Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভূগর্ভের জল সরাসরি ড্রামে ভর্তি করে বিক্রি, আর্সেনিক নিয়ে উদ্বেগ প্রশাসনের

ভূগর্ভের জল সরাসরি ড্রামে ভর্তি করে বিক্রি, আর্সেনিক নিয়ে উদ্বেগ প্রশাসনের
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: ড্রাম ভর্তি জলের দাম ১০ টাকা। আর সেই জলের ড্রাম বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে গেলে দাম হয় ২০ টাকা। ফিল্টার করা ‘বিশুদ্ধ’ জল ভেবেই তা সকলে পান করেন। স্বাদটাও ট্যাপ কলের জল থেকে অনেকটাই আলাদা। কিছুটা মিনেরাল ওয়াটারের মতো। তাই, ধরেই নেওয়া হয় কেনা জল মানেই সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত। ক্রেতাদের এই দুর্বলতাকেই কাজে লাগাচ্ছে জলের অবৈধ ব্যবসায়ীরা। বিশুদ্ধ জলের নামে ফিল্টারহীন জলকেই ড্রামে ভরে বিক্রি করছেন তারা।  অনুমতি ছাড়াই ভূগর্ভ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল তুলে এভাবেই বিক্রি করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসতেই প্রতিটি ব্লককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে এই অবৈধ জলের কারবার কোথাও হলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নিতে। ইতিমধ্যেই সেই অভিযান শুরু হয়েছে। বেশ কিছু ব্লকের একাধিক জায়গায় এই কারবার বন্ধও করা হয়েছে। 
Advertisement
জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ বলেন, ‘প্রশাসনের অবৈধ জলের ব্যবসা বন্ধ করতে অভিযান চালানো হচ্ছে। অনুমতি ছাড়াই ভূগর্ভ থেকে জল তোলা হচ্ছিল বিভিন্ন জায়গায়। জেলাজুড়ে সেই সমস্ত ওয়াটার প্লান্ট বন্ধ করা হচ্ছে।’
জেলা জুড়ে বাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অবৈধ ওয়াটার প্লান্ট। প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় এই অবৈধ জলের ব্যবসা রীতিমতো ক্ষুদ্র শিল্পের আকার নিয়েছে। পঞ্চায়েত থেকে সামান্য ট্রেড লাইসেন্সের করিয়ে নিয়েই ব্যবসা শুরু করেছেন অনেকে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী জলের ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রথমে গ্রাউণ্ড ওয়াটারের সুইড ডিপার্টমেন্টে আবেদন করতে হয়‌। তারপর সেখান থেকে বিআইএল দপ্তরে আবেদন করতে হয়। সেখান অনুমোদন পেলে তারপর ফুড সেফটি ডিপার্টমেন্টে আবেদন করতে হয় লাইসেন্সের জন্য। তবেই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জল বিক্রি করতে পারে‌‌। কিন্তু তার কোনটাই পালন করা হচ্ছে না বলে প্রশাসন জানিয়েছে। এক্ষেত্রে উদ্বিগ্ন জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের কথায়, ‘নদীয়া জেলার ভূগর্ভস্থ জল আর্সেনিক প্রবণ। তাই সরাসরি সেই জল ফিল্টার না করে খাওয়া বিপজ্জনক। পাশাপাশি নদীয়া জেলার ভূগর্ভস্থ জলও তলানিতে এসে ঠেকেছে। চাষের কাজের জন্যও ভূগর্ভস্থ জল সরাসরি তোলার নিয়ম নেই।’
যদিও জল বিক্রেতাদের একটা বড় অংশের তরফ বলা হচ্ছে, ড্রামের জল বিশেষ ভাবে ফিল্টার করে তবেই বিক্রি করা হচ্ছে। সম্প্রতি বেশ কয়েক জায়গায় প্রশাসনের তরফ থেকে অভিযান চালানো হয়েছিল, কিন্তু সেই সমস্ত জায়গায় জল ফিল্টার করার মেশিনের হদিশ পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের রুইপুকুর পঞ্চায়েতের তিন জায়গায় জলের এই অবৈধ প্লান্ট বন্ধ করে দেওয়া হয় ব্লক প্রশাসনের তরফে।  গত ১১ ডিসেম্বর শান্তিপুর ব্লকের সাত জায়গায় জলের প্লান্ট বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) ইজাজ আহমেদ বলেন, ‘আমরা অবৈধ জলের ব্যবসা নিয়ে বৈঠক করেছি। ব্লকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে এই ব্যবসা কোথায় হচ্ছে, তার খোঁজ রাখতে। খোঁজ পেলেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ 
সম্পর্কিত সংবাদ