Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভাইফোঁটার বাজারে জেলাজুড়ে মাছ ও মিষ্টির আকাশছোঁয়া দাম

ভাইফোঁটার বাজারে জেলাজুড়ে মাছ ও মিষ্টির আকাশছোঁয়া দাম
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: মাছ ও মিষ্টির আগুন দাম ভাইফোঁটার বাজারে। তবু ভাইফোঁটার কেনাকাটায় কার্পণ্য করলেন না দিদিরা। কেজি প্রতি দু’হাজার টাকা দামের ইলিশও তাঁরা কিনে নিয়ে গেলেন। মিষ্টির দোকান থেকে কিনলেন ‘কম্বো প্যাক’ অর্থাৎ রকমারি মিষ্টিতে ভরা এক-একটি বাক্স। শনিবার সকাল থেকেই ভাইফোঁটার কেনাকাটায় সিউড়ি, বোলপুর সহ জেলার বিভিন্ন শহরের বাজার জমে উঠেছিল।
Advertisement
এদিন জেলার বিভিন্ন শহরে মাছ-মাংসের বাজারদর প্রায় কাছাকাছিই ছিল। মাছের জোগান ভালো থাকলেও চাহিদা বেশি থাকায় অন্যদিনের তুলনায় দাম অনেকটাই বেশি ছিল। বিক্রিও হয়ে যায় তাড়াতাড়ি। সিউড়ির টিনবাজারে তো সকাল ১০টার মধ্যেই মাছবাজার প্রায় উঠে যাওয়ার জোগাড় হয়েছিল। কারণ সকাল থেকেই বহু মানুষ লাইন দিয়ে মাছ কেনেন। মাছ বিক্রেতারা জানালেন, এদিন ইলিশ, পমফ্রেট, চিংড়ি মাছ হটকেকের মতো বিক্রি হয়েছে। পমফ্রেট কেজি প্রতি ৬০০টাকা, ভেটকি কেজি প্রতি ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিভিন্ন মাপের ইলিশের দাম আলাদারকম ছিল। এক কেজির কম ওজনের ইলিশের দাম কেজি প্রতি ১১০০-১২০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। একটু বড় মাপের ইলিশের দাম ২০০০ টাকা অবধি চলে গিয়েছিল। সকাল ১০টাতেই বাজারের প্রায় সমস্ত ইলিশ শেষ হয়ে যায়। বাংলাদেশের ইলিশের বেশি চাহিদা ছিল।
এদিন চিংড়ির দাম ৫০০-৭০০টাকার মধ্যেই ঘোরাফেরা করে। দেশি কাতলা ৩৫০, রুই ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। টিনবাজারের মাছ ব্যবসায়ী সূর্যদেব ধীবর বলেন, আজ তো মাছ বাজারে পড়তেই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। বহুদিন পর মাছের বাজার এত চাঙ্গা হয়েছে। এদিন কারও কারও বাড়িতে জামাইফোঁটাও থাকে। সেই কারণেও অনেকে পছন্দের মাছ কিনে নিয়ে গিয়েছেন।
সব্জি বাজারে অবশ্য দামের খুব একটা হেরফের হয়নি। পটল কেজি প্রতি ৪০, ঝিঙে ৪৫, ঢ্যাঁড়শ ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে ফুলকপির চাহিদা সবচেয়ে বেশি ছিল। ৫০-৬০ টাকা পিস দরে ফুলকপি বিক্রি হয়েছে।
বিভিন্ন শহরে মিষ্টির দোকানেও প্রত্যাশিতভাবেই এদিন ভিড় দেখা যায়। বেশ কিছু দোকানে ভাইফোঁটা স্পেশাল ‘কম্বো প্যাক’ বিক্রি হচ্ছিল। এতে একই প্যাকেটে সন্দেশ, কালাকান্দ, রসগোল্লা, কালোজাম প্রভৃতি নানারকমের মিষ্টি থাকে। শীতের হালকা আমেজে ভাইদের পাতে নলেন গুড়ের রসগোল্লাও তুলে দেবে অনেকেই। সিউড়ির প্রশাসন ভবন লাগোয়া একটি মিষ্টির দোকানে এদিন নলেন গুড়ের রসগোল্লার ব্যাপক বিক্রি হয়। অনেকেই এদিন সুগার ফ্রি সন্দেশের খোঁজ করেন। সেইসঙ্গে দই, ছানার পায়েসের চাহিদাও বেশ ছিল। ভাইদের জন্য বোনেরা পছন্দের মিষ্টি কিনে নেন।
সিউড়ির বাসিন্দা মধুছন্দা সেন বলেন, নিজেদের হাতে সমস্ত আয়োজন করি। ভাই, দাদাদের পছন্দের খাবার খুঁজে খুঁজে কিনে তবেই বাড়ি ফিরেছি। আর এক বাসিন্দা প্রীতি দে বলেন, এবার বাজারে মাছ ও মিষ্টির দাম অনেকটাই বেড়েছে। তবুও ভাইফোঁটার জন্য কেনাকাটায় কোনও কার্পণ্য করা চলবে না। তাই সেভাবেই বাজার করতে হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ