সংবাদদাতা, কান্দি: অতি সাধারণের মতো আচরণ। রাস্তাতেই টিফিন সারলেন। তারপর আবার মানুষের সঙ্গে মিশে গেলেন। সোমবার এভাবেই টানা চার ঘণ্টা ধরে ন’কিলোমিটার হেঁটে প্রচার করলেন ভরতপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে সুমন।
সংবাদদাতা, কান্দি: অতি সাধারণের মতো আচরণ। রাস্তাতেই টিফিন সারলেন। তারপর আবার মানুষের সঙ্গে মিশে গেলেন। সোমবার এভাবেই টানা চার ঘণ্টা ধরে ন’কিলোমিটার হেঁটে প্রচার করলেন ভরতপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে সুমন।
সালার স্কুল রোডের সরকারপাড়ায় বাড়ি মুস্তাফিজুর সাহেবের। এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জেলা পরিষদের মৎস কর্মধাক্ষ্য ও দলের ভরতপুর-২ ব্লক সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
প্রতিদিনের মতো এদিন সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ তিনি ঘুম থেকে উঠে শরীরচর্চা করলেন। এরপর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দু’চার কথা বলেন। ৭টা নাগাদ বাড়িতেই থাকা দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়লেন। তবে মিনিট দশেক পর বাড়ি থেকে ডাক এল। ভিতরে গিয়ে লিকার চায়ের সঙ্গে বাটার টোস্ট ও একপিস ডিম সিদ্ধ খেয়ে ফের অফিসে চলে এলেন।
এদিকে প্রচারের জন্য সকাল ৭টা নাগাদ দলীয় কার্যালয়ে শতাধিক কর্মী হাজির হয়েছেন। তাঁদের এক এক করে ডেকে দ্রুত কথাবার্তা সেরে ফেললেন। সকাল ৯টা নাগাদ প্রচারের জন্য গাড়িতে উঠে বসলেন। গাড়ি ছুটল ভরতপুরের দিকে। তবে মাঝপথে কয়েক জায়গায় গাড়ি থামিয়ে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে দেখা করলেন। তাতে ২০ মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লাগল ৪৫ মিনিট।
এরপর গাড়ি এসে থামল ভরতপুর ডাঙাপাড়ায়। ওখানে কয়েকশো কর্মী-সমর্থক তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। প্রার্থীকে দেখেই কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকে। তারপর প্রচার শুরু করলেন। প্রচার মিছিল এগোল গ্রামের মসজিদপাড়ার দিকে। সেইসময় পেট্রল পাম্পের কাছে অপেক্ষা করছিলেন ওখানকার বাসিন্দা তানু বিবি। প্রার্থীকে বললেন, তোমার জন্য ছেলে কেরালা থেকে বাড়ি ফিরেছে। পায়ে ব্যথা না থাকলে আমিও তোমার মিছিলে হাঁটতাম।
এরপর প্রার্থীর মিছিল নতুন পাড়ার দিকে এগিয়ে যায়। এইসময় রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের একাংশ প্রার্থীর গলায় মালা পরিয়ে মিষ্টির থালা সামনে ধরেন। সেখান থেকে দু’একটি করে মিষ্টি মুখে দিতে থাকেন প্রার্থী। মিছিল বাগড়েপাড়ায় পৌঁছালে মুস্তাফিজুর সাহেব বলেন, আজ আর টিফিনের দরকার হবে না। মিষ্টি খেয়েই পেট ভর্তি হয়ে গিয়েছে। মিছিল এগিয়ে যায় মিরাপাড়ার দিকে। সেখানে প্রবীণ তৃণমূল নেতা আব্দুল বারিকে দেখতে পেয়ে নিজের গলাতে থাকা মালা তাঁর গলায় পরিয়ে দিলেন। কথাও বললেন মিনিটখানেক।
এরপর মিছিল এগোল তহবাজার হয়ে স্কুল রোডে। পরে সুরপাড়া হয়ে সুন্দিপুর গ্রামে পৌঁছায়। তফসিলি অধ্যুষিত ওই গ্রামে তৃণমূল প্রার্থীকে দেখে বাসিন্দারা বাড়ি থেকে রাস্তায় বেরিয়ে এসে নমস্কার জানাতে থাকেন। কেউ কেউ গ্রামে আলোর ব্যবস্থা ও পানীয় জলের আরও দু’টি প্রকল্পের জন্য প্রার্থীর কাছে আবেদন জানান।
এরপর কুয়ে নদীর বাঁধের উপর দিয়ে কিছুটা হেঁটে পৌঁছালেন ঝিকড়া গ্রামে। সেখানে প্রচারের পর ব্লক মোড় হয়ে দাসপাড়া, হাজরা পাড়া ও আসাননগর পাড়ায় প্রচার করেন। তখন ঘড়িতে দুপুর ২টো বাজতে চলেছে। কর্মীদের নিয়ে প্রার্থী ঢুকে পড়লেন একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে। সেখানে সাদা ভাতের সঙ্গে, মুগের ডাল, পাঁচ তরকারি ও মুরগির মাংস দিয়ে কর্মীদের সঙ্গে দুপুরের আহার সারলেন। এরপর প্রার্থীর গাড়ি ছুটল ফের সালারের দিকে। কারণ সালারের দলীয় কার্যালয়ে প্রচুর কর্মী অপেক্ষা করছেন বলে জানতে পারেন।
মুস্তাফিজুর সাহেব বললেন, কর্মীরাই আমার শক্তি। ওঁদের মনোবলে আমি টানা চার ঘণ্টা হেঁটেও ক্লান্ত হইনি। মানুষের সঙ্গে মিশতে পেরে খুব আনন্দ পেয়েছি।