সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বিকল্প রাস্তা বলতে প্রায় ২৭ কিমি ঘুরপথ। তাই বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের সুবিধার্থে স্থানীয় পঞ্চায়েতের উদ্যোগে আট বছর আগে নদীর উপরে কজওয়ে তৈরি করা হয়। তারপর আর ফিরেই তাকায়নি পঞ্চায়েত। এরমধ্যে ফিবছর বর্ষায় নদী ফুলেফেঁপে উঠে কজওয়ের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে প্রচুর জল। ফলে জায়গায় জায়গায় কজওয়ের ঢালাই ভেঙে বড় ফাটল ও গর্ত তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সেটি বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রায়ই কেউ না কেউ কজওয়ে পেরতে গিয়ে নদীগর্ভে পড়ে আহত হচ্ছেন। কিন্তু কজওয়ে মেরামতে উদ্যোগীই হয়নি প্রশাসন। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে মানুষের। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, নলহাটি ১ ব্লকের সোনারকুণ্ড, বাউটিয়া, জুঙ্গল সহ ২০টির বেশি গ্রামের মানুষের মহকুমা শহর রামপুরহাটের সঙ্গে যোগাযোগ মাধ্যম বলতে নলহাটি শহর হয়ে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক। আরেকটি হল, এই ব্লকের উদয়নগর গ্রামের কাছে ব্রাহ্মণী নদীর ব্রিজ পেরিয়ে কুসুম্বা, আয়াস গ্রাম হয়ে রামপুরহাট, যা অনেকটা দূরপথ।
Advertisement
২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে স্থানীয় বাউটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে সোনারকুণ্ড গ্রামের কাছে ১০০ মিটার লম্বা, ৮ ফুট চওড়া ও ৫ ফুট উচ্চতার কংক্রিটের কজওয়ে নির্মাণ করা হয়, যা রামপুরহাট শহরের সঙ্গে ওই সমস্ত গ্রামের দূরত্ব অনেক কমে যায়। বাইক, সাইকেল তো বটেই, চারচাকা গাড়ি, ট্রাক্টর সবই পারাপার হওয়ায় মানুষের অনেকটা সুবিধা হয়। সেই সঙ্গে জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে নলহাটি ও রামপুরহাট শহরের বহু মানুষের কাছে এই কজওয়ে বিকল্প পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও প্রতিবছর বর্ষায় নদী ফুলেফেঁপে ওঠায় কজওয়ে জলের তলার চলে যায়। তখন সেই ঘুরপথই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় এলাকার মানুষের কাছে। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় কজওয়ে বেহাল হয়ে পড়েছে। কংক্রিটের অংশ উঠে গিয়ে কোথাও ভেঙে পড়েছে, কোথাও আবার বসে গিয়ে গর্তে পরিণত হয়েছে। ফলে কজওয়ের উপর দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে। অনেকে আবার নদীতে পড়ে আহত হচ্ছেন। পঞ্চায়েত থেকে প্রশাসনিক কর্তাদের অনেকেই এই কজওয়ে ব্যবহার করলেও তাঁরা উদাসীন। কজওয়েটির বেহাল দশার কথা স্বীকার করে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধান শ্যামলী লেট বলেন, কজওয়ে নির্মাণের পর আর কোনও সংস্কার হয়নি। পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে কজওয়েটি সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছি।



