঙ্গার ভয়াবহ রূপ ঘুম কেড়ে নেয় নদী পাড়ের বাসিন্দাদের। এবার শীতের মরশুমেও সেই ভাঙন অব্যাহত ছিল। মাস খানেক আগেও কয়েকদিন ধরে নতুন শিবপুরে ভেঙেছে নদীর পাড়। শীতের মরশুমে নদীতে গঙ্গায় তেমন জল না থাকলেও ভাঙন শুরু হওয়ায় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ফিবছর বর্ষার তিন মাস কান্নার রোল ওঠে এলাকায়। এবছরও বর্ষার মরশুমে প্রায় তিন মাস ধরে লাগাতার ভাঙনে বিধ্বস্ত ছিল সামশেরগঞ্জের নতুন শিবপুর, প্রতাপগঞ্জ ও মহেশটোলা। এদিন বাজেটে আর্থিক বরাদ্দের কথা শুনে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। 
জঙ্গিপুরের তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, বারবার আমরা সংসদে এই ভাঙন রোধের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করি। কিন্তু, কেন্দ্র বরাবরই উদাসীন। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা বাংলার জন্য ভাবেন। তাই ভাঙন দুর্গতদের জন্য এবার বরাদ্দ বাড়িয়েছেন। ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা এই ঘোষণায় খুবই খুশি।
বিজে চাঁচণ্ড হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক, ভাঙন অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দা মিজাউর রহমান বলেন, রাজ্য সরকার ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বাজেটে রেখেছে, এটা এলাকাবাসীর জন্য ভালো খবর। এই বাজেটকে স্বাগত জানাচ্ছি। তবে এই ভয়াবহ ভাঙন রুখতে বৃহত্তর প্রজেক্ট দরকার। আগামী দিনে সেটাও হবে বলে আমরা আশাবাদী। এলাকাবাসীকে আর যেন অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগতে না হয়।
উত্তর চাচণ্ডের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ভাঙন রোধের স্থায়ী সমাধান চাই। পাথর দিয়ে পাকাপাকিভাবে গঙ্গার পাড় বাঁধানো হোক। 
মুর্শিদাবাদ উত্তর (জঙ্গিপুর) সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি ধনঞ্জয় ঘোষ বলেন, ভাঙনের কোনও কাজই হবে না। রাজ্যের বাজেটে যে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, তা আসলে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের পকেটে যাবে। মানুষের জন্য ভাবলে আরও বেশি টাকা বরাদ্দ করত সরকার। 
সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সোমনাথ সিংহরায় বলেন, প্রতিবছরই বাজেটে অর্থ বরাদ্দ হয়। বালির বস্তা ফেলা ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয় না। সাধারণ মানুষের দুর্দশা দূর হয় না।
সূতির বাসিন্দা তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা বলেন, আমরা আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। প্রতিবছর এই এলাকার বহু জমি গঙ্গা গিলে ফেলে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ভাঙন রোধে কোনও কাজ করে না। আমাদের রাজ্য সরকার চেষ্টা করছে, যাতে এলাকার মানুষকে স্বস্তি দেওয়া যায়। বহু ভূমিহারা মানুষকে জমির পাট্টা দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ