নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ড দিয়ে রাজ্যের ২২হাজার ৫০০ যুবক-যুবতীকে উদ্যোগপতি বানিয়েছে সরকার। ৪৪৭কোটি টাকার লোন পেয়েছেন তাঁরা। সেই টাকায় তাঁরা বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করছেন। তাঁদের সংস্থায় যুক্ত হয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আরও কয়েক হাজার যুবক যুবতী আয়ের দিশা খুঁজে পেয়েছেন বলে আধিকারিকদের দাবি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান। এই জেলার আড়াই হাজার যুবক-যুবতী ক্রেডিট কার্ড থেকে ৫৩কোটি টাকা লোন নিয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, ক্যাম্প করে জেলার ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হয়েছে। অনেকেই নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই কার্ড থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন পাওয়া যায়। বেকারত্ব কমানোর জন্যই সরকার এই প্রকল্প চালু করেছে। এই কার্ডের সুবিধা পাওয়ার জন্য উপভোক্তাদের ১০ বছর এরাজ্যের বাসিন্দা হতে হবে। আবেদনকারীর বয়স ১৮-৪৫ বছরের মধ্যে হওয়া বাধ্যতামূলক। কোনও সরকারি কর্মী এই প্রকল্পের সুবিধা পান না। নির্দিষ্ট কিছু নথি দিয়ে অনলাইনে আবেদন করা যায়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দপ্তরের জিএম চন্দন পাল বলেন, জেলায় কয়েক বছরে অনেক ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প কারখানা হয়েছে। অনেকে হস্তশিল্পের মাধ্যমে স্বনির্ভর হচ্ছেন। উদ্যোগপতিদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় তারজন্য এক জানালা পদ্ধতিতে সুবিধা দেওয়া হয়। একই জায়গায় থেকে তাঁরা সবরকম সুবিধা পান। ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ড থেকে পাওয়া লোনের টাকা ব্যবসাতেই বিনিয়োগ করতে হবে। অন্য কাজে তা ব্যয় করা হলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রাণিসম্পদে বিনিয়োগ করেও অনেকে স্বনির্ভর হচ্ছেন। আউশগ্রাম, মঙ্গলকোট, ওড়গ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকায় পোলট্রি ফার্ম তৈরি হয়েছে। এই কাজ করে কয়েক হাজার যুবক স্বনির্ভর হয়েছেন। অনেকে এই টাকায় অন্য ছোট ব্যবসা করছেন। দুয়ারে সরকার ক্যাম্পেও আবেদন করে অনেকেই এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও লোন পাওয়া গিয়েছে।
Advertisement
এক আধিকারিক বলেন, একসময় ব্যাঙ্কগুলি লোন দিতে গড়িমসি করত। কিন্তু দফায় দফায় বৈঠক করার পর সমস্যা মিটেছে। নথি ঠিক থাকলেই লোন দেওয়া যায়। তবে তা সময়ে মেটানোও বাধ্যতামূলক। ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার জন্য প্রতি অর্থবর্ষে টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়। যেসব জেলা এই প্রকল্পে যেসব জেলা পিছিয়ে রয়েছে তাদেরও কাজে গতি বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে।



