Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভীমপুর: খুনের পর কচুরিপানার মধ্যে ছাত্রীর ব্যাগ লুকিয়ে রেখেছিল ফারুক

ভীমপুর: খুনের পর কচুরিপানার মধ্যে ছাত্রীর ব্যাগ লুকিয়ে রেখেছিল ফারুক
  • ২৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: ভীমপুরে ছাত্রীকে খুনের পর তার ব্যাগ খালের কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে দিয়েছিল ধৃত প্রেমিক ফারুক মণ্ডল। জেরায় উঠে আসা সূত্র ধরে সেই ব্যাগটি উদ্ধার করেছে পুলিস। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কোদাল এবং একটি ডিঙাও। প্রেমিকার দেহ মাটিতে পুঁতে ফেলতে ওই কোদালটি ব্যবহার করেছিল ফারুক। আর ডিঙি নিয়ে দু’জনে পার হয়েছিল স্থানীয় কলিঙ্গ খাল। প্রথমে তারা ঠিক করেছিল খাল পেরিয়ে কলকাতা পালিয়ে যাবে। সেই মতো পরিকল্পনাও করে দু’জনে। একটি নির্জন জায়গায় শারীরিক সম্পর্কেও তারা লিপ্ত হয় বলে জেরায় ফারুক স্বীকার করেছে। এমনটাই তদন্তকারীদের দাবি। কিন্তু পরমুহূর্তে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে নির্মম, নৃশংস হয়ে ওঠে ফারুক। শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে প্রেমিকাকে। এদিন, ছাত্রীর দেহ কল্যাণী জেএনএমে ময়নাতদন্ত করা হয়। 
Advertisement
ঘটনার দিন থেকেই ছাত্রীর পরিবার দাবি জানিয়ে আসছিল, তাদের মেয়েকে জোর-জবরদস্তি করে বাড়ি থেকে তুলে এনেছিল ফারুক। পরে তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। কিন্তু ছাত্রীর ব্যাগ উদ্ধার হতেই সেই দাবি অনেকটা অসার হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। কেননা, ব্যাগের ভিতর ছাত্রীর একাধিক জামাকাপড়, কয়েকটি পরিচয়পত্র পাওয়া গিয়েছে। যা ইঙ্গিত করে স্বেচ্ছায় ছাত্রীটি বাড়ি ছেড়েছিল। জোর করে তুলে আনলে ব্যাগের ভিতর এতকিছু নেওয়ার সুযোগই পেত না সে। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার ডিএসপি শিল্পী পাল বলেন, ‘আমাদের বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে। যেগুলি নির্দিষ্ট করে ময়নাতদন্তে রিপোর্টে জানতে চাওয়া হয়েছে। রিপোর্ট এলেই খুনের ঘটনার বিভিন্ন দিক পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রীর ব্যাগ, একটি কোদাল, খাল পারাপারের একটি ডিঙা উদ্ধার করেছি।’
প্রেমিকাকে খুনের আগে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছে ধৃত ফারুক। কিন্তু, ঘটনার দিন সে একা ছিল নাকি বন্ধুদেরও সঙ্গে নিয়েছিল, তা এখন তদন্তকারীদের কাছে স্পষ্ট নয়। এদিকে ছাত্রীটির পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। তাতে একাধিকজন যুক্ত থাকতে পারে। এক্ষেত্রে তদন্তকারী এক অফিসারের বক্তব্য, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না এলে কিছু বলা সম্ভব নয়। রিপোর্টে তেমন প্রমাণ মিললে মূল মামলার সঙ্গে নতুন পকসো ধারা যোগ হবে। আপাতত খুন ও তথ্যপ্রমাণ লোপাটের ধারার ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। 
তদন্তে উঠে আসছে, নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর সঙ্গে ফারুকের প্রেমের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাড়ির লোক তার অন্যত্র বিয়ের ব্যবস্থা করলেও প্রেমের সম্পর্ক ভাঙতে চায়নি সে। বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হতেই ফারুককে সঙ্গে নিয়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। প্রেমিককে কলকাতায় যাওয়ার প্রস্তাব দেয় সে। তাতে রাজি হয়নি ফারুক। বারবার ফোন করে জোরাজুরি করতে থাকে।  শেষে  হাফপ্যান্ট পরেই আদাপোতা গ্রামে যায়। এই গ্রামে বাড়ি ছাত্রীটির। ফারুক এলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে সে। এরপর ডিঙায় চেপে খাল পার করে দু’জনে। জঙ্গলের ভিতর একটি নির্জন জায়গায় গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে তারা। তদন্তকারীদের ধারণা, ছাত্রীটি ফারুককে বিয়ে করতে একপ্রকার নাছোড়ই ছিল। কিন্তু ফারুক চাইছিল না। তাই শেষ মুহূর্তে ফারুক তাকে জীবন সরিয়ে দিতে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয়।  
সম্পর্কিত সংবাদ