Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভেজাল মশলা কারখানায় হানা, গ্রেপ্তার ৪

ভেজাল মশলা কারখানায় হানা, গ্রেপ্তার ৪
  • ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: শুক্রবার অভিযান চালিয়ে পূর্বস্থলীর খড়দত্তপাড়া গ্রামে ভেজাল মশলা তৈরির কারবারের পর্দাফাঁস করল এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশিয়ে ভেজাল মশলা তৈরি করা হচ্ছিল। ওই ভেজাল মশলা প্যাকেট বন্দি করে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছিল। আমচুর, হলুদ, লঙ্কা, জিরে গুঁড়ো সহ আরও অনেক মশলা তৈরি করা হয় এসব কারখানায়। এদিন একটি কারখানার মালিক সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সামিরুল শেখ, কেষ্ট সিংহ, মনিরুল শেখ ও সাহামল শেখ। এদিন কালনা মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। 
Advertisement
পূর্বস্থলী থানার খড়দত্তপাড়া, হাঁফানিয়া গ্রাম গুলি জুড়ে মশলা তৈরির অনেক কারখানা রয়েছে। সেখানে প্রতিদিন প্রচুর গুঁড়ো মশলা তৈরি হয়। তারপর তা প্যাকেট বন্দি হয়ে কলকাতা, বিহার, ঝাড়খণ্ড এলাকায় পাঠানো হয়। অভিযোগ, বেশ কয়েকটি মশলা কারখানায় নানা রাসায়নিক মিশিয়ে গুঁড়ো মশলা তৈরি করা হয়। এমনকী, শিল্পের জন্য ব্যবহৃত রঙ মিশিয়েও মশলা তৈরি হয়। এছাড়াও নানা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। 
বৃহস্পতিবার পূর্বস্থলী-২ ব্লকের পিলা পঞ্চায়েতের খড়দত্ত পাড়ায় একটি মশলা কারখানায় হানা দেয় পূর্ব বর্ধমান জেলা এনফোর্সমেন্ট শাখার অফিসাররা। তাঁদের সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের ফুড সেফটি ও পূর্বস্থলী থানার পুলিসও ছিল। এলাকায় সামিরুল শেখের বাড়ি লাগোয়া মশলা কারখানায় হানা দেয়। সেখানেই ভেজাল মশলা তৈরি হচ্ছিল। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কারখানায় ১৮ রকম মশলা তৈরি হচ্ছিল। সেসব মশলার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে পরীক্ষার জন্য। নষ্ট হয়ে যাওয়া গোটা মশলা বাজার থেকে কিনে আনা হয়। তারপর তা পেষাই করে কেমিক্যাল মিশিয়ে বিভিন্ন নামী কোম্পানির প্যাকেটে ভরা হয়। এরপর তা বাজারে সাপ্লাই করা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ওই ধরনের মশলা মূলত রাস্তার ধারে নানা হোটেলে ব্যবহৃত হয়। এসব মশলা বিষের সমান। শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধতে পারে। বাকি ধৃতরা সামিরুলের কারখানায় কাজ করত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বস্থলীজুড়ে গুঁড়ো মশলার কারখানা কার্যত কুটির শিল্পে পরিণত হয়েছে। বহুবার পুলিস সেখানে হানা দিয়েছে। বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। তবুও এই কারবার বন্ধ করা যাচ্ছে না। ভেজাল মশলার কারখানা করে অনেকে ফুলে ফেঁপে উঠছেন। মশলা কারখানা করতে গেলে ফুড সেফটি দপ্তরের লাইসেন্স রাখতে হয়। তাছাড়াও অনেক দপ্তরের বৈধ নথির দরকার হয়। অভিযোগ, এসবের তোয়াক্কা না করেই পূর্বস্থলীজুড়ে ভেজাল মশলার কারবার ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে।  
সম্পর্কিত সংবাদ