Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভিন রাজ্যে আলু পাঠানো রুখতে মন্ত্রীর অনুরোধে সতর্ক গ্রামবাসীরা  

ভিন রাজ্যে আলু পাঠানো রুখতে মন্ত্রীর অনুরোধে সতর্ক গ্রামবাসীরা
 
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ভিন রাজ্যে আলু পাঠানো রুখতে বদ্ধপরিকর রাজ্য সরকার। কড়াকড়ির পরেও ঝাড়গ্রামের সীমানা দিয়ে ভিন রাজ্যে আলু পাঠানোর অভিযোগে শোরগোল পড়ে যায়। গত বুধবার মন্ত্রী বেচারাম মান্না অভিযোগ খতিয়ে দেখতে  জামবনি ব্লকের সোনামুখী গ্ৰামে সারপ্রাইজ ভিজিট করেন। ভিন রাজ্যে আলু পাঠানো রুখতে গ্ৰামের বাসিন্দাদের সহযোগিতা চান। মন্ত্রীর নির্দেশ গ্ৰামের মানুষ আলু বোঝাই লরি রুখতে সজাগ থাকছেন। দিনরাত পাহারা দিচ্ছেন। 
Advertisement
ঝাড়গ্রাম শহর থেকে চিচিড়া যাবার পথে ৯ নম্বর রাজ্য সড়কের মাঝে পড়ে হিজলি মোড়। রাস্তার ডান দিকে বাঁক নিলেই জঙ্গলের ভিতর ছোট পিচ রাস্তা দিয়ে সোনামুখী, কুরারিয়া গ্ৰাম হয়ে ঝাড়খণ্ডে পৌঁছানো যায়। ঝাড়খণ্ড যাওয়ার ছোট ছোট এমন পথে পুলিসি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় গ্ৰামবাসীদের বক্তব্য, এই পথগুলো দিয়ে সারারাত লরি যাতায়াত করে। তবে লরিতে কী থাকে সে সম্বন্ধে তাঁদের কোনও ধারণা নেই। গত দু’ দিন ধরে হিজলি মোড় সহ সোনামুখী, কুরারিয়া, ঢেং বহেড়া সীমানা লাগায়ো রাস্তায় পুলিসের পাহারা বসানো হয়েছে। মন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে জামবনির জঙ্গলঘেরা গ্ৰামের বাসিন্দারাও আলুর গাড়ি রুখতে পাহারায় নেমে পড়েছেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতারাও গ্ৰামের বাসিন্দাদের সজাগ থাকতে বলছেন। সোনামুখী  গ্ৰামের বাসিন্দা বিশ্বেশ্বর মাহাত বলেন, সোনামুখী গ্ৰাম থেকে মোরাবাঁধি হয়ে ঝাড়খণ্ড যাওয়ার পথ মাত্র এক কিমি। গত দু’ দিন ধরে এই পথে পুলিস পাহারা রয়েছে। আমাদের গ্ৰামে এসে মন্ত্রী আলু পাঠানো রুখতে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। মন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে আমরা পাহারা দিচ্ছে। রাতেও সজাগ থাকছি। তবে গত দু’ দিনে এই পথে ছোটখাটো গাড়ি চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। জঙ্গল ঘেরা ছোট্ট গ্ৰাম কুরারিয়া‌। গ্ৰামের পাশেই ঝাড়খণ্ড রাজ্য। সীমানার রাস্তায় দু’ জন সিভিক ভলান্টিয়ার গত দু’ দিন ধরে পালা করে পাহারা দিচ্ছেন। 
স্থানীয় বাসিন্দা নারান হাঁসদা বলেন, চাষবাস করি। সন্ধের পর গ্ৰামের বাসিন্দারা ঘরে ঢুকে পড়েন। সারারাত গাড়ি যাতায়াতের শব্দ শুনতে পাই। গ্ৰামের রাস্তায় গত দু’ দিন ধরে পুলিস পাহারা দিচ্ছে দেখছি। তার কারণ আমরা জানি না। জামবনি ব্লক তৃণমূলের যুব সভাপতি হিমাংশু দত্ত বলেন, ব্লকের বড় রাস্তাগুলোর সঙ্গে ছোট ছোট রাস্তাগুলোতেও পুলিস নজরদারি চালাচ্ছে। কড়া নাকা চেকিং চলছে। গ্ৰামের বাসিন্দারাও পাহারা দিচ্ছেন। আমরা দলের ছেলেরা গ্ৰামবাসীদের সজাগ থাকার জন্য বলছি। স্বয়ং মন্ত্রী এসে গ্ৰামবাসীদের কাছে আলু পাঠানো রুখতে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই গ্ৰামের সাধারণ মানুষ উৎসাহের সঙ্গে পাহারায় নেমে পড়েছেন। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, সীমানা এলাকায় নাকা চেকিং চলছে। বড় রাস্তার সঙ্গে ছোট রাস্তাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় গ্ৰামবাসীদের সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ রেখে চলেছি।
সম্পর্কিত সংবাদ