Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভালো খেজুর রসের অপেক্ষায় শিউলিরা, জমছে গুড়ের হাট

ভালো খেজুর রসের অপেক্ষায় শিউলিরা, জমছে গুড়ের হাট
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: শীতকাল এলেই চাহিদা বাড়ে খেজুর গুড়ের। কিন্তু বাজারের গুড়ে মন ভরে না। এমনিতে ভেজাল গুড়ের মাঝে ভালো গুড়ের সন্ধান পাওয়া দুরূহ ব্যাপার, তার উপর জমিয়ে শীত না পড়ায় খেজুর গুড়ের জন্য ভালো রস পাওয়া যাচ্ছে না। তাই খেজুর গুড়ের জন্য রস সংগ্রহকারী শিউলিরাও পড়েছেন সমস্যায়। তার মধ্যেই বাজারে আসা গুড়ে মিশছে আলু, পোড়া চিনি। জানা যায়, রাজ্যের পুরনো বিখ্যাত খেজুর গুড়ের হাটগুলির মধ্যে অন্যতম মাজদিয়ার গুড়ের হাট। খেজুর গুড়ের মরশুমে ৫০০-র বেশি শিউলি এখানে তাঁদের গুড় নিয়ে আসেন। এছাড়া এই সময় ভাজনঘাট থেকে মাজদিয়া বাসস্ট্যান্ড ছাড়িয়ে প্রায় ৪০০ মিটার রাস্তার ধার পর্যন্ত সাইকেলে গুড় নিয়ে শিউলিরা দাঁড়ান। গুড়ের এই মাস চারেকের মরশুমের বাড়তি টাকা শিউলিরা গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয় করেন। তাই শীতকালে খেজুর গুড়ের মরশুম এলে শিউলিদের মন খুশিতে ভরে ওঠে। 
Advertisement
কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের মাজদিয়ায় বিখ্যাত খেজুর গুড়ের হাট রয়েছে। তাই গোটা ব্লকে শিউলি থেকে গুড় ব্যবসায়ীর সংখ্যা মিলিয়ে কয়েক হাজার। এই শিউলিদের অধিকাংশই বিখ্যাত মাজদিয়ার গুড়ের হাটে বসেন। বাঙালির ঘরে ঘরে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পিঠেপুলির সময় এলে এই খেজুর গুড় বা নলেন গুড়ের প্রয়োজন হয়। মাজদিয়া গুড়ের হাটে গত বছর নলেন গুড় কিলো প্রতি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। পাটালি গুড় ২০০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হয়েছিল। প্রতি বছর কার্তিক মাসের শুরু থেকে শিউলিরা খেজুর গাছের রস পাই। প্রতি সপ্তাহে ভালো খেজুর গাছ থেকে চারবার পর্যন্ত রস নেওয়া যায়। তারপরে গাছের একটু বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। রসে শর্করার পরিমাণ যাতে বাড়ে, সেজন্যই এই বিশ্রাম দিতে হয়। জানা যায়, কালীপুজোর পরই শিউলিরা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতি নিত। সেই মতো গাছ ঝুড়ানোর ব্যবস্থা করত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছেন কৃষ্ণগঞ্জের শিউলিরা। ১টি খেজুর গাছ থেকে গড়ে প্রতিদিন ৭ লিটারের মতো রস পাওয়া যায়। কিন্তু এখন গাছ থেকে মিলছে ২ থেকে আড়াই কেজি রস, যা তুলনায় অর্ধেক। ৮ থেকে ১০ লিটার রস জ্বাল দিয়ে ১ কেজির মতো গুড় হয়। এর সঙ্গে জ্বালানি খরচ আছে। 
সব মিলিয়ে ভালো গুড়ের জন্য পাইকারি দাম ২৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পড়ে যায়। কিন্তু ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরেও খেজুর গুড় পাওয়া যাচ্ছে। এই দামে খাঁটি খেজুর গুড় কীভাবে দেওয়া সম্ভব? প্রশ্ন তুলছেন গুড় ব্যবসায়ীরা। তাই স্বীকার না করলেও বোঝা যায়, বাধ্য হয়ে গুড় ব্যবসায়ীরা ভেজাল মেশান। গেদে এলাকায় ১০০ খেজুর গাছ রয়েছে রাম বিশ্বাসের। তাঁরা সবে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, এখন গাছ থেকে অর্ধেক রস হচ্ছে। ভালো ঠান্ডা পড়লে এই রস ৭ কেজি পর্যন্ত হয়। সেই রসও অনেক ভালো হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ