নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও শিডিউল না মানার অভিযোগে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিলেন পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের সদস্য ও গ্রামের বাসিন্দারা। ওই কাজের ঠিকাদার আবার কৃষ্ণনগর শহরের তৃণমূল কাউন্সিলার। শুক্রবার চাপড়া ব্লকের ভীমপুর থানার কলিঙ্গ পঞ্চায়েতের মহতপুরে এই ঘটনা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার আওতায় ওই রাস্তা তৈরি হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েত সমিতির সংশ্লিষ্ট সদস্য ও কৃষ্ণনগরের ওই কাউন্সিলারের মধ্যে চাপানউতোর দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়ম না মেনে রাস্তা তৈরি হচ্ছিল। এভাবে কাজ হলে ওই রাস্তা বেশিদিন স্থায়ী হতো না। সেজন্য পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য বিশ্বদেব পাল দাঁড়িয়ে থেকে সেই কাজ বন্ধ করে দেন। যদিও প্রশাসন ও ঠিকাদারের দাবি, নিয়ম মেনেই রাস্তার কাজ হচ্ছে। এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক চন্দন সরকার বলেন, আমাদের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সেই রাস্তা পরিদর্শনে গিয়েছেন। সমস্ত নিয়ম মেনে কাজ করা হচ্ছে। অভিযোগ ভিত্তিহীন। ঠিকাদার তথা তৃণমূল কাউন্সিলার অয়ন দত্ত বলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে। ওই এলাকার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য বহুদিন ধরে কাজে বাধা দিচ্ছেন। যার ফলে কাজের গতি কমে যাচ্ছিল। এনিয়ে আমি ৩০ ডিসেম্বর প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। কলিঙ্গ পঞ্চায়েতের মহতপুর থেকে সাতঘাটা পর্যন্ত ৭.২১ কিলোমিটার রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। এজন্য ৪ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত বছর ১৪মে তারিখেই এই রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনও সেই কাজ শেষ করেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার। শুক্রবার সেই রাস্তার কাজ ফের শুরু হয়। তখন তাঁরা দেখেন, কাজের গুণগত মান খারাপ। সেজন্য কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য বিশ্বদেব পাল বলেন, বিক্ষোভ হয়েছে। কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আসলে নিয়ম মেনে রাস্তার কাজ হচ্ছিল না। উপর দিয়ে শুধু খোয়া দেওয়া হয়েছিল। জল পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়নি। সময়সীমা পেরোনোর এতদিন পরও কাজ শেষ করেনি। জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি আমাদের নজর এসেছে। যা নিয়ে ঠিকাদারকে চিঠি করা হয়েছে। কাজের গুণগত মানের সঙ্গে কোনওরকম আপস করা হবে না। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই রাস্তার কাজ শেষ করতে আমরা তৎপর হয়েছি।



