অভিষেক পাল, বহরমপুর: ভাগীরথী নদীর জলে ঢেলে দেওয়া হচ্ছে বিষ। মুহূর্তের মধ্যেই কাহিল হয়ে পড়ছে মাছ। তারপরে ছোট ছোট জাল দিয়ে নদী থেকে ধরা হচ্ছে চিংড়ি ও ছোট মাছ। ছোট মাছ সহজে ধরার জন্য কয়েকজন মৎস্যজীবী ক্রমাগত এই বিষ মিশিয়ে দেওয়ায় নদীতে দূষণ বাড়ছে। যে কারণে জলজ প্রাণীকুলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বহরমপুরে কৃষ্ণমাটি এলাকায় ভাগীরথী নদীতে এই ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। পরিবেশবিদদের দাবি, প্রশাসনের নজরদারি দরকার। এভাবে নদীতে বিষ ঢেলে মাছ ধরা সম্পূর্ণ বেআইনি। এখনও বহু মৎস্যজীবী, এভাবে মাছ ধরছে বলে আমাদের অবাক লাগছে।
Advertisement
দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিলন দাস বলেন, কিছু অসাধু মৎস্যজীবী দ্রুত মাছ ধরার জন্য নদীতে বিষ ঢেলে দিচ্ছে। মুর্শিদাবাদের ভাগীরথী নদীতে অনেক মৎস্যজীবী এভাবে মাছ ধরে। এটার ফলে জলজ প্রাণীকুলের বিপদ হচ্ছে। ছোট মাছের ক্ষতি তো হচ্ছে, সেই সঙ্গে বড় মাছ ও অন্যান্য প্রাণীরও মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা এই জলজ প্রাণী রক্ষার দাবি নিয়ে একাধিক কর্মসূচি করছি। বিষ দিয়ে যেসব মৎস্যজীবী মাছ ধরছে, তাদের চিহ্নিত করে আমরা মাছ ধরার অন্য উপায় বলে দেব। শুধু যে বিষ তেল দিয়ে মাছ ধরছে তা নয়, অনেকে জলের মধ্যে পটকা ফাটিয়ে ছোট নেট দিয়ে জল থেকে মাছ তুলে নিচ্ছে। এরফলে নদীতে থাকা অন্যান্য প্রাণীরও সমস্যা হয়।
ভাগীরথীর এক মৎস্যজীবী বলেন, আমরা দিনে ছ’-সাত ঘণ্টা নদীতে কাটাই। ঘুরে ঘুরে জাল ফেলে মাছ ধরি। কিন্তু, অনেকেই এই অসাধু উপায়ে তাড়াতাড়ি মাছ ধরে নিচ্ছে। ফলে আমরা কম মাছ পাচ্ছি। শুধু তাই নয়, অনেক মরা মাছ জালে উঠছে।
পরিবেশপ্রেমী শুভঙ্কর রায় বলেন, জলজ প্রাণীদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হচ্ছে। কয়েকজন মৎস্যজীবী অতিরিক্ত মুনাফার লোভে কম সময়ে বেশি মাছ ধরতে চাইছে। তারা এরকম নানা ছলচাতুরি করে মাছ ধরছে। এদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনব। বিষ তেল দিয়ে মাছ ধরার ফলে, সেই মাছ খাওয়ায় শারীরিক সমস্যার আশঙ্কাও করছেন চিকিৎসকরা। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালের এক চিকিৎসক বলেন, জলে বিষ দেওয়ার ফলে যে মাছ মারা যাচ্ছে, সেই মাছ বাজার থেকে কিনে এনে খেলে মানুষেরও ক্ষতি হয়। হজমের সমস্যার পাশাপাশি লিভার ও কিডনিতে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এধরনের মাছ খাওয়ার ফলে অনেকের বমি, গা গোলানো ও পেট খারাপের মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।
বহরমপুরের কোর্ট মার্কেটের এক মাছ বিক্রেতা রতন হালদার বলেন, আমরা জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনে নিয়ে চলে আসি। কিন্তু, এভাবে তারা যদিও আমাদের মাছ ধরে দেয়, তাহলে তো আতঙ্কের! মাছ খাওয়া পর কোনও সমস্যা হলে তো ক্রেতারা আমাদের এসে ধরবে। ক্রেতা হাফিজুল শেখ বলেন, চিকিৎসকরা সব সময় ছোট মাছ খাওয়ার জন্য বলেন। এতে নানা পুষ্টিগুণ রয়েছে। কিন্তু, মাছ ধরার পদ্ধতি যদি এমন হয়, তাহলে পরোক্ষভাবে আমাদের শরীরে বিষ ঢুকছে। ছোট মাছ খাওয়াটাই তো আতঙ্কের হয়ে দাঁড়াল।
তিনি আরও বলেন, আমরা এই জলজ প্রাণী রক্ষার দাবি নিয়ে একাধিক কর্মসূচি করছি। বিষ দিয়ে যেসব মৎস্যজীবী মাছ ধরছে, তাদের চিহ্নিত করে আমরা মাছ ধরার অন্য উপায় বলে দেব। শুধু যে বিষ তেল দিয়ে মাছ ধরছে তা নয়, অনেকে জলের মধ্যে পটকা ফাটিয়ে ছোট নেট দিয়ে জল থেকে মাছ তুলে নিচ্ছে। এরফলে নদীতে থাকা অন্যান্য প্রাণীরও সমস্যা হয়।
ভাগীরথীর এক মৎস্যজীবী বলেন, আমরা দিনে ছ’-সাত ঘণ্টা নদীতে কাটাই। ঘুরে ঘুরে জাল ফেলে মাছ ধরি। কিন্তু, অনেকেই এই অসাধু উপায়ে তাড়াতাড়ি মাছ ধরে নিচ্ছে। ফলে আমরা কম মাছ পাচ্ছি। শুধু তাই নয়, অনেক মরা মাছ জালে উঠছে।
পরিবেশপ্রেমী শুভঙ্কর রায় বলেন, জলজ প্রাণীদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হচ্ছে। কয়েকজন মৎস্যজীবী অতিরিক্ত মুনাফার লোভে কম সময়ে বেশি মাছ ধরতে চাইছে। তারা এরকম নানা ছলচাতুরি করে মাছ ধরছে। এদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনব। বিষ তেল দিয়ে মাছ ধরার ফলে, সেই মাছ খাওয়ায় শারীরিক সমস্যার আশঙ্কাও করছেন চিকিৎসকরা। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালের এক চিকিৎসক বলেন, জলে বিষ দেওয়ার ফলে যে মাছ মারা যাচ্ছে, সেই মাছ বাজার থেকে কিনে এনে খেলে মানুষেরও ক্ষতি হয়। হজমের সমস্যার পাশাপাশি লিভার ও কিডনিতে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এধরনের মাছ খাওয়ার ফলে অনেকের বমি, গা গোলানো ও পেট খারাপের মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।
বহরমপুরের কোর্ট মার্কেটের এক মাছ বিক্রেতা রতন হালদার বলেন, আমরা জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনে নিয়ে চলে আসি। কিন্তু, এভাবে তারা যদিও আমাদের মাছ ধরে দেয়, তাহলে তো আতঙ্কের! মাছ খাওয়া পর কোনও সমস্যা হলে তো ক্রেতারা আমাদের এসে ধরবে। ক্রেতা হাফিজুল শেখ বলেন, চিকিৎসকরা সব সময় ছোট মাছ খাওয়ার জন্য বলেন। এতে নানা পুষ্টিগুণ রয়েছে। কিন্তু, মাছ ধরার পদ্ধতি যদি এমন হয়, তাহলে পরোক্ষভাবে আমাদের শরীরে বিষ ঢুকছে। ছোট মাছ খাওয়াটাই তো আতঙ্কের হয়ে দাঁড়াল।



