শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ভোটে ভরাডুবির পর দিশেহারা বিজেপি। ঘাসফুলের বিজয়রথ রুখে দেওয়ার সব কৌশলই একে একে ব্যর্থ হচ্ছে তাদের। এর মধ্যেই জেলা নেতৃত্বকে আরও চাপে ফেলে মুখ খুলতে শুরু করেছেন পরাজিত বিজেপি প্রার্থীরা। তাতে আরও বেশি করে প্রকট হচ্ছে গেরুয়া শিবিরের কাদা ছোড়াছুড়ি।
Advertisement
জেলা নেতৃত্বের উপর খড়্গহস্ত হয়ে পরাজিত প্রার্থীরা একযোগে এখন বলছেন, নেতাদের অকর্মণ্যতায় গোহারা হয়েছে দলের। লোকসভা ভোটে কাঁথি ও তমলুকে জয়ের পর সংগঠনে নজর দেওয়া হয়নি। এমনকী, দলের সদস্য সংগ্রহ অভিযান চূড়ান্ত ফ্লপ হওয়ার পরও নেতৃত্ব সতর্ক হয়নি। তার উপর দিন যত গড়িয়েছে, বেড়েছে গোষ্ঠদ্বন্দ্ব। তাতে সংগঠনের হাল ক্রমেই বেহাল হয়েছে। উদাসীন থেকেছে নেতৃত্ব। এই এতগুলি কারণই কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে শোচনীয় পরাজয়ের পিছনে অনুঘটকের কাজ করেছে বলে হেরো প্রার্থীদের দাবি।
বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য প্রশান্ত পণ্ডা ভগবানপুর-২ ব্লক এলাকা থেকে কাঁথি সমবায়ের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে ভগবানপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ছিলেন। পরাজিত হয়েছেন প্রশান্তবাবু। তারপরই বিস্ফোরক কাঁথি আদালতের বিশিষ্ট এই আইনজীবী। বলেছেন, ‘কাঁথি সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ছে। নেতৃত্ব একেবারে নিষ্ক্রিয়। সমবায়ের ভোটে সেভাবে প্রচার চালানো হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আধা সেনা থেকে সিসি টিভির বন্দোবস্ত থাকার পরও এই রেজাল্টে কর্মী-সমর্থকরা হতাশ।’
মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ রঘুনাথ পণ্ডা ‘দাদার অনুগামী’ বলে পরিচিত। ২০২০ সালে তিনি sবিজেপিতে যোগ দেন। দীর্ঘদিন সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রঘুনাথবাবু কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। পরাজয়ের তাঁর গলায় হতাশার সুর। তিনি বলেন, ‘এই সমবায় ভোটে দলের পক্ষ থেকে যেভাবে প্রচার চালানো প্রয়োজন ছিল, তার সিকিভাগও হয়নি। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে পঞ্চায়েত এবং লোকসভা ভোটে কিছুটা ভালো ফল করার পর কর্মীদের মধ্যে অহঙ্কার এসে গিয়েছিল। অথচ, দলের যসাফল্য এসেছিল নেতিবাচক ভোটে। সমবায় নির্বাচনে সেটা ফ্যাক্টর হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই সমবায়ের ভোটে প্রচারে জোর আনতে হতো। সাংগঠনিক ক্ষমতাকে কাজে লাগানোর প্রয়োজন ছিল। কোনওকারণে সেটা ঠিকমতো হয়নি। কিছুক্ষেত্রে দলের মধ্যে লবিবাজিও হয়েছে। সুযোগ বুঝে তৃণমূল কয়েকটি জায়গায় ছাপ্পাও মেরেছে। সব মিলিয়ে বিজেপি প্রার্থীদের পরাজয় ঘটেছে।’
কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের বোর্ড দখলকে পাখির চোখ করে বার বার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে পদ্মপার্টি। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে পাঁচটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে আধা সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। ওই পাঁচ জায়গায় ভোটারদের বাড়ি থেকে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করেছিল কো-অপারেটিভ ইলেকশন কমিশন। ১৪টি নির্বাচনী কেন্দ্রে ৩০০ সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। এই সমবায় ভোট পরিচালনা করতে প্রায় এক কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আদালতের নির্দেশে সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা এবং পাঁচ জায়গায় ভোটারদের বাড়ি থেকে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে আনার ব্যবস্থা করতে খরচের বহর বেড়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার আধা সেনা দিয়ে সমবায় ভোট হলেও বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতায় বোর্ড গঠনের ধারেকাছেও যেতে পারেনি।
বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা সমবায় ভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, ‘সাংগঠনিকভাবে এই ভোটে লড়াই করা হয়নি। দলের পক্ষ থেকে এই ভোট নিয়ে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। যেকারণে বিরোধী দলনেতা নিজেও ভোট দিতে যাননি। প্রার্থী তালিকা তৈরিতেও দলের হস্তক্ষেপ সেভাবে ছিল না। যাঁরা এই রেজাল্ট নিয়ে জেলা নেতৃত্বকে টার্গেট করছেন, তাঁদের কাউকে দলের থেকে প্রার্থী করা হয়নি।
তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি পীযূষকান্তি পণ্ডা বলেন, হেরে যাওয়ার পরও অনেকে অজুহাত খাঁড়া করে। বিজেপিও তাই করছে। আধা সেনা দিয়ে ভোট হয়েছে। তাহলে ছাপ্পার প্রসঙ্গ আসছে কোথা থেকে?বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য প্রশান্ত পণ্ডা ভগবানপুর-২ ব্লক এলাকা থেকে কাঁথি সমবায়ের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে ভগবানপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ছিলেন। পরাজিত হয়েছেন প্রশান্তবাবু। তারপরই বিস্ফোরক কাঁথি আদালতের বিশিষ্ট এই আইনজীবী। বলেছেন, ‘কাঁথি সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ছে। নেতৃত্ব একেবারে নিষ্ক্রিয়। সমবায়ের ভোটে সেভাবে প্রচার চালানো হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আধা সেনা থেকে সিসি টিভির বন্দোবস্ত থাকার পরও এই রেজাল্টে কর্মী-সমর্থকরা হতাশ।’
মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ রঘুনাথ পণ্ডা ‘দাদার অনুগামী’ বলে পরিচিত। ২০২০ সালে তিনি sবিজেপিতে যোগ দেন। দীর্ঘদিন সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রঘুনাথবাবু কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। পরাজয়ের তাঁর গলায় হতাশার সুর। তিনি বলেন, ‘এই সমবায় ভোটে দলের পক্ষ থেকে যেভাবে প্রচার চালানো প্রয়োজন ছিল, তার সিকিভাগও হয়নি। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে পঞ্চায়েত এবং লোকসভা ভোটে কিছুটা ভালো ফল করার পর কর্মীদের মধ্যে অহঙ্কার এসে গিয়েছিল। অথচ, দলের যসাফল্য এসেছিল নেতিবাচক ভোটে। সমবায় নির্বাচনে সেটা ফ্যাক্টর হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই সমবায়ের ভোটে প্রচারে জোর আনতে হতো। সাংগঠনিক ক্ষমতাকে কাজে লাগানোর প্রয়োজন ছিল। কোনওকারণে সেটা ঠিকমতো হয়নি। কিছুক্ষেত্রে দলের মধ্যে লবিবাজিও হয়েছে। সুযোগ বুঝে তৃণমূল কয়েকটি জায়গায় ছাপ্পাও মেরেছে। সব মিলিয়ে বিজেপি প্রার্থীদের পরাজয় ঘটেছে।’
কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের বোর্ড দখলকে পাখির চোখ করে বার বার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে পদ্মপার্টি। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে পাঁচটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে আধা সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। ওই পাঁচ জায়গায় ভোটারদের বাড়ি থেকে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করেছিল কো-অপারেটিভ ইলেকশন কমিশন। ১৪টি নির্বাচনী কেন্দ্রে ৩০০ সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। এই সমবায় ভোট পরিচালনা করতে প্রায় এক কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আদালতের নির্দেশে সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা এবং পাঁচ জায়গায় ভোটারদের বাড়ি থেকে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে আনার ব্যবস্থা করতে খরচের বহর বেড়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার আধা সেনা দিয়ে সমবায় ভোট হলেও বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতায় বোর্ড গঠনের ধারেকাছেও যেতে পারেনি।
বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা সমবায় ভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, ‘সাংগঠনিকভাবে এই ভোটে লড়াই করা হয়নি। দলের পক্ষ থেকে এই ভোট নিয়ে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। যেকারণে বিরোধী দলনেতা নিজেও ভোট দিতে যাননি। প্রার্থী তালিকা তৈরিতেও দলের হস্তক্ষেপ সেভাবে ছিল না। যাঁরা এই রেজাল্ট নিয়ে জেলা নেতৃত্বকে টার্গেট করছেন, তাঁদের কাউকে দলের থেকে প্রার্থী করা হয়নি।



