সংবাদদাতা, কাঁথি: ভগবানপুর-২ ব্লকের পাঁউশি অন্ত্যোদয় অনাথ আশ্রম এবং আশ্রম পরিচালিত ‘স্নেহচ্ছায়া’ হোমের মোট ১০জন এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছে। আশ্রম থেকে আটজন এবং স্নেহচ্ছায়া হোম থেকে দু’জন পরীক্ষায় বসেছে। সকলেই পাঁউশি বৈকুন্ঠ স্মৃতি মিলনী বিদ্যামন্দিরে পড়ুয়া। তাদের সিট পড়েছে পাহাড়পুর হাইস্কুলে। আর পাঁচটা ছেলেমেয়েদের মতো স্বাভাবিক জীবন শুরু হয়নি সূচনা প্রধান, শিউলি আদক, সুস্মিতা বারিক, অঙ্কিতা বাগ, লক্ষ্ণী শবর, পল্লব মণ্ডল, রাজীব খাটুয়া, সানি গিরিদের। এদের কারও বাবা আছে, মা নেই। কারও মা আছে, বাবা নেই। কারও বাবা-মা কেউই নেই। জীবনের শুরুর দিনগুলিতে প্রতিটি পদে তাদের অনেক ধাক্কা খেতে হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে এবং ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করে একটা সময় এই আশ্রমে ঠাঁই হয়েছিল। তারপর আশ্রমিক পরিবেশে বড় হয়ে উঠেছে তারা। ধাপে ধাপে মাধ্যমিকের পর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার জন্য একটু একটু করে নিজেদের তৈরি করেছে আবাসিকরা। আশ্রমের সম্পাদক তথা কর্ণধার বলরাম করণ বলেন, ইচ্ছা ও চেষ্টা থাকলে প্রতিকূলতাকে দূরে সরিয়ে রেখে জীবনে যে এগিয়ে যাওয়া যায়, তার উদাহরণ আবাসিক ছেলেমেয়েরা। আমরা পরীক্ষার্থীদের বিশেষভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আগামীদিনে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আশ্রম কর্তৃপক্ষ তাদের পাশে থাকবে। আমরা আশাবাদী, এরা ভবিষ্যতে নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হবে।



