নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বিধানসভা আসন ভিত্তিক উন্নয়নের পাঁচালির প্রচার করতে দলীয় কর্মী, নেতা ও মন্ত্রীদের নিয়ে ছোটো ছোটো দল গঠন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেরকমই ভাঙড়ে এই দলে জায়গা দেওয়া হয়েছিল শওকত মোল্লা ঘনিষ্ঠ ও বিরোধী পক্ষের নেতাদের। তার মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য নাম হল আরাবুল ইসলামের পুত্র তথা জেলা পরিষদের সদস্য হাকিমুল ইসলাম এবং তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদ। এই দুজনেই শওকতের প্রবল বিরোধী বলে পরিচিত। কিন্তু মঙ্গলবার এই দুজনকেই আচমকা উন্নয়নের পাঁচালির প্রচারের দল থেকে ছেঁটে ফেলল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। রবিবার হাকিমুল ইসলামকে ঘিরে বিক্ষোভ এবং শওকত-বিরোধী আর এক নেতা প্রদীপ মণ্ডলকে মারধরের ঘটনার পর থেকেই উত্তপ্ত ছিল ভাঙড়। ওই ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দলের এই সিদ্ধান্তে অবাক ওই হাকিমুল ও কাইজার। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, তাঁদের নাম বাদ গেলেও ওই তালিকায় থেকে গিয়েছে শওকত ঘনিষ্ঠদের হাতে আক্রান্ত প্রদীপ মণ্ডলের নাম। শওকত মোল্লার যেসব অনুগামী সেদিন বিক্ষোভ, হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে, তাদের কারও নাম ওই তালিকা থেকে কাটা যায়নি বলেই জানা গিয়েছে। নাম বাদ প্রসঙ্গে আরাবুল পুত্র বলেন, দলকে ভুল বুঝিয়ে এই কাজ করেছেন শওকত মোল্লা। এই ব্যাপারে দলকে যা বলার আমরাও বলব।
অন্যদিকে, কাইজারের বক্তব্য, দুবছর ধরে বসে আছি। দল কোনও দায়িত্ব দেয়নি। প্রয়োজনে আরও চারমাস বসে থাকব। তারপর দেখা যাক কী হয়। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ভাঙড়ের রাজনীতিতে ক্রমশ দ্বন্দ্ব বাড়ছিল শাসকের অন্দরেই। লেগেছিল শওকত ও আরাবুল ঘনিষ্ঠদের মধ্যে গোলমাল। দু-পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে আরাবুল ইসলাম ঘনিষ্ঠদের উপরই খাঁড়া নামিয়ে একটি বার্তা দিতে চেয়েছে দল। এদিকে, এক তৃণমূল কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠল আইএসএফ সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাঙড়-২ ব্লকের উত্তর কাশীপুর থানার অন্তর্গত ছেলেগোয়ালিয়া এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ। আহত কর্মীর নাম শরিফুল মোল্লা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় এলাকায় কয়েকজন আইএসএফ সমর্থক ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লার নামে গালিগালাজ করছিল। সেই কটূক্তির প্রতিবাদ করেন শরিফুল। অভিযোগ, তার জেরেই তাঁকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁকে উদ্ধার করে ভরতি করা হয় জিরেনগাছা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। তখন তিনি গুরুতর জখম। যদিও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইএসএফ। তাদের ভাঙড়ের নেতা রাইনুর হক বলেন, বিষয়-সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক গন্ডগোল হয়েছে দুই ভাইয়ের মধ্যে। তাতেই রাজনৈতিক রং চড়াচ্ছে তৃণমূল।