Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভাঙড়: শওকতের বিরুদ্ধে সরব আরাবুল ও কাইজার, পাত্তা দিতে নারাজ বিধায়ক

একটা সময় যে দু’জনের সম্পর্ক ছিল আদায়-কাঁচকলায়, রাজনীতির পাকেচক্রে আজ তাঁরাই একজোট! শুধু একজোট হয়েই ক্ষান্ত থাকলেন না তাঁরা।

ভাঙড়: শওকতের বিরুদ্ধে সরব আরাবুল ও কাইজার, পাত্তা দিতে নারাজ বিধায়ক
  • ২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: একটা সময় যে দু’জনের সম্পর্ক ছিল আদায়-কাঁচকলায়, রাজনীতির পাকেচক্রে আজ তাঁরাই একজোট! শুধু একজোট হয়েই ক্ষান্ত থাকলেন না তাঁরা। জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামার কথাও ঘোষণা করলেন। তাও আবার দলেরই বিধায়কের বিরুদ্ধে। একজন হলেন ভাঙড়ের ‘তাজা নেতা’, প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলাম। অন্যজন তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদ। দু’জনে একযোগে সোচ্চার হয়েছেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক তথা ভাঙড়ে তৃণমূলের পর্যবেক্ষক শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে। শনিবার আরাবুলের বাড়িতে রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক করে শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে সরব হন তাঁরা। তাঁরা কেউ শওকতের নাম মুখে না নিলেও তাঁকেই যে ইঙ্গিত করা হয়েছে—নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল। তবে পাত্তা দিচ্ছেন না শওকত। উল্টে তিনি দু’জনকেই ‘গদ্দার’ বলে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন।

Advertisement

শওকতের নাম না করে কাইজার এদিন বলেন, ‘২০১১ সালে ক্যানিং পূর্বের যে ব্যক্তিকে ত্বহা সিদ্দিকির মাধ্যমে তৃণমূলে ঢোকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম, তিনি আজ আমাদের প্রাণে মারার চেষ্টা করছেন। ভাঙড়ের কত মানুষের লাশ নিলে উনি শান্ত হবেন, সেটা জানতে চাই। তৃণমূলের লোক মেরে, বিরোধীদের জেল খাটিয়ে ভাঙড় বিধানসভা উপহার দিয়ে দলের কাছে ভালো সাজবেন ভাবছেন? সেটা হতে দেব না।’ 
সুর চড়ান আরাবুলও। তিনি বলেন, ‘যিনি ভাঙড়ের দায়িত্বে আছেন বলে দাবি করছেন, তিনি নিজেই তো একের পর এক অন্যায় করছেন। ভাঙড়ের মাটি কামড়ে পড়ে আছেন কারণ এখানে মধুর হাঁড়ি আছে। ভাঙড়ে শান্তি ফিরুক।  তার জন্য ওই অবজারভার ভদ্রলোক এখান থেকে চলে যান, এটাই আমরা চাই।’
হঠাৎ করে কেন শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে এভাবে সরব হলেন তাঁরা? ভাঙড়জুড়ে এই নিয়েই চলছে ব্যাপক চর্চা। অনেকে বলছেন, আপাতত সাসপেন্ড হয়ে থাকলেও সম্প্রতি আরাবুলকে কখনও তৃণমূলের সদর কার্যালয়ে, কখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে দেখা গিয়েছে। তাহলে কি নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি ভাঙড়ে তৃণমূলের অন্দরে? এই প্রশ্নেই বাড়ছে জল্পনা। শেষ পর্যন্ত জল কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে ভাঙড়বাসী। 
যদিও কাইজার ও আরাবুলের আক্রমণকে গুরুত্ব দিতে নারাজ শওকত। তিনি বলেন, ‘ওরা বহিষ্কৃত। ওদের কথায় কিছু এসে যায় না। ভাঙড়ে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। আসলে ওঁরা আইএসএফকে জেতানোর জন্য মাঠে নেমেছেন। বিষয়টি শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছি।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ