নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: শুধু দাম কম হওয়াই নয়, ভেজালের দাপটে কৌলীন্য হারাতে বসেছে স্বাদ ও সুগন্ধে ভরা তুলাইপাঞ্জি চাল। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ জেলার সাধারণ ক্রেতা থেকে চাল ব্যবসায়ী, কৃষকমহল। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বছর বছর তলানিতে নামছে উৎপাদন। এরপরও কীভাবে হাটেবাজারে সারা বছর মিলছে জিআই ট্যাগ পাওয়া তুলাইপাঞ্জি? যদিও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, তুলাইপাঞ্জিতে ভেজাল নিয়ে কোনও লিখিত অভিযোগ তাঁদের কাছে জমা হয়নি।
Advertisement
মোহিনীগঞ্জের রামবাহাদুর মাহাতো সহ কয়েকজন চাল ব্যবসায়ী ও কৃষকরা জানালেন, ভেজাল বানানোর ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে তুলাইপাঞ্জির সঙ্গে মেশানো হয় ঝিরা বা শোভা চাল। সঙ্গে স্প্রে করা হয় সুগন্ধিও। যা খোলা বাজারে আসল তুলাইপাঞ্জি বলে দেদার বিক্রি হয়। রান্নার সময় ওই চাল একবার জলে ধুলেই গন্ধ নষ্ট হয়ে যায়। রাম বাহাদুরের কথায়, ৩০ বছর ধরে শুধুমাত্র তুলাইপাঞ্জি চাল বিক্রি করি। গত কয়েক বছরের যা ট্রেন্ড, তাতে তুলাইপাঞ্জির উৎপাদন যথেষ্ট নিম্নমুখী। কৃষকরা উৎপাদন কমিয়ে দিলেও আসলের মতো দামেই বছরভর বাজারে তুলাইপাঞ্জি চাল পাওয়া যায়। এর থেকেই স্পষ্ট, বেশিরভাগ বাজারজাত তুলাইয়ের গুণগত মান যথাযথ নয়। তুলাইপাঞ্জি নিয়ে ক্ষোভের সুর রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনু বন্ধু লাহিড়ী গলাতেও। তাঁর কথায়, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হয়। সেজন্য সরকারি উদ্যোগে উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। তবে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে সারা বছর কীভাবে বাজারে তুলাইপাঞ্জি চাল পাওয়া যায় তা নিয়ে। এমনকী সুগন্ধি স্প্রে করা ভেজাল তুলাইপাঞ্জি নিয়েও অনেকে অভিযোগ জানান। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর সহ প্রশাসনেরও বিষয়টি দেখা উচিত। না হলে দিনদিন তুলাইপাঞ্জি তার কৌলীন্য হারাবে। প্রশাসনিক উদ্যোগ না থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এই চালের সুনাম চিরতরে নষ্ট হবে।
মোহনবাটি বাজারের চাল ব্যবসায়ী দশরথ পোদ্দারের দাবি, কেজি প্রতি ২০০ টাকা দিলেও এক নম্বর মানের তুলাইপাঞ্জি চাল পাওয়া কঠিন। তাঁর যুক্তি, আগে গোবর সার ব্যবহার করে তুলাইপাঞ্জি চাষ হতো। এখন রাসায়নিক সার বেশি ব্যবহার হওয়ায় স্বাদ ও সুগন্ধ চলে গিয়েছে। চাষিরাও উত্পাদন কমিয়ে দিয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে বাড়িতে যতটুকু প্রয়োজন, সেটুকুই তাঁরা চাষ করছেন। এরপরও ১২০ টাকা কেজিতে তুলাইপাঞ্জি মিলছে রায়গঞ্জের মোহনবাটি সহ বিভিন্ন চালের দোকানে। উত্পাদন কমে যাওয়া সত্ত্বেও চালের এতো যোগান থাকায় সেসব কতটা খাঁটি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
মোহনবাটি বাজারের চাল ব্যবসায়ী দশরথ পোদ্দারের দাবি, কেজি প্রতি ২০০ টাকা দিলেও এক নম্বর মানের তুলাইপাঞ্জি চাল পাওয়া কঠিন। তাঁর যুক্তি, আগে গোবর সার ব্যবহার করে তুলাইপাঞ্জি চাষ হতো। এখন রাসায়নিক সার বেশি ব্যবহার হওয়ায় স্বাদ ও সুগন্ধ চলে গিয়েছে। চাষিরাও উত্পাদন কমিয়ে দিয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে বাড়িতে যতটুকু প্রয়োজন, সেটুকুই তাঁরা চাষ করছেন। এরপরও ১২০ টাকা কেজিতে তুলাইপাঞ্জি মিলছে রায়গঞ্জের মোহনবাটি সহ বিভিন্ন চালের দোকানে। উত্পাদন কমে যাওয়া সত্ত্বেও চালের এতো যোগান থাকায় সেসব কতটা খাঁটি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।



