নিজস্ব প্রতিনিধি, ভগবানপুর: কেলেঘাই নদীর ধারে দেঁড়েদিঘি বাজার। শুক্রবার তপ্ত দুপুরে এই বাজারে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় খোলা থাকলেও ভেতরে কেউ নেই। ভেতরে উঁকি মারতেই দেখা গেল, টেবিলের উপর রাখা প্রয়াত অঞ্চল সভাপতি তথা প্রাক্তন প্রধান চাঁদহরি প্রধানের ছবি। ভেতরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো ছবি নেই। বাজারের আরেক দিকে প্রয়াত তৃণমূল নেতা নান্টু প্রধানের প্রাসাদোপম বিএড কলেজ। রাজকীয় তার গেট। তাতে জ্বল জ্বল করছে, প্রতিষ্ঠাতা— নান্টু প্রধান। সাল-২০১৬। দেঁড়েদিঘি বাজার ভগবানপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন মহম্মদপুর-১ পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে। এই গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান এবং অঞ্চল সভাপতি হিসেবে ৩৫ বছর কাটিয়েছেন নান্টু প্রধানের বাবা চাঁদহরিবাবু। নান্টুর স্ত্রী অপর্ণা প্রধানও পাঁচ বছর প্রধান ছিলেন। এই মুহূর্তে নান্টুর ভাই পিণ্টু শেখবাড় এলাকা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। ২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে জনরোষে নান্টু মারা যান। আজও ভোট এলে এই এলাকায় প্রাসঙ্গিক হন নান্টু প্রধান। তাঁর তৈরি করা মডেলেই এখানে নির্বাচন হয়। তাই তাঁর পরিবারকে সামনে রেখেই ভোট করে তৃণমূল। তাই দেঁড়েদিঘিতে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসের ভিতরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি না থাকলেও চাঁদহরিবাবুর ছবি রয়েছে।
২০২৩ সালে মহম্মদপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ১৩টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ন’টিতে, বিজেপি তিনটিতে জয়ী হয়। একটি আসনে সিপিএম প্রার্থী মারা যাওয়ায় ভোট হয়নি। নান্টুর ছোট ভাই পিণ্টু নিজের বুথ শেখবাড় থেকে জয়ী হয়েছেন। ২০০৮-’১৩ টার্মে ভগবানপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন পিণ্টু। তাঁর বাবা চাঁদহরিবাবু আজীবন তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি ছিলেন। এছাড়া, বিভিন্ন টার্মে পঞ্চায়েত প্রধান ছিলেন। পিন্টু বলেন, বাবা ৩৫ বছর ধরে কখনও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আবার কখনও অঞ্চল সভাপতি ছিলেন। বউদি একটা টার্মে প্রধান ছিলেন। এখন আমি পঞ্চায়েত সদস্য। এবার আমরা এই এলাকা থেকে লিড পাব বলেই আশা করছি। আমাদের দলের পক্ষে হাওয়া ভালো আছে।
দেঁড়েদিঘি বাজারে বটগাছ তলায় বসেছিলেন বিমান মণ্ডল ও জীবনকৃষ্ণ প্রধান। তাঁরা বলেন, আমরা নান্টু প্রধানের বিএড কলেজে চাকরি করতাম। ২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে নান্টু খুন হয়ে যাওয়ার পর আমাদের মতো প্রত্যেকের চাকরি চলে যায়। তারপর বউদি নিজের উদ্যোগে কলেজ চালু করেছেন। তবে, আমরা এখন কর্মহীন। এই এলাকায় এখনও ভোট এলে নান্টু প্রধান প্রাসঙ্গিক হন। একইসঙ্গে তাঁর পরিবার এই ভোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
২০২৪ সালে নভেম্বর মাস নাগাদ চাঁদহরিবাবু মারা গিয়েছেন। প্রায় সাড়ে তিন দশকে এই প্রথম তাঁর অনুপস্থিতিতে মহম্মদপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোট পরিচালনা করবে তৃণমূল। তবে, এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ এখনও প্রধান পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য পিন্টুর হাতে। বর্তমান বিধায়ক সোহমের ঘনিষ্ঠ ছিলেন পিণ্টু। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন উত্তরবাড় বুথের তৃণমূলের সভাপতি পেশায় বাপুজি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক শুভব্রত বর্মন বলেন, পিন্টু একজন দক্ষ সংগঠক। ২০২১ সালেও বিধানসভা ভোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এবারও পিন্টু দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে সংগঠনকে মজবুত করার কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
নান্টুর বাবা মারা যাওয়ার পর আপাতত পদ্মলোচন মিশ্র মহম্মদপুর-১ অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি। তিনি বলেন, এই এলাকায় আমাদের পার্টিতে প্রধান পরিবারের নিয়ন্ত্রণ ছিল। এবার আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করব। এলাকাটি চণ্ডীপুর বিধানসভার মধ্যে পড়ে। দলীয় প্রার্থী উত্তম বারিককে লিড দিতে পারব বলে একশো শতাংশ আশাবাদী।