Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভূমি আধিকারিকের আটপৌরে জীবনযাপনে অবাক প্রতিবেশীরা

ভূমি আধিকারিকের আটপৌরে জীবনযাপনে অবাক প্রতিবেশীরা
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বালুরঘাট: সাধ্য থাকতেও এত অনাড়ম্বর, আটপৌরে জীবন কাটানো যায়! ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের রাজস্ব আধিকারিক। বেতন প্রায় লাখ টাকা। অথচ কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে এসেও বাড়িতে নেননি বিদ্যুত্ সংযোগ। রান্না করেন খড়ির আগুনে। নেই গ্যাস, বাইক, চারচাকা। থাকেন মাটির বাড়িতে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর মহকুমার ভূমি দপ্তরে কর্মরত রেভিনিউ অফিসার অনুপ মুখোপাধ্যায়ের এমন সাধাসিধে জীবনযাপনে অবাক সহকর্মী থেকে শুরু করে প্রতিবেশীরাও। দীর্ঘদিন ধরে অনুপবাবুকে দেখছেন পার্থ সরকার। তাঁর কথায়, ছোট থেকেই এভাবে দেখছি। এত বড় চাকরি করেও কীভাবে এমন সাধাসিধে থাকেন দেখে অবাক লাগে।
Advertisement
বালুরঘাট ব্লকের পতিরামের বাহিচার বাসিন্দা অনুপবাবুর বাবা শিরেশ মুখোপাধ্যায় ছিলেন কৃষক। দুই ভাই, এক বোনের সংসারে কষ্টের মধ্যে মানুষ। বোনের বিয়ে দেওয়ার পর অনুপবাবু হারিয়েছেন বাবা ও এক ভাইকে। অকৃতদার অনুপবাবু ২০০৭ সালে ভূমি দপ্তরের রেভেনিউ অফিসার হিসেবে চাকরি পান। তবে জীবনযাপনে কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাবার বানানো মাটির বাড়িতে থাকেন। প্রথমে পরিকল্পনা করেছিলেন শহরে জায়গা কিনে বাড়ি করে থাকবেন। কিন্তু জায়গা না পাওয়ায় সেই ইচ্ছা আর পূরণ হয়নি।  এখনও কুপির আলোতেই সন্ধ্যের পরে যাবতীয় কাজ করেন। কোনও দিন নিজেই খড়ি দিয়ে রান্না করেন, না হলে হোটেলে খান। মোবাইল চার্জ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করেন পাওয়ার ব্যাঙ্ক। সেটা চার্জ করে আনেন অফিস থেকে। পানীয় জলের ক্ষেত্রে ভরসা পিএইচইর জল। মার্চে অবসর নেবেন এই আধিকারিক। তাঁর কথায়, আমি বিয়ে করিনি। একাই থাকি। শহরে বাড়ি করার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু হয়ে ওঠেনি। বাড়িতে অনেক বাঁশ রয়েছে, সেগুলি দিয়েই রান্না হয়ে যায়। এভাবে দিব্যি জীবন কেটে যাচ্ছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ