Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভূমি দপ্তরের সক্রিয়তা সত্ত্বেও ঝাড়গ্রামে পুকুর ভরাট চলছেই

ভূমি দপ্তরের সক্রিয়তা সত্ত্বেও ঝাড়গ্রামে পুকুর ভরাট চলছেই
  • ৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম শহর ও শহর লাগোয়া এলাকায় পুকুর ভরাট চলছেই। পাড় ভরাটের নাম করে সুকৌশলে পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। পুকুর, খাল ও জলাশয় ভরাট করে বাড়ি, আবাসন তৈরি হচ্ছে। জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য ক্রমাগত বাড়ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য হারানো নিয়ে শহরবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। 
Advertisement
সম্প্রতি জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর পুকুর ও জলা ভরাট নিয়ে সক্রিয় হয়েছে। ভরাট হয়ে যাওয়া পুকুরকে পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে দিতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তারপরেও পাড় ভরাটের নামে পুকুর ভরাট চলছেই। সম্প্রতি ঝাড়গ্রাম পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন ঝাড়গ্রামে একটি পুকুর ভরাটের ঘটনা সামনে এসেছে। পুকুর ভরাটের পিছনে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদত আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে পুকুর ভরাট নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। শুক্রবার ভূমি ও ভমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর ভরাট বন্ধের নির্দেশ দেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বেআইনি পুকুর ভরাটের খবর প্রশাসনের কাছে পৌঁছচ্ছে না। জমি মাফিয়া, প্রভাবশালীদের ভয়ে স্থানীয় মানুষ চুপ করে থাকছেন। পুরসভার গাইঘাটা, পুরাতন ঝাড়গ্রাম সহ জনবহুল ওয়ার্ডে পুকুর বুজিয়ে বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। শহরের একলব্য সরণির ধারে ছোট ক্যানেল কৌশলে ধীরে ধীরে বোজানো হচ্ছে। ভূমি দপ্তরের তৎপরতায় অবশ্য বেশ কয়েকটি পুকুর রক্ষা পেয়েছে। বাছুরডোবার এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের নামো পাড়ায় একটি পুকুর মোরাম দিয়ে ভরাট করা হয়।  ভূমি সংস্কার দপ্তরে অফিসাররা এসে ভরাট করা বন্ধ করে দেয়। জামদা এলাকায় আড়াই বিঘা একটি পুকুর ভরাট করা হয়েছিল। প্রশাসনের নির্দেশে সেই মাটি তোলা হচ্ছে। দু’-একটি বাদ দিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুকুর, জলাশয় বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে। প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, জমি মাফিয়া ও প্রভাবশালীদের মদতেই এই কারবার চলছে। জেলা হওয়ার পর থেকে  শহরের জমির চাহিদা ঊর্দ্ধমুখী। জমির দামও আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে।  পুকুর, জলাশয়, খালের দিকে এবার নজর পড়েছে জমি হাঙরদের। একই জমি কয়েকবার হাত বদল হয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের পাট্টা জমিও রেহাই পাচ্ছে না মাফিয়াদের কবল থেকে। ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) লক্ষ্মণ পেড়োমল বলেন, বেআইনি পুকুর ভরাটের খবর পেলেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে বেআইনি পুকুর ভরাট করার অভিযোগ এসেছিল। আধিকারিকরা গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। শহরের ঘোড়াধরা এলাকার বাসিন্দা সৌম্যদীপ্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, একসময়ে এই শহর ও শহর লাগোয়া এলাকায় শতাধিক পুকুর ছিল। তার বেশিরভাগই এখন নেই। যেগুলো আছে সেগুলো বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে। বৃক্ষরোপণ নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু পুকুর ও জলাশয় রক্ষা নিয়ে কোনও উদ্যোগ দেখা যায় না।
সম্পর্কিত সংবাদ