Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভিক্ষুকের নামে সিম কিনে নাবালিকার পরিবারকে হুমকি, হরিশ্চন্দ্রপুরে শিশুকন্যা অপহরণ কাণ্ড

ভিক্ষুকের নামে সিম কিনে নাবালিকার পরিবারকে হুমকি, হরিশ্চন্দ্রপুরে শিশুকন্যা অপহরণ কাণ্ড
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: শিশুকন্যা অপহরণ কাণ্ডে নতুন তথ্য সামনে এল। ধৃত দুই অপহরণকারী যুবকের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বৃদ্ধ ভিক্ষুকের নামে নেওয়া সিম কার্ড। সেই সিম ব্যবহার করে অপহরণকারীরা হুমকি মেসেজ পাঠিয়েছিল বলে দাবি করলেন হরিশ্চন্দ্রপুরের সালালপুরে অপহৃতার বাবা। সেই মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করেই গত শনিবার অপহরণের ছয় ঘণ্টার মধ্যে দুই অপহরণকারীকে উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘি থানার টুঙ্গিদিঘি ট্রাফিক পুলিসের সাহায্যে গ্রেপ্তার করে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিস। উদ্ধার করা হয় শিশুকন্যাকে। তার বাবা বলেন,অপহরণের ঘণ্টাখানেক পর আমার কাছে অজানা নম্বর থেকে ফোন আসে। কল কেটে যাওয়ার পর কয়েকবার করলেও কেউ রিসিভ করেনি। পরে তারা হিন্দিতে মেসেজ করে হুমকি দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেয়। পুলিসকে জানানোর পর তারা বৃদ্ধের নাম জানতে পারে। আধঘণ্টার মধ্যে পুলিস বৃদ্ধ ও সিম বিক্রেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল।
Advertisement
পুলিস সূত্রে খবর, অপহরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শিশুর বাবার দুই বন্ধু মনসুর আলম ও এজাজ আহমেদকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুরের গাঙ্গনদীয়া গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই অপহরণের ছক কষেছিল বলে খবর। স্থানীয় সূত্রে খবর,আট মাস আগে দুই যুবক কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের জয়বাংলা এলাকার এক বৃদ্ধ ভিক্ষুকের বাড়িতে যায়। তাঁকে বাড়ি ও ভাতা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে আধার কার্ড হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। বৃদ্ধকে বাইকে করে নিয়ে গিয়ে তুলসীহাটা এলাকার এক মোবাইল দোকান থেকে তাঁর ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আধার কার্ড দিয়ে নতুন সিম কার্ড তোলে তারা। সেই সিমকার্ড অপহরণকারীরা নিজেদের মোবাইলে ব্যবহার করত। তারপর এই অপহরণ কান্ড। সেই বৃদ্ধ ভিক্ষুক বলেন, আমি ও স্ত্রী ভিক্ষা করে খাই। কম শুনতে পাই। ভালো করে দেখতেও পাই না। জরাজীর্ণ কাঁচা ঘরে বাস করছি। আট মাস আগে ওই দুই যুবক আমার বাড়িতে আসে। ঘর ও ভাতা করিয়ে দেওয়ার নাম করে আধার কার্ড হাতিয়ে নেয়। জরাজীর্ণ বাড়ির সামনে দাঁড় করিয়ে আমার ছবি তোলে তারা। এরপর আমাকে বাইকে করে তুলসীহাটায় মোবাইলের দোকানে নিয়ে যায়। আমার আধার কার্ড ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে তারা একটি সিম কার্ড তুলেছে।‌ এরপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বলে বাড়ি ও ভাতা হলে জানিয়ে দেবে। অপহরণ হওয়ার সন্ধ্যায় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিস আমাকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। সমস্ত বিষয়টি পুলিসকে জানিয়েছি।
যে দোকান থেকে সিম নেওয়া হয়েছিল, তার মালিক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, রাজু ও এজাজ আট মাস আগে এক বৃদ্ধকে নিয়ে আমার দোকানে আসে। তাঁর আধার কার্ড ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে একটি সিম কার্ড নিয়েছিল তারা। আমি জিজ্ঞেস করলে এজাজ বলে, বৃদ্ধর ভাতার জন্য আবেদন করব বলে মোবাইল নম্বর প্রয়োজন। ঘটনার সন্ধ্যায় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিস থানায় ডেকে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সিম দেওয়ার বিষয়টি তাদের জানিয়েছি। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি মনোজিৎ সরকার বলেন, ধৃতদের ১৪ দিনের পুলিসি হেফাজত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে
সম্পর্কিত সংবাদ