Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভাইরাল নিউমোনিয়া নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ভাইরাল নিউমোনিয়া নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মরশুম পরিবর্তনের সময় শিশুদের নিউমোনিয়া বাড়ছে। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে রোগীদের ভিড় বাড়ায় উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা। এই সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে মেডিক্যালের পেডিয়াট্রিক বিভাগে আরও ২০টি বেড বাড়ানো হল। আগে ৬০টি বেড ছিল এই বিভাগে। এখন বেড়ে হল ৮০টি বেড। বিভিন্ন ব্লক ও মহকুমা হাসপাতাল থেকে প্রতিদিনই নতুন শিশুদের মেডিক্যাল কলেজে এনে ভর্তি করতে হচ্ছে। দৈনিক গড়ে ১৫০ জনের বেশি শিশুকে এখানে চিকিৎসা করতে হচ্ছে। শীতের সময় অনেক শিশুকে হাসপাতালের মেঝেতে বিছানা করে রাখা হয়েছে। ঠান্ডা লেগে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তাই আরও ২০টি বেড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চলতি সপ্তাহ থেকে বেডগুলিতে শিশুদের রাখা শুরু হয়েছে। অধিকাংশ শিশুর নিউমোনিয়া ও ফুসফুস ইনফেকশন হওয়ায় অক্সিজেন দেওয়ার বন্দোবস্ত রাখা হয়েছে। চিকিৎসাধীন শিশুদের মধ্যে অধিকাংশই ভাইরাল নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। জেলাজুড়ে শিশুদের নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে। 
Advertisement
মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অমিতকুমার দাঁ বলেন, এই মরশুম পরিবর্তনের সময় শিশুদের ভাইরাল নিউমোনিয়া হচ্ছে। প্রতিদিন বহু রোগী ভর্তি হচ্ছে। আমরা সুস্থ করে তাদের বাড়ি ফিরিয়ে দিচ্ছি। এই পরিস্থিতিতে আরও ২০টি বেড বাড়ানো হল। এক একটি বেডে আমাদের দু’জনের বেশি শিশুকে রেখে চিকিৎসা করতে হচ্ছিল। এখন মোট ৮০টি বেড করা হল। 
প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে শিশুদের মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হচ্ছে। একই বেডে দু’-তিনজন করে শিশুদের রেখে চিকিৎসা করার ফলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ছে বলে মত চিকিৎসকদের। এক মাস থেকে ১২ বছর পর্যন্ত শিশুদের এখানে ভর্তি করা হচ্ছে। নিরুপায় মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। সেই জন্য আরও ২০টি বেড বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। মেডিক্যালের পরিসংখ্যান বলছে, পাঁচ বছরের নীচে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার হার সব থেকে বেশি। সাধারণ হাঁচি-কাশি থেকেই এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। রোগীর চাপে রীতিমতো দিশেহারা চিকিৎসকরা। জঙ্গিপুর, লালবাগ, ডোমকল ও কান্দি মহকুমা থেকে শিশুদের লাইন লেগে আছে মেডিক্যালে। 
শিশু বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, প্রতিদিনই রোগীর চাপ বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিশুদের এখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসা করা ছাড়া আমাদের তো কোনও উপায় নেই। এই মরশুমে আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় মারাত্মকভাবে ফুসফুস সংক্রমণ হচ্ছে শিশুদের। বেশ কিছু শিশুকে আমরা খুব ক্রিটিকাল অবস্থায় পাচ্ছি। নিউমোনিয়া হলে শিশুদের স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাসের হার অনেকটা বেড়ে যায়। নিউমোনিয়ার প্রধান উপসর্গ হল কাশি এবং রেসপিরেটরি রেট বেড়ে যাওয়া। এই অবস্থায় তাদের অক্সিজেন দিয়ে রাখতে হচ্ছে। পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। তবে ২০টি বেড বাড়ার ফলে চাপ কিছুটা কমবে। 
রোগীর এক পরিজন আতাবুদ্দিন শেখ বলেন, এখানে শিশুদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। বেড বেড়েছে ঠিক আছে। কিন্তু, আরও বেড দরকার। ৮০টি বেডে ১৪০-১৫০ জন শিশুর চিকিৎসা চলছে। এত চাপ, চিকিৎসকেরাও কী করবে। এই পরিস্থিতিতে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন।
সম্পর্কিত সংবাদ